ঢাকা, রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ০৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

চার দেয়ালে শৈশব

নাজমুল হুদা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৭ ১১:২৪:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-১৭ ১০:৩৬:৫৪ পিএম

জীবনে একটু  প্রশান্তির জন্য দরকার বায়ুর পরিবর্তন। সপ্তাহে ছুটি মাত্র একদিন। এই এক দিনেই খুঁজতে হয় ইট-পাথরের মধ্যে কোথাও একটু সবুজ অরণ্য।

একদিন এই ব্যস্ত শহরের পথ ধরে হাঁটতে বের হলাম। পথে দেখি ব্যস্ত মানুষ, ব্যস্ত গাড়ি, ব্যস্ত মা, ব্যস্ত তার ৪ বছরের ছোট্ট শিশু। শিশুটি তার মাকে বলছে, ‘মা তুমি প্রতিদিন আমাকে নিয়ে কেন আসো স্কুলে, তুমি একা যেতে পারো না। সবকিছু কেন আমার করতে হবে?’ সন্তানের এমন কথা মায়ের কাছে স্বাভাবিক হলেও ভাবাচ্ছে আমাকে। ভাবছি এই সন্তান বোঝেও না যে, সে কেন স্কুলে যায়। কিন্তু মা ঠিকই রুটিন মতো সব করাচ্ছে।

এমন দৃশ্য আর নানা প্রশ্নের মাঝে মনে পড়ে গেল আমারও একটা শৈশব ছিল। জীবনের সবচেয়ে স্মৃতিঘেরা একটা সময়, যে সময়ের কথা চিন্তা করে বেঁচে থাকা যায়। শৈশবে বাবার হাত ধরে রাস্তা পার হওয়া এবং বাবার সঙ্গে দুষ্টুমি-আহ্লাদ, হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ানো। সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাছে চড়ে বেড়ানো। আর মাঠে থেকে বড় ভাইয়ের কান টানুনিতে ঘরে ফেরা, এসব মনে পড়লেই হৃদয়ে ছুঁয়ে যায়।

তবে, আজকের ইট-পাথরের কারাগারে আমার শৈশব কাটেনি। তাই আমার বাবাও আমাকে ব্যাগের বোঝা চাপিয়ে দেয়নি। দিয়েছে অবাধ ছুটে চলার সুযোগ। বাবা সঙ্গে নিয়ে শিখিয়েছেন নদীর মাছ ধরা, দেখিয়েছেন কৃষকের ধান লাগানো। আমিও ঘরের উঠানে ধান লাগাতে গিয়ে কতো যে মায়ের বকনি শুনেছি।

এখনো সেই শৈশবের স্মৃতি মনে করলেই যেন আগের মতো শুনতে পাই রাখালের মধুমাখা বাঁশের বাঁশির সুর, মাঝির দরদি কণ্ঠের ভাটিয়ালি গান। আমি শৈশবের জীবনকে যতই পথের বাঁকে পেছনে ফেলে আসছি, ততই ফিরে যাই আমার শৈশবের শেকড়ে। আমার ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো আমাকে তাড়িত করে মৌলিক জীবনের পথে। আমি ভুলতে পারি না সেই মেঠো পথ, সতেজ বাতাস, পাখির গান, ফুলে ফুলে প্রজাপতির নাচ।

আমার গাঁয়ের দক্ষিণ পাশে ছোট পুকুরে লাফ দিয়ে সাঁতার কাটা, আঁকাবাঁকা খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে সেচে মাছ ধরার সেই দিনগুলো কী করে ভুলি! অবাধ্য জীবনের দুরন্ত স্মৃতি এখনো মনে হয় ছুটে যাই সেই গাঁয়ে, ডেকে নেই সব বন্ধুদের, আবার দল বেঁধে সেই শৈশবে পথে ছুটে যাই।  আর বারবার বলতে ইচ্ছে করে, আমাকে গ্রাম ফিরিয়ে দাও।

ব্যস্ত শহরে এই স্মৃতির ভাগিদার কেন এই শিশুটি হতে পারছে না? কেন ব্যাট-বল হাতে নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলাতে পারছে না? কেন ব্যাগের বোঝা টানতে হচ্ছে, যার মূল্যই সে জানে না। তাদেরও দরকার আছে শৈশব মনে রাখার স্মৃতি তৈরি করা। না-হয় কী নিয়ে তারা গল্প করে বেড়াবে?

বাবা-মা কেন বুঝতে পারছে না তাদের খেলার ছলে আদর্শলিপিটাই উপযুক্ত? স্কুলের বারান্দায় বসা অভিভাবকদের প্রতিযোগিতার খেসারত কেন অবুজ শিশুর উপর দিয়ে যাচ্ছে, কে বোঝাবে তাদের?

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ (৩য় বর্ষ), সরকারি তিতুমীর কলেজ।

 

ঢাকা/হাকিম মাহি

       
 

ট্যাগ :