ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ফোঁপলে জীবন

রায়হান হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২০ ৫:১৭:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২০ ৫:৩৫:৩৯ পিএম

নারিকেলের ফোঁপল মোটামুটি সবার কাছেই পরিচিত। হয়তো বা অঞ্চল ভেদে এটিকে একেক স্থানে একেকভাবে চেনে। যেমন- আমাদের অঞ্চলে এটিকে ফোঁপড়া বলে চেনেন সবাই। যাদের শৈশব, কৈশোর গ্রামে-গঞ্জে, তাদের অধিকাংশ নারিকেলের ফোঁপল খেয়েছেন।

প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে নারিকেল গাছের শুকনো নারিকেল পেড়ে খাওয়ার সময় বন্ধুদের মাঝে ভাগাভাগি। আবার পরিবারে যখন মা শীতের পিঠাপুলি তৈরি করত, তখনো নারিকেলের ফোঁপল নিয়ে ভাই-বোনদের সাথে আনন্দের ঝগড়া। এই ভাবনাগুলো মনে পড়লে অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে।

একবার ভাবুন তো, আপনার সেই শৈশব ও কৈশোর জীবনের নারিকেলের ফোঁপল যদি এই  ইট-পাথরের রাজধানীতে আপনার চোখের সামনে পড়ে, তখন আপনার অনুভূতিটা কী হবে!

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ধানমণ্ডি এক নম্বর রোডে নারিকেলের ফোঁপল ব্যবসায়ী মুরাদ পাটোয়ারীর সঙ্গে কথা হয়।

পাঁচ বছর আগেও মুরাদ পাটোয়ারী খুলনার বাগেরহাটে মাছের ব্যবসা করত। বিভিন্ন সময়ে বন্যা ও ঝড় বাতাসে মাছের ঘের নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি সেখানে প্রথমে জাহাজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে ফলের ব্যবসা করতেন। এক পর্যায়ে তার ব্যবসা খারাপ দেখা দিলে তার ভাইদের সাথে ঢাকা চলে আসেন।

পরিবারের দুই ছেলে দুই মেয়ে, মা-বাবা ও স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য তিনি তার দুই ভাইয়ের মতো ঢাকাতে নারিকেলের ফোঁপলের ব্যবসা শুরু করেন।

পাটোয়ারী বলেন, ‘ঢাকা শহরে নারিকেলের ফোঁপল নিয়ে মানুষের অনেক কৌতূহল। কেউ চিনে আবার কেউ চিনে না। তবে, সব বয়সের মানুষ এটা খেতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে ছাত্ররা বেশি নেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই নারিকেলের ফোঁপল বিক্রি করে থাকি। এক কথায় বলা চলে, এই ফোঁপলের সাথেই এখন আমার জীবন চলে।’


ঢাকা কলেজ/হাকিম মাহি