RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৮ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সিভির ডাক্তার নিয়াজ আহমেদ

গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৩, ২৩ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
সিভির ডাক্তার নিয়াজ আহমেদ

নিয়াজ আহমেদ একজন প্রফেশনাল সিভি রাইটার, ট্রেইনার ও ক্যারিয়ার এক্সপার্ট। পড়াশোনায় তিনি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি এমবিএ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

বিভিন্ন পত্রিকায় ক্যারিয়ার নিয়ে তার প্রায় ৩শ’র মতো লেখা প্রকাশ হয়েছে। ২৫টি দেশে তিনি ৬ হাজারের অধিক সিভি তৈরি করেছেন। এনার্জি সেক্টরে চাকরির অভিজ্ঞতা আছে প্রায় ৫ বছরের। ২০১৬ সালে তিনি নিজের চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন ট্রেনিং ফার্ম ‘কর্পোরেট আস্ক’ তাকে নিয়ে লিখেছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত।

নিয়াজ আহমেদ লেখালেখি করছেন বেশ কয়েক বছর যাবত। জাতীয় পত্রিকাগুলোতে ক্যারিয়ার বিষয়ক অসংখ্য লেখা রয়েছে তার। এছাড়া একাধিক কোম্পানিতে কাজ করছেন বিজনেস কনসালটেন্ট হিসেবে। অন্যকে ইম্প্রেস করতে হলে নিজেকে এক্সপ্রেস করতে হবে। আর এর জন্য চাই, একটি ভালো সিভি। আপনি, আমি নিজে জীবনেও সেসব জায়গায় যেতে পারব না, যেখানে আমাদের সিভি যাবে। আমরা এই জায়গাটায় খুবই কম গুরুত্ব দেই। এতে করে অনেক সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। একজন মানুষের ক্যারিয়ারের অর্জনগুলোর সেরা উপস্থাপনা নিশ্চিত করা কাজটাই বেছে নেন নিয়াজ আহমেদ নিজের ক্যারিয়ারে।

সিভি রাইটিং নিয়ে কাজ করাটা বলা যায় খানিকটা জেদ থেকেই। আমরা নতুন কিছুতে অভ্যস্ত হতে চাই না, তবে নিয়াজ আহমেদ নতুন কিছুতে নিজেকে অভস্ত্য করেছেন পাকাপোক্তভাবেই। ২০১৬ সালে ঠিক করলেন সিভি রাইটিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন। সিভি রাইটিং অনেক পুরনো পেশা, অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে গেলেই দেখবেন ৩০০-৪০০ ডলারে এই কাজ হচ্ছে। তবে আমাদের দেশে এটা তিনি শুরু করেছেন ৫ বছর আগে। এখন এটার পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে এবং সর্বমহলে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, আপনি কাজ যতোই করেন, ভালো করে উপস্থাপনা করতে না পারলে, আরও ভালো সুযোগ পাবেন না।

সিভি রাইটিং, কভার লেটার, এসওপি রাইটিং, বিডিজবস প্রোফাইল, লিংকডইন প্রোফাইল, পার্সোনাল প্রোফাইল লেখার বিষয়গুলো নিয়ে ২০১৬ সালে ট্রেনিং ফার্ম ‘কর্পোরেট আস্ক’ প্রতিষ্ঠা করেন নিয়াজ আহমেদ। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম এতকিছু থাকতে সিভি রাইটিং নিয়ে কাজ করার চিন্তা আসলে কেন? তিনি বললেন, ‘আমি ২০১১ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এনার্জি সেক্টরে আমার চাকরির অভিজ্ঞতা রয়েছে। পড়াশোনা করেছি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। লন্ডনে পড়াশুনা করতে যাব, সেরকম সব কিছু ফাইনালও ছিল। লন্ডন যাব বলে জব ছেড়ে দিলাম। পরে আর লন্ডন গেলাম না, এদিকে জবও ছেড়ে দিয়েছি। তখন মনে হলো, প্রশিক্ষণ করাব। নিজের একটা প্রোফাইল বানিয়ে বিভিন্ন ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানে জমা দিলাম। সেখান থেকে চরম অপমানিত হলাম, তখন মনে হলো কেউ সুযোগ না দিলে, নিজের সুযোগ নিজে তৈরি করব। ফেসবুকে পেজ খুলে কর্পোরেট আস্ক শুরু করলাম।’

‘আমি জব করাকালীন প্রায় ২০০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলাম। সব কন্টেন্ট, মডিউল আমার কাছেই ছিলে। তো স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, আমি ট্রেনিং করাব কিসের উপর? আমার লুকের কারণে আমি কোনো ট্রেনিং অফার করলে সেখানে প্রফেশনাল কেউ আসতো না। তখন মনে হলো, সিভি রাইটিংয়ের ট্রেনিং করাই। যেই চিন্তা সেই কাজ। প্রথম দুইটা ট্রেনিং বেশ ভালো হলো, তৃতীয় ট্রেনিংয়ের দিন ৯ জন অংশ গ্রহণকারীর মাঝে মাত্র ৩ জন আসলো, বাকি ৬ জন আসলো না। আমার তখন অফিস ছিল না। হোটেলে রুম ভাড়া করে ট্রেনিং করাতাম। সেদিন লস হওয়ার পর মনে হলো, এভাবে আর না, এবার থেকে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেব, তার সিভি নেব, তার সাথে বসে, তার সম্পর্কে ডিটেইল জেনে নেব, এরপর তাকে সিভি বানিয়ে দেবো। এভাবে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে পেশাদার হিসেবে সিভি রাইটিং নিয়ে কাজ করা শুরু করি’, বলেন নিয়াজ আহমেদ।

তিনি আরও বলেন, ‘সিভি রাইটিং নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত কাজ করতে গিয়ে একটা ঘাটতি চোখে পড়েছে। বারবার ঘাটতি আসলে আমরা অন্যের সিভি কপি পেস্ট করে কাজ চালিয়ে নিতে চাই। একদম শেষ সময়ে এসে, কাট কপি পেস্ট করে সিভি বানাই। এর কারণে কল পাই না, তখন কপালের দোষ দেই। কপাল যদি জানতো, কিছুই না করে, তার এত দোষ, তাহলে কপাল আসলেই চরম প্রতিশোধ নিতো। ধরেন, এখন আপনি ফ্রেসার, একটা জব পেলে কিন্তু ১৫-২০ হাজার টাকা বেতন পাবেন, সেটা পর্যন্ত আপনাকে নিয়ে যাবে এই সিভি। কাজেই সেটাকে অবহেলা করা, আর নিজের ক্যারিয়ারকে অবহেলা করা সেম।’

নিয়াজ আহমেদ নিজের লেখালেখি দিয়েও অনেকের কাছে বেশ পরিচিত। লেখালেখির গল্প শুনতে চাইলে তিনি বললে, ‘২০১৫ সালের শেষ সময়ে একবার দিন দশেকের জন্য ফেসবুক বন্ধ থাকে। তখন, লিংকডইনে অ্যাকাউন্ট খুলি। ফেসবুক এবং লিংকডইনে নানা রকমের লেখালিখি, অনেকে লাইক করতো। একদিন একজন বললেন, আমি যেন পত্রিকায় লেখা দেই। সাহস করে একটি পত্রিকা অফিসে ফোনও দিলাম। ওপাশ থেকে আমাকে জানালো, আপনার কী যোগ্যতা আছে যে আপনি আপনার লেখা পেপারে পাবলিশেবল বলে মনে করেন? খুব হতাশ হলাম এরকম ব্যবহারে। এরপর আর ট্রাই করি নাই। নিজে নিজে লিখতাম। যখন ফেসবুক বন্ধ হলো, তখন জাগো নিউজের এক সাংবাদিক ভাই, তার লিংকডইনের পাসওয়ার্ড ঠিক আছে কি না, তা চেক করতে লিংকডইনে ঢুকেন এবং আমার লেখা পড়েন। আমাকে ফোন দেন তিনি, যে আমার লেখা তিনি জাগো নিউজে দিতে চান, আমার অনুমতি চাইলেন। আমি তো মনে মনে বেজায় খুশি। এভাবে ৩ সপ্তাহ লেখা গেলো, তিনি আমাকে পরে জানালেন, আমার লেখা অনেক পাঠক পড়েছেন, আমি যেন জাতীয় পত্রিকার জন্যে লিখি, সেইভাবে জাতীয় পত্রিকার জন্যে লেখা শুরু।’

‘এরপর গত চার বছরে প্রায় কয়েকশ লেখা বেরিয়েছে। একটা সময় পত্রিকায় লিখতে লিখতে লেখার পরিমাণ এত বেশি হয়ে গেলো যে, সেগুলোকে এক করে বই আকারে প্রকাশ করার চিন্তা আসলো। সেই চিন্তাধারা থেকে ২০১৮ সালে বই লিখলাম ৪টা, ২০১৯ সালে আরও ৪টা। ২০২০ সালে এসে কিছু অনুবাদের কাজও করলাম। অনুবাদ এবং নতুন বই মিলিয়ে ৬টা বই এসেছে এবারের মেলায়’, বলেন তিনি। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিভি রাইটিংকে ডিজিটালাইজ করা, গ্লোবালি কাজ করা। সিভি লিখে দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে আরও ভালো জব পেতে হেল্প করা। আরও ভালো কাজ করা, মানুষকে সাহায্য করা। সবাইকে ভালো রাখা, নিজে ভালো থাকা।’

 

ঢাকা/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়