ঢাকা, বুধবার, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘সময়ের তালে চল’

আহনাফ তাহমিদ ফাইয়াজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-৩০ ১২:০৯:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-৩০ ১২:০৯:১৩ পিএম

করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এজন্য ঘরে বসেই দিন কাটাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসময়ে অনেকে অনেক ধরনের কাজ শিখছে। কোয়ারেন্টাইনে থেকে শিক্ষার্থীরা কীভাবে তাদের দিন অতিবাহিত করছে, এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ তাদের গল্প বলেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাফওয়ান জারিফ বলেন, চল চল জোরে চল, সময়ের তালে চল, যদি নিতে চাও তোমাকে গন্তব্যে, ভাগো ভাগো জোরে ভাগো, মামা গাড়ি জোরে টানো, আজ কপালে যে শনি লেখা আছে।’

মাস কয়েক আগের কথাই বলছি। তখনও শূন্য ব্যান্ডের এই গানের কথাগুলো যেন ছিলে প্রতিদিনের জীবনের লিরিকাল চিত্রায়ন। ছন্দ থাকুক আর না থাকুক, কিন্তু চায়ের কাপে চুমুক, আড্ডা, ক্লাস-পড়াশোনা, টিউশন করে দিন কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছিল চোখের পলকেই। হঠাৎ করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বন্ধ, সেই মহাব্যস্ত জীবন কেউ থামিয়ে দিয়েছে। দিন কীভাবে পার করা যায় তাও এখন একটি চিন্তার বিষয় বটে! ব্যক্তিগতভাবে জীবনে তাল বা ছন্দ ফেরানোর মতো সাহস আমি করছি না। হালকা পাতলা লেখালেখি করার চেষ্টা চলছে। ডায়েরি কিংবা নোটবুক পর্যায়ের ব্যাপারও ঠিক না, এলোমেলো লেখা লিখে চলেছি।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ উল আবরার বলেন, আমাদের ৪র্থ​ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা তিনটা বাকি থাকতেই করোনার প্রকোপের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বাবা-মাকে সাধারণত দুই ঈদ ছাড়া দেখা হয় না। এইবার বাবা-মায়ের কাছে অনেক দিন যাবত আছি।​ একজন সন্তান হওয়াতে বাবা-মাকে​ কাজে​ সাহায্য করার যে আগ্রহ ছিল, তা পরিপূর্ণভাবেই এই কোয়ারেন্টাইনে করতে পেরেছি।

প্রথম ২ মাসের মতো একেবারেই অলস বসে ছিলাম। এর পরে লকডাউন খুললেই চাকরির পড়াশুনার বই কিনে আনি এবং Graphics Design এর​ অনেকগুলো অর্ডারের কাজ করছি, এখনো করছি। পাশাপাশি​ ‘Sociology Career Club’​ খুলে ডিপার্টমেন্টের সবার জন্য একাডেমিক পড়াশুনা নিয়ে​ লাইভ সেশনে শিক্ষকদের মাধ্যমে​ একাডেমিক পড়াশুনার কার্যক্রম এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক নির্দেশনা দিচ্ছি সিনিয়ারদের মাধ্যমে। যাতে ঘরে বসে তারা অনলাইনের ভিডিও দেখে পড়াশুনা করতে পারে।​

নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী রিহাদ বিন হক জানায় তার কোয়ারান্টাইন গল্প। তিনি বলেন, ক্যাম্পাস ছেড়ে আসার ১০০তম দিনটিও অতিবাহিত হয়েছে। মার্চের ১৬ তারিখ যখন বাসায় আসার জন্য গাড়িতে উঠলাম, তখনো ভাবতে পারিনি দুই সপ্তাহের এই ছুটিটা এতদূর গড়াবে। বরং সিটি অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততাগুলো থেকে নিস্তার পেয়ে বেশ ভালোই লাগছিল। ঘরবন্দি থাকার প্রথম মাসটি ছিল আমার কাছে সবচেয়ে বেশি বিরক্তিকর, একঘেয়ে। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ব্যাপারগুলো গায়ে সওয়া হয়ে গেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী অণুজীববিজ্ঞানের আফসারা বিনতে রশিদ বলেন, বছরের শুরু থেকেই ক্যাম্পাস লাইফটা বেশ ভালোই উপভোগ করছিলাম। ছোট পরিসরের ক্যাম্পাস দেখেই যেন বন্ধুত্বটা আরও দৃঢ়তা লাভ​করে। কিন্তু আমাদের জীবনের সব কিছুই অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই এই বছরটাও অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে রইল।

অনেক দিন​ ক্যাম্পাসের সাথে বিচ্ছিন্ন থাকা হলেও এই সময়টা​ পরিবারের সাথে খুব ভালো সময় কাটছে যা হয়তো ইউনিভার্সিটির ব্যস্ততার কারণে হয়ে ওঠেনি। এখন বাসায় আছি। আম্মুকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করছি, নিজের অনেক সখ, যা সময়ের অভাবে করা হতো না, তা এখন কিছুটা করে সময় কাটাচ্ছি। সারাদিন ঘরবন্দি হওয়ার কারণে যখন খুব হতাশ লাগে তখন নিজের সখের কাজগুলো​ করি, মেডিটেশন করি, সর্বপরি একটা রুটিনমাফিক​ জীবন গড়ার চেষ্টা করছি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ জাহান প্রিয় বলেন, ২০২০ সালটা শুরু থেকে ভালোই যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই চীনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কথা শোনা গেলো। তারপর সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে অন্য দেশগুলিতে ছড়ানোর পর মার্চেই আমাদের দেশেও প্রথম শনাক্ত হলো। স্থবির হয়ে পড়তে লাগল সবকিছু।

এই সময়টার মধ্যে কিছুটা একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি অনলাইন ভিত্তিক ট্রেইনিং প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি, যা উপকারী খুব। এছাড়াও কম্পিউটারে কাজ শেখা, ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার, কিছুক্ষণ গেমস খেলা, ইবাদত করা, চাচাতো ভাই-বোনদের সাথে আড্ডা, দুষ্টুমি, খেলা এসব মিলিয়ে মোটামুটি ভালোই যাচ্ছে কোয়ারেন্টাইনের সময়গুলো। তবে মিস করি খুব নিজের ক্যাম্পাসটাকে।​ কতই ভালো সময় কেটেছিল, সেগুলো এখন মনে পড়ে প্রায়ই।

 

ঢাকা/হাকিম মাহি