ঢাকা     সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ওরা সত্তর জন

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৮, ৩ জুলাই ২০২০  
ওরা সত্তর জন

একঝাঁক তরুণ। সতেজ প্রাণ সবাই শিক্ষার্থী। কেউ স্কুলে, কেউ কলেজে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, কিংবা কেউ পড়াশোনার গণ্ডি শেষ করে মাত্র চাকরিতে ঢুকেছে। সর্বসাকুল্যে ওরা সত্তর জন। পরনে হলুদ টি-শার্ট। গলায় পরিচয়পত্রের কার্ড। চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস। কখনো নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ, কখনো ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে।

সবার একই উদ্দেশ্য। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সেবা করা। বলছিলাম ঝিনাইদহের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেব্বি গ্রুপের কথা। ২০১৮ সালের জুন থেকে যাত্রা শুরু এ গ্রুপটির। শুরুর দিকে ফেসবুকে সংঘবদ্ধ হলেও পরবর্তীকালে কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলাব্যাপী। অলাভজনক ও অরাজনৈতিক এ সংগঠনের নানামুখী কার্যক্রম চলে সারাবছরই।

ঝিনাইদহ শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও কাজের ঢের প্রাপ্তি। সব প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে সংগঠনটি। শহরজুড়ে রয়েছে সুনাম। করোনা দুর্যোগকালীন সময়েও ঝিনাইদহের হেব্বি গ্রুপ ফাউন্ডেশনের তরুণেরা জোকের মতো লেগে থেকে মানুষের সেবা করেছে। করোনা সচেতনতায় লিফলেট, মাস্ক বিতরণ, সাবান, তিনশোর অধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান, ঈদের আগে পঞ্চাশটি পরিবারের মাঝে ঈদ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

‘Our Goal is to Smile for The Deprived Children- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখেহাসি ফোটানো আমাদের লক্ষ্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে দু’বছর যাবৎ কাজ করে চলেছে মফস্বল শহরের এ সংগঠনটি। সমাজের হতদরিদ্র পথ শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো হেব্বি গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য। তবে এসবের বাইরে নিয়মিত রক্তদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ, অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, মসজিদ/মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কিনে দেওয়া, মেহেদী উৎসব, বৃদ্ধা আশ্রমের নিয়মিত খাবার আর তাদের শাড়ী দেওয়া, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সেবামুখী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে তরুণেরা।

গরিব, দুখী, অসহায় শিশুদের জন্য এসব জামা কেনা হয় হেব্বি গ্রুপের নিয়মিত সদস্যদের নিজেদের টাকায়। সদস্যরা প্রায় ৯০ ভাগই তরুণ। ঈদ-পূজা ছাড়াও দুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে, অসুস্থকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে অর্থ দেয় স্বেচ্ছাসেবকেরা। তারা কেউ টিউশনের টাকা, খাবারের টাকা, মা-বাবার দেওয়া টাকা বাঁচিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।

তরুণপ্রাণ ছাড়াও অনেকেই সংগঠনটির পাশে সময়ে অসময়ে থেকেছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যেমে তরুণেরা যাতে দক্ষ হতে পারে সেসব দেখভাল করার দায়িত্বও তাদের। হেব্বি গ্রুপ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে আছেন অ্যাডভোকেট ফারুক ইমরান, সহ-সভাপতি মাহমুদ আল হাসান সাগর এবং প্রধান নির্বাহী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাহান লিমন।

এদিকে, সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহান লিমন বলেন, ‘জেলাশহর ঝিনাইদহে গেলো দু’বছরে কাজের অভিজ্ঞতায় বেশি অর্জন আমাদের। আর আমরা যারা কাজ করি তার অধিংকাংশই তরুণ। অদূর ভবিষ্যতে সংগঠনকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। আর সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়েই সংগঠনের পথ চলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে যখন হাজার হাজার গ্রুপ বিভিন্ন প্রকার ট্রোল পোস্টের মাধ্যমে রঙ্গতামাশা ব্যস্ত তখন আমি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো জন্য হেব্বি গ্রুপটা খুলি পরে সবার মাঝে সারা পায় শুধু শিশুদের নিয়ে কাজের পাশাপাশি সামাজিক নানা প্রকার কাজ করে চলেছি এখন।’

এছাড়া, ঝিনাইদহের বাইরেও কাজের প্রসার ঘটেছে স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনের। নিঃশ্বার্থে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ায় সংঠনের একমাত্র লক্ষ্য। ইতোমধ্যে ১৩টি জেলার তরুণ-তরুণীরা এক হয়ে কাজ করছে ঝিনাইদহের হেব্বি গ্রুপ নামের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে।

লেখক: শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

 

ঢাকা/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়