ঢাকা     শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭ ||  ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

কৃষিতে আস্থা রাখি, অর্থনীতির চাকা সচল করি

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২১, ১৩ জুলাই ২০২০  

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়েছে। সংকট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও অর্থনীতিতে লোকসান গুনছে। লকডাউনে দেশের গার্মেন্টস শিল্প মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। এমতাবস্থায় অর্থনীতিকে সচল রাখতে কৃষিই একমাত্র আমাদের আশা-ভরসার প্রধান হাতিয়ার  ‍রূপে পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন করোনার প্রভাবে ক্ষুধামন্দার আশঙ্কা করছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আহবান জানাচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস আমাদের জন্য স্বস্থির ও আনন্দের খবর। মূলত, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় দেশের মাটি ও মানুষের সাথে কৃষি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। দেশে বর্তমানে সরাসরি কৃষিকাজের সাথে জড়িত এমন লোকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এছাড়া মোট জনসংখ্যার ৮০ ভাগ এবং শ্রমশক্তির ৬০ ভাগ কৃষিতে নিয়োজিত। তাছাড়া দেশের অর্থনীতির মোট যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি রয়েছে, তার মধ্যে কৃষি, শিল্প ও বিদেশি রেমিট্যান্সই প্রধান।

শিল্পের মধ্যে যেমন ক্ষুদ্র, মাঝারি, ভারি প্রভৃতি বিভিন্ন ভাগ রয়েছে, তার মধ্যে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে জনবহুল দেশের অর্থনীতিতে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সংকট মোকাবিলায় অর্থনীতিকে চালু রাখতে কৃষিই হতে পারে আমাদের আশা-ভরসার প্রধান বাতিঘর।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখে আসছে। কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের উদ্দেশ্যে সরকার কৃষি প্রণোদনা এবং কৃষকের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন কৃষিবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। স্বল্প সুদে কৃষিঋণ, মৎস্য খামারি, হাঁস-মুরগি খামারি, গরু-ছাগল খামারি, দুগ্ধ খামারিসহ সবার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বোরো মৌসুমেই কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণের ঘোষণা, চলমান সবজি ফসল নিরাপদে উত্তোলন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ, চলমান বোরো ধান নিরাপদে মাড়াই, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ সঠিকভাবে করতে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নিয়েছেন। সরকারের কার্যকর এমন উদ্যোগের সুফল আমরা এখন পাচ্ছি। করোনা সংকট পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব যখন খাদ্য সংকট নিয়ে চিন্তিত, তখন আমরা বিশ্বে চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছি।

মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এর তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ ৩ কোটি ৬০ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে ইন্দোনেশিয়াকে টপকে চাল উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অধিকার করার মুকুট লাভ করবে। বাংলাদেশের এমন সাফল্যের কারণ খুঁজতে গেলে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের অবদান চলে আসে।

আগামী দিনে সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে কৃষককে আবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতসহ লকডাউনে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা করা সহজতর করা দরকার। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ, কৃষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার বিষয়টিও সরকাররের মাথায় রাখা অত্যবশ্যকীয়।

এছাড়া, কৃষি জমি সংরক্ষণ এবং সরকারের 'রাইস ভিশন-২০৫০' প্রজেক্ট সফল করতে কৃষক ভাইদের সহযোগিতার বিকল্প নেই। তবে, সবকিছুর উর্ধ্বে সংকট মুহূর্তে কৃষক সুরক্ষা, কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দেওয়ার  দিকটিও ভাবতে হবে। কেননা, কৃষক বাঁচলেই আমাদের দেশ বাঁচবে, আমাদের অর্থনীতির চাকা নতুন মাত্রায় গতি সঞ্চার করবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

ঢাবি/মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়