ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম: বঞ্চিতদের কথা ভাবতে হবে

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৪৫, ১৪ জুলাই ২০২০  
অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম: বঞ্চিতদের কথা ভাবতে হবে

করোনা মহামারির চার মাস অতিবাহিত হলো। ১৮ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রথম দিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন ক্লাসে অনীহা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নানা রকম বাঁধা-বিপত্তির মধ্যেও ক্লাসগুলোয় অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবুও করোনার এই সংকটকালে প্রশ্ন থেকেই যাবে-অনলাইন ক্লাস কতটা ফলপ্রসূ হবে?

করোনা পূর্ববর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও কিছু শিক্ষার্থী ইচ্ছে করেই ক্লাস বর্জন করতো। বন্ধুরা মিলে আড্ডায় মেতে থাকতো। ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতির জন্য প্রশাসনকর্তৃক নানা রকম নিয়ম কানুন চালু ছিলো। বিশেষ করে ৬০% এর কম উপস্থিতি থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না ইত্যাদি। ৬০ শতাংশের উর্ধ্বে যাদের উপস্থিতি থাকবে তাদের উপস্থিতি অনুসারে নির্দিষ্ট মার্কের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতে জরিমানার ব্যবস্থাও চালু ছিলো। বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অবস্থায় এসব নিয়ম-কানুনের প্রয়োগ কি আদৌ সম্ভব?

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার পর শিক্ষকরা ক্লাস পরবর্তী সময়ে লেকচারের সফট কপি অথবা হার্ড কপি দিয়ে দেন। ক্লাসে যারা ঠিক সময়ে উপস্থিত হতে না পারে কিংবা বুঝতে ব্যর্থ হয় তারা পরবর্তীতে বন্ধুদের থেকে নোট নিয়ে পড়তে পারে। অনলাইন ক্লাসে এটা কিভাবে সম্ভব হবে তাও বিবেচনায় আনতে হবে।

ব্যবহারিক বিষয়গুলোর থিওরিটিক্যাল ধারণা পাওয়া গেলেও অনলাইন ক্লাসে সবকিছু হাতে কলমে শেখানো অসম্ভব। তাই এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাছাড়া অনলাইনে ক্লাস নেয়া গেলেও পরীক্ষা নেয়া দূরুহ হবে। যদি পরীক্ষা নেয়াও হয় তা কিভাবে সম্ভব সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

শত চেষ্টার পরও যারা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম নন, তাদের অবস্থা কি হবে? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী অজপাড়া গাঁ থেকে উঠে আসে। কেউ দরিদ্র অথবা কেউ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের অনেকেরই স্মার্ট ফোন নেই। ইন্টারনেট সুবিধা বঞ্চিত তারা। তাদের সংখ্যা কমও হলেও আমরা তাদেরকে বঞ্চিত করবো কিভাবে?

শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। অস্বচ্ছলতা, দারিদ্র্যতা, নেটওয়ার্ক দূর্বলতা, বিদ্যুৎ সমস্যা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে যারা অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সংখ্যা কম হলেও তাদের কথা আমাদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। করোনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে তা বলা কঠিন। তাই এই সময়টাতে তাড়াহুড়ো না করে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে আগানো উচিত। যাতে পরবর্তী কোনো দূর্যোগপূর্ণ সময়ে পিছিয়ে পড়ার চিন্তা না করতে হয়।

শিক্ষিতের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা জরুরি। আবেগ দিয়ে না মেপে বাস্তবায়নযোগ্য ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনার নিরিখে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই অনলাইন ক্লাসের থেকে অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম-এর দিকে বেশি নজর দেয়াই শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অধিক ফলপ্রসূ ও কার্যকরী হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

ঢাকা/ মাহফুজ

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়