ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ঘরে বসেই দুই কিশোরের বিশ্বজয়

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:২০, ১৪ জুলাই ২০২০  
ঘরে বসেই দুই কিশোরের বিশ্বজয়

আশরাফুল আলম আর বাধন বিশ্বাস, দুজনই কলেজ পড়ুয়া। এ বছর এইচএসসি দেওয়ার কথা ছিল আশরাফুল আলমের। করোনার কারণে পরীক্ষা হয়নি এখনও। তাই অনেকটা অলস সময় কাটছে তার। আর বাধন পড়ে একাদশ শ্রেণিতে। দুজনেরই স্কুল একটা হলেও কলেজ বদলে গেছে এখন।

আশরাফুল পড়ে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে, আর বাধন সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তাদের পরিচয় মূলত স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাবে কাজ করতে গিয়ে। বাধন এক ক্লাস ছোট হলেও দুজনের চিন্তাভাবনা প্রায়ই এক। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বদলালেও বন্ধ হয়নি দুজনের যোগাযোগ। স্কুল থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন মজার মজার আইডিয়া নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে তারা। অন্যরা তাদের আইডিয়াগুলো খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও হাল ছাড়েনি দুজন।

আশরাফুল আগে পড়াশোনার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব একটা সময় দিতো না। তবে করোনার এই ঘরবন্দি সময়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটু সরব হওয়ার চেষ্টা করছে। অন্য দিকে করোনার এই সময়ে সব বয়সী মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করছে।

সবার মাঝে বাড়ছে হতাশা আর বিষণ্ণতা। এসব দেখে আশরাফুল কথা বলে বাধনের সাথে। দুজন মিলে ডাট্যুরএক্স নামের একটা টিম তৈরি করে। তারা ঠিক করে এই টিমের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে বিষণ্ণতা দূর করার জন্য একটা ওয়েবসাইট বা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার। যেটি কিনা বিষণ্নতা ও হতাশা কাটাতে সাহায্য করবে মানুষকে।

এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর পছন্দমতো বিভিন্ন কিছু সাজেস্ট করবে। এটা হতে পারে পছন্দের কোনো বই, কোনো সিনেমা কিংবা ব্যবহারকারী পছন্দ করতে পারে এমন কোনো ভিডিও। এছাড়াও এটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিষণ্নতা ও হতাশা বাড়ায় এমন সব কনটেন্ট ফিল্টার করবে।

এরই মধ‌্যে একদিন আশরাফুল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের মাধ্যমে জানতে পারে সুইজারল্যান্ডের দ্য ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন) আয়োজন করছে একটি ওয়েব কনটেস্টের। সাধারণত সার্ন আয়োজিত এমন কনটেস্টে শুধু তাদের ইন্টার্নরা এবং পিএইচডি গবেষকরা অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। তবে এবার করোনার কারণে ওয়েব কনটেস্ট হওয়ায় এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সুযোগ দেওয়া হয় যে কোনো আইডিয়া নিয়ে অংশগ্রহণ করার। দেরি না করে আশরাফুল সেটা তার বিজ্ঞান আলোচনার সঙ্গী বাধনকে জানায়। দুজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সেই ওয়েব কনটেস্টে অংশগ্রহণ করার। আইডিয়া সেই আগেরটাই। বিষণ্নতা ও হতাশা দূরীকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো।

গত ২৬-২৯ জুনে অনলাইনে কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সব কাজ সম্পন্ন করে আশরাফুল ও বাধন।তাদের আইডিয়া নিয়ে স্লাইড তৈরি, নিবন্ধ লেখা এবং আইডিয়া অনুযায়ী সব তথ্য-উপাত্ত বিচারকদের সামনে তুলে ধরে তারা। বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে ৪৫০ জনের বেশি মানুষ এই কনটেস্টে অংশগ্রহণ করে। মূল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয় ৩৫টি প্রজেক্ট। এর মধ‌্যে পুরস্কার বিতরণীতে ৭টা প্রজেক্টকে ফাইনালিস্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করে সার্ন। এই সাতটা প্রজেক্টের মধ্যে একটি ‘টিম ডাট্যুরএক্স’ এর। বিজয়ী হওয়ায় এখন তারা প্রজেক্টটা নিয়ে সার্নের সাথে সুযোগ পেয়েছে।

ঘরে বসে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করার অনুভূতি জানতে চাইলে বাধন বিশ্বাস বলে, ‘বিশ্বের এত নামিদামি মানুষদের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরার মুহূর্তটা সত্যিই দারুণ ছিল। আমরা ভাবতে পারিনি আমদের মতো দুইজন কিশোরের পক্ষে এতদূর যাওয়া সম্ভব হবে। এখন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের পালা। আশাকরি আমাদের পাশে সবাই থাকবেন।’

 

চট্টগ্রাম/মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়