ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

‘একটা স্বপ্ন পূরণের পর আরেকটা দ্খেতে হয়’

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৪, ১৫ জুলাই ২০২০  
‘একটা স্বপ্ন পূরণের পর আরেকটা দ্খেতে হয়’

পুরস্কার হাতে জনি হোসেন কাব্য

জনি হোসেন কাব্য। তরুণ ছড়াকার। পাঠকপ্রিয়তা পাচ্ছে তার ছড়া। প্রকাশিত ছড়ার বই ১৪টি। পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার। সম্প্রতি তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ‘সাংবাদিকতা এবং মিডিয়া’ বিষয়ে অর্নাস শেষ করেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন হাবিবুল্লাহ মিসবাহ তুবা। আলাপচারিতার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো।

তুবা: প্রথমেই আপনার কাব্য নামের পেছনের ঘটনাটা জানতে চাই...।

জনি হোসেন কাব্য: ঘটনা নাই। আমার কাজিন আমাকে এই নামে ডাকতো। ওখান থেকেই এ নামের উৎপত্তি।

তুবা: লেখালেখিতে হাতেখড়ি কখন?

কাব্য: ২০০৬ সালে৷ তখন আমি পঞ্চমশ্রেণিতে পড়ি। জার্মানে বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল। ঐ বিষয়ে লিখেছিলাম জীবনের প্রথম ছড়াটি। ওটাই হাতেখড়ি।

তুবা: সর্বপ্রথম কবে পত্রিকায় ছাপা অক্ষরে নিজের নামে-লেখা প্রকাশিত হয়?

কাব্য: একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালে কিশোর কণ্ঠে ছড়া ছাপা হয়৷

তুবা: তখনকার অনুভূতিটা কেমন ছিলো?

কাব্য: অনেক খুশি হয়েছিলাম। বিশ্বাস হচ্ছিল না। স্বপ্নের মতো লেগেছিল। বারবার লেখাটি হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখেছি। চোখ ছলছল করে উঠেছিল আনন্দে।

তুবা: আপনার লেখালেখি করা নিয়ে বন্ধুমহলে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? বন্ধুদের দেওয়া কোনো ডাকনাম আছে?

কাব্য: বন্ধুদের থেকেই উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা বেশি পেয়েছি৷ তারা আমার লেখার মনোযোগি পাঠক। আমাকে নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত হতে দেখি ওদের। তাদের দেওয়া ডাক নাম নেই কোনো। তারা কাব্য নামেই ডাকে।

তুবা: বই পড়া নিয়ে আপনার ছোটোবেলার কোনো স্মৃতি?

কাব্য: বড় ভাইয়া প্রচুর বই পড়তেন৷ গল্প-উপন্যাসের বই। ম্যাগাজিনও সংগ্রহ করতেন৷ আমি ম্যাগাজিনের পোকা ছিলাম৷ ক্রিকেট নিয়ে কোনো আর্টিকেল থাকলে পড়তাম৷ কার্টুন পছন্দ করতাম। অলংকরণ ভাল্লাগতো খুব। সেসব মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। ছড়ার পাশে কার্টুন বা অলংকরণ ছাপা হতো বেশি৷ কার্টুন দেখতে দেখতেই ছড়ার সঙ্গে পরিচয়। তারপর টুকটাক পড়া। ভালো লাগা তৈরি হওয়া এবং নিজেও লেখার চেষ্টা করা।

তুবা: এখন তো আপনার অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম যখন লিখতেন তখন কি এ চিন্তাটা কাজ করতো যে একসময় আপনার বই প্রকাশ পাবে...?

কাব্য: আমি ধাপে ধাপে এগিয়েছি৷ খুব বড় বড় স্বপ্ন আমি দেখি না। দেখতে পছন্দ করি না। কাছাকাছি ছোট ছোট স্বপ্ন দেখি। যেটা হয়তো কিছুদিন পরেই পূরণ হবে। সেটা পূরণ হলে সেটার চেয়ে আরেকটু বড় স্বপ্ন দেখা। এভাবে৷ যখন শুরুর দিক পড়ি তখন স্বপ্ন দেখতাম লেখার। যখন লিখতে পারতাম তখন স্বপ্ন দেখতাম ভালো লেখার। যখন মোটামুটি  ভালো লিখি মনে হলো তখন স্বপ্ন দেখতাম লেখা ছাপা হওয়ার। যখন লেখা ছাপা হলো তখন স্বপ্ন দেখতাম বই বের করার। এরপর বই হলো, হচ্ছে…।

তুবা: আপনার কাছে সাহিত্য মানে কী?

কাব্য: সাহিত্য অনেক গভীর ব্যপার। যেখানে অনেক গুপ্তধন লুকিয়ে রয়েছে। সেসবের কিছুটা আমরা উদ্ধার করতে পারি বলে সাহিত্য এত ভালো লাগে। যারা সুসাহিত্যিক তারাই এ গুপ্তধনগুলো সচেতনভাবে রোপণ করে যান তাদের লেখায়।

তুবা: কার লেখা পড়তে ভালো লাগে? প্রিয় লেখক কে? প্রিয় ব্যক্তিত্ব?

কাব্য: কোনো লেখকেরই সব লেখা ভালো লাগে না। তবে এমন অনেক লেখকই আছেন যাদের কিছুকিছু লেখা খুবই ভালো লেগেছে। তবে জহির রায়হান এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্ল্যাহর নাম উল্লেখ করতে চাই। তাদের লেখায় মুগ্ধতা বেশি। প্রিয় ব্যক্তিত্ব হজরত মুহম্মদ (স.)।

তুবা: কোনো ঘটনার কথা বলুন যা ভুলবেন না কখনো।

কাব্য: অনেক মজার ঘটনা আছে। এবারের মেলার একটা ঘটনা বলি। আমি স্টলে ছিলাম। নিচের দিকে তাকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করছিলাম। একজন পাঠক এলেন৷ আমার বই ছড়ামর্শ আছে কি-না সেলসম্যানকে জিজ্ঞেস করলেন। আছে বলে সেলসম্যান বইটি দিলন৷ উনি বিল পরিশোধ করে চলে যাচ্ছিলেন তখনই সেলসম্যান ওই পাঠককে ডাক দিলেন। জিজ্ঞেস করলেন, বইটির লেখককে চেনেন কি-না! উনি বললেন- চিনি। সেলসম্যান বললে কই চিনলেন? এই তো লেখক এখানে বসে আছেন। উনি জবাব দিলেন, আমি চিনি। কিন্তু মনের ভেতর ভয় আর লজ্জা কাজ করছিল। তাই কথা বলিনি। তারপর আমি এগিয়ে গেলাম। কথা বললাম। উনি অটোগ্রাফ নিলেন। ফটো তুললেন। খুশি হলেন৷ এই ঘটনা মনে থাকবে অনেক দিন।

তুবা: এমন কোনো ঘটনা আছে যা আপনাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগায়?

কাব্য: অনুপ্রেরণা প্রতিনিয়তই পাই। ফেসবুকে কোনো পোস্ট করলে ছোট ছোট কমেন্টগুলোও দারুণ অনুপ্রেরণা জোগায়। লঞ্চে, গাড়িতে যাতায়াত করার সময় কেউ কেউ চিনতে পারেন আমাকে। কাছে এসে কথা বলেন৷ তাদের মুগ্ধতার কথা জানায়। এসবও ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে। লেখালেখি করে ৫টিরও বেশি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, সেসব প্রাপ্তিও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়।

তুবা: সে পুরষ্কারগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।

কাব্য: পুরষ্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১। ‘কথাসাহিত্যকেন্দ্র গল্প লেখা প্রতিযোগিতা-২০১২’ এর সেরা ১০ গল্পকারদের ১ জন।

২। ‘দাঁড়িকমা লেখালেখির স্মৃতি পুরস্কার-২০১৬’ এর তৃতীয় সেরা লেখক।

৩। ‘পিঠা প্রতিযোগ-২০১৮’ এর সেরা লেখক।

৪। শিশুসাহিত্যে ‘অক্ষরবৃত্ত পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০১৯’।

৫। ছড়া বিভাগে ‘প্রিয় বাংলা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার-২০২০’।

৬। ‘তৃতীয় লক্ষ্মীতারুণ্য সম্মাননা-২০২০’।

তুবা: লেখক, পাঠক এবং প্রকাশকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

কাব্য: লেখকদের উদ্দেশে বলবো-পড়ুন—শিখুন—লিখুন। যতটুকুই পড়ুন না কেন ঠিক ততটুকুই শিখতে চেষ্টা করুন। সাধারণ পাঠকদের মতো পড়ে মুগ্ধ হলেই হবে না, খুঁজে বের করুন ‘কেন ভালো লেগেছে?’ এই প্রশ্নের উত্তর। তারপর সেটি নিজের ভেতর ধারণ করুন। ভালো প্রস্তুতি নিয়ে লিখুন৷ আর পাঠকদের বলতে চাই- বেশি বেশি পড়ুন। ভালো বই পড়ুন। বই পড়লে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। সুরুচিশীল হয় মন। তাই বই পড়ার বিকল্প নেই। প্রকাশকদের বলতে চাই ভালো বই প্রকাশ করুন। সেসব বই প্রচার করুন৷ আর ভালো বই মানুষের হাতে পৌঁছালে মানুষ তা গ্রহণ করবেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই৷ লেখককে তার প্রাপ্য সম্মানিও বুঝিয়ে দিন৷ সৎ থাকুন।

তুবা: ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

কাব্য: সাংবাদিকতা করার পাশাপাশি লেখালেখি করে জীবন কাটাবো। এটাই পরিকল্পনা।

তুবা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

কাব্য: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

ঢাকা/মাহফুজ/মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়