ঢাকা     সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৭ ||  ১০ সফর ১৪৪২

বিলুপ্তপ্রায় দেশি পাঙ্গাসের চাষ ভোলায়

ইফরান আল রাফি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৫৮, ৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বিলুপ্তপ্রায় দেশি পাঙ্গাসের চাষ ভোলায়

বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় পাঙ্গাসের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য দেখিয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বায়োলজি অ‌্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন একদল গবেষক।

গবেষকদের মতে ‘Pangasius pangasius’ নামের দেশীয় প্রজাতির পাঙ্গাস মিঠা পানি এবং আধা লোনা পানির নদী ও মোহনায় পাওয়া যায়। 

বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে  বিলুপ্তির পথে দেশীয় পাঙ্গাস মাছ। এমন অবস্থায় নিজ পুকুরে গৃহপরিচর্যা শুরু করেন দ্বীপ জেলা ভোলার হ্যাচারি মালিক মো. এসএম মাহবুবুর রহমান। তিনি এ মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য পবিপ্রবি মৎস বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুর রহমানের শরণাপন্ন হন।

গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে মো. আরিফুর রহমান জানান, হ্যাচারি মালিক মো. এসএম মাহবুবুর রহমান পাঁচ বছর ধরে দেশীয় পাঙ্গাস মাছ গৃহ পরিচর্যা করে আসছিলেন। বিষয়টি আমাকে অবগত করা হলে ২০১৮ সালে এ মাছের উপর গবেষণা শুরু করি এবং প্রথমবার ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয়বার কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যমান থাই ও ভিয়েতনামি পাঙ্গাসের চেয়ে দেশি পাঙ্গাসের স্বাদ ও পুষ্টিমান বেশি।’

গবেষণায় আরো দেখা যায়, একই বয়সের পুরুষ মাছের চেয়ে স্ত্রী মাছ আকারে বড় এবং ওজনে বেশি হয়। প্রজনন মৌসুমে পরিপক্ক স্ত্রী ও পুরুষ মাছ ৮-১০ ঘণ্টা হ্যাচারির ট্যাংকে ঝরনা দিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে স্ত্রী ও পুরুষ মাছকে যথাক্রমে ১:১ মাত্রার ইনজেকশন প্রয়োগ করে হাউজে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিশ্চিত করার জন্য ঝরনার মাধ্যমে পানি প্রবাহ রাখা হয়। হরমোনে ইনজেকশন প্রয়োগের ১৬-১৮ ঘণ্টা পর স্ত্রী মাছ ডিম ছাড়ে। সাধারণত ডিম ছাড়ার ২৪-৩০ ঘণ্টা পর ডিম ফুটে রেণু বের হয়। রেণু বের হওয়ার ১-২ দিন পর রেণুকে নার্সারি পুকুরে ছাড়া হয়। এরপর তিনদিন পর থেকে রেণুকে খাবার হিসেবে ডিমের কুসুম দেয়া হয়। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় পাঙ্গাসের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।

গবেষক দলের অন্য সদস‌্যরা হলেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. রহমত উল্লাহ, মো. আলমগীর কবির এবং হ্যাচারি টেকনিশিয়ান মো. ফারুক হোসেন।

প্রসঙ্গত ২০১৫ সালে আইইউসিএন-এ মাছটিকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

পবিপ্রবি/ইফরান আল রাফি/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

পাঠকপ্রিয়