ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

পথশিশুদের সেভ দ্য ফিউচার স্কুল

জাহাঙ্গীর কবীর রোকন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ১২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
পথশিশুদের সেভ দ্য ফিউচার স্কুল

ফুটপাতে বসেছে খুদে শিক্ষার্থীরা। এক পাশে কিছু শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান। অন্যদিকে শিক্ষকের সঙ্গে সুর করে তারা সবাই পড়ছে বিভিন্ন কবিতা। গত শুক্রবার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার কাছাকাছি গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য।

এই শিক্ষার্থীদের সবাই পথশিশু। সেভ দ্য ফিউচার নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে তাদের পড়ানো হচ্ছিল। শুক্র, ও রোববার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই পাঠশালার কার্যক্রম।

মহাখালীতে ২০১৫ সালে প্রথম এ ধরনের পাঠশালার কার্যক্রম শুরু করে সেভ দ্য ফিউচার। রামগঞ্জ ও কুমিল্লায় তাদের এ ধরনের পাঠশালা রয়েছে। পলাশী ও সাভারে আরও দুটি পাঠশালা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

গত ৮ নভেম্বর শিশুদের পড়াচ্ছিলেন নাঈম সর্দার ও মেঘা পারভীন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা শিশুদের শুধু অক্ষরজ্ঞান দেন না, তাদের নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর চেষ্টাও করা হয়। পাঠ দেয়া হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। প্রতিদিন পাঠদান শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গান।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের পাঠদান করে আনন্দ পান তাঁরা। শিশুরাও পড়ে আনন্দ পাচ্ছে।’

এই স্কুলের পাঁচ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, ‘এখানে পড়তে অনেক ভালো লাগছে। আপারা অনেক আদর করে।’

মাহফুজুর রহমান হামিদ প্রথমে কলেজের বন্ধুদের এই কাজে যুক্ত করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদেরও এ বিষয়ে আগ্রহী করে তোলেন। এখানে পাঠদান করান মেহেদী, কবির, আরিফ, জোবায়ের, লাকি, ঈশিতা, মিম। তাঁদের চেষ্টা আর শ্রমে চলছে পথশিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছানোর প্রাথমিক কাজ।

২০১৪ সালে শুরু হয় সেভ দ্য ফিউচারের কার্যক্রম। এর নির্বাহী পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা মজুমদার।

গোলাম মোস্তফা মজুমদার বলেন, ‘দেখা যায়, পথশিশুদের দিয়ে মাদক বহন করানো হয়। তাদের ব্যবহার করা হয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। আমার বিশ্বাস, শিক্ষার আলো পেলে তারা ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারবে। তাদের অন্যায় কাজে কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংগঠনের সদস্যদের দেয়া চাঁদায় স্কুল চলছে। এছাড়া চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী বন্ধুরা এই কাজে সহায়তা করেন।’

জানা গেছে, সংগঠনটির সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৫৫০ জন। তাঁরা প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে চাঁদা দেন। সদস্যদের চাঁদার টাকা থেকেই পথশিশুদের বই-খাতা-পেনসিল দেয়া হয়। পড়া শেষে শিশুদের জন্য হালকা নাশতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


গাজী টিভি/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়