RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনায় গবিয়ানদের মানবপ্রেম

রাকিবুল হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৮, ২১ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
করোনায় গবিয়ানদের মানবপ্রেম

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কঠিনভাবে বিপর্যস্ত করেছে করোনাভাইরাস। গোটা পৃথিবী এখন করোনা থেকে বাঁচতে মরিয়া। সচেতনতা ও মানবিকতা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে যাওয়া অনিরাপদ। মানুষ ঘরে থাকলে নিরাপদ থাকবে। কিন্তু তাদের থাকতে হবে অনাহারে। করোনাভাইরাস ও খাদ্য সংকট, দুটো বিষয় পরস্পর মুখোমুখি আজ।

করোনাকালীন অনাহারে থাকা মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) একাধিক শিক্ষার্থী। তাদেরকে কখনো নিজস্ব অর্থায়নে, কখনো সংগঠনের মাধ্যমে এই নিরুপায় মানুষগুলোর খাদ্যের যোগান দিতে দেখা গেছে।

নিশ্চয়ই মনে আছে, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. সুজন রানার নিজস্ব অর্থায়নে ঝাড়ুদার, সুইপার, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়া ও রিকশাওয়ালাদের মাঝে ১২ কেজি প্যাকেটের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন৷ দুই বছর পরে দুর্দিনে ক্যাম্পাসের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ান তিনি।

সুজন রানা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণ নিজ চোঁখে মানুষের কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না। তাই নিজ উদ্যোগে এই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

লকডাউন চলাকালীন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও জরুরি বিভাগ কর্মীদের বৈশাখী উপহার বিতরণ করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় কর্মচারীদের সংগঠনের দায়িত্বশীলরা চাল থেকে লবণ পর্যন্ত যাবতীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়। করোনা মহামারির এই সময় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অর্থায়নে বৈশাখী উপহার দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দেয় সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি রনি আহম্মেদ বলেন, ‘আমার মামা স্থানীয় চেয়ারম্যান। সেই সুবাদে আমি তার সাথে এই করোনা মহামারির সময় সর্বাক্ষণিক সহযোগিতা করছি। কখনো সরকারিভাবে ও কখনো ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণসামগ্রী মানুষকে দিচ্ছি। ঈদের আগে আরও কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিনা খাঁতুন তার নিজ এলাকায় সাতক্ষীরার সবুজবাগ থানার পলাশপুর গ্রামের ৭০ পরিবারকে নিজস্ব অর্থায়নে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় প্রমীলা ফুটবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

মনসুর হোসেন মানিক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বর্তমানে রাজধানীর কলাবাগান থানায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রতিনিয়ত অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছেন। কখনো রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। কখনো খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সাহায্য করছেন। 

করোনা আতঙ্কে গোটা দেশ যখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের পাশে এগিয়ে এসেছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ। শিক্ষার্থীরা সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় ৩০টি নিম্ন আয়ের পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কোষাধ্যক্ষ খাদিজা আক্তার সেতু নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগে ঢাকার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গরীব ও অসহায় ৭০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন৷

সাভারে ভ্রাম্যমাণ ফ্রি সবজি বাজার ও দেশের নানা অজপাড়া গাঁয়ে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছে গেছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ডু সামথিং ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি তাদের কাজের মাধ্যমে গোটা দেশের মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।

সংগঠনটি এখন পর্যন্ত ঢাকার মিরপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলি, ফার্মগেট, আসাদগেট, শেরেবাংলা নগর ঢাকার বাইরে সাভার, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারি, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, টাংগাইল, বরগুনা, বরিশাল, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৭০০০ লোককে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানে ১০টি ছাগল জবাই করে গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। লকডাউনে সবাই বাসায় ফিরলেও ইয়াতিমদের কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিল না। বিভিন্ন জেলায় থাকা এমন ৩৫০ জন ইয়াতিম ছাত্রের ইফতার এবং সেহরির দায়িত্ব নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের লক্ষ্য ১০০টি পরিবারকে পুর্নবাসন করাবে।

গবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নজরুল ইসলাম রলিফ এই করোনা পরিস্থিতিতে ঠিক তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যে মানুষগুলো কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারে না৷ গোপনে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করেন। কারো ভাড়া মওকুফের জন্য সুপারিশ করেন৷ একাধিক সূত্রে জানা যায়, তিনি গরীব শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন, কিন্তু প্রকাশ করেন না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করেন৷

জিএস বলেন, ‘আমি ত্রাণ শব্দ ব্যবহারে নারাজ। অসহায়দের অধিকার সহায়তা পাবার৷ যাদের সামর্থ্য আছে, তারা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে এটাই হওয়া উচিৎ। আমি সামান্য চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র৷ সামনে নিজের সবটুকু দিয়ে হলেও মানুষদের হাসি ফুটানোর চেষ্টা করে যাবো।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জাগ্রত বিবেক ফাউন্ডেশন। করোনায় তারা গরীব, দুস্থ পরিবারের বাড়িতে খাবার নিয়ে ছুটে গেছেন৷ তারা গোটা মাসজুড়ে বৃদ্ধ, এতিম, অসহায় মানুষের কাছে খাবার নিয়ে পৌঁছে গেছেন৷


গবি/হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়