ঢাকা     বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

গ্রামীণ পরিবেশে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়নি

আহমেদ ফাহিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২১, ২ আগস্ট ২০২০  
গ্রামীণ পরিবেশে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়নি

বছর ঘুরে এসেছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা। অতীতের বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদ এসেছে ভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে। আগে ঈদ আসতো বহু প্রতীক্ষার প্রহর নিয়ে।  

ঈদ শব্দটা মনে আসতেই হৃদয় মেতে উঠত উল্লাসে। ঈদ মানেই যেন আনন্দের জোয়ার। ঈদ মানেই যেন খুশির সঞ্চার। কিন্ত এবারের ঈদ উদযাপনে ছিল না আনন্দের জোয়ার, ছিল না খুশির সঞ্চার।

এবার ঈদে গ্রামের বাড়ি যাওয়া হয়নি। ঈদ কেটেছে ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে। ফলে গ্রামীণ পরিবেশে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়নি। ঈদের দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সকালে নামাজের মাধ্যমে। ঈদের নামাজ আদায় করে বাসায় চলে আসি। ঢাকায় কোরবানি না দেওয়ায় ঈদের দিনে তেমন কোনো ব্যস্ততা ছিল না। ভার্চুয়ালে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি।

প্রতিবছর ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হলেও এবার তা করা হয়নি। মসজিদগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই ঈদের নামাজ আদায় করেছে।

দেখা যেত ঈদের নামাজ শেষে আমাদের ঈদগাহে ছোট-বড় সবাই সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে-অপরের সঙ্গে করমর্দন, কোলাকুলি করছে। পুরনো সব হিংসা-বিদ্বেষ ঝগড়াঝাঁটি ভুলে গিয়ে সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। একে অপরের সঙ্গে সালাম-দোয়া বিনিময় করছে। কিন্তু এবার আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়েনি। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ঢাকার এলাকাগুলোতে স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার রাস্তায়ও কোরবানি করেছে। তবে স্থানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি দিয়েছে সবাই।

ঈদের আগের দিনগুলোতে কোরবানির পশুর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে আলাদা এক আমেজ তৈরি হয়। কিন্তু এবার করোনা ও বন্যার কারণে এই গবাদিপশুর কেনা-বেচায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে। করোনা ও বন্যার কারণে প্রান্তিক কিংবা এই পেশায় জড়িত ব্যক্তিদের হাত যেমন খালি, তেমনি বেসরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই সময়মতো টাকা না পাওয়ায় কোরবানির পশু কিনতে পারেননি। 

শুধু কোরবানিকে কেন্দ্র করে যে ব্যবসাগুলো ছিল, সেগুলোর ব্যবসায় মন্দা দেখা গেছে। চামড়া সংরক্ষণ করায় লবণশিল্প যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ট্যানারি শিল্পও ক্ষতির মুখে। এ ছাড়া, কামারের দোকানের ব্যস্ততাও কম। ফলে এই কোরবানিকে কেন্দ্র করে যে অর্থনীতি চালু ছিল, তা নিশ্চিতভাবেই ধাক্কা খেয়েছে।

কোরবানির ঈদ আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, সামর্থ্যবানের ত্যাগই সমাজের বঞ্চিত আর অসহায়দের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। সমাজে নিয়ে আসবে অকৃত্রিম বন্ধন ও সমতা। তবে এ বিষয়টিও মনে রাখা দরকার-সামর্থ্যবানের সম্পদে গরিবের জন্য করুণা নয় বরং রয়েছে অধিকার। 

তাই তাদের কোরবানি গরিবের জন্য কোনোভাবেই দয়া প্রদর্শন নয়, এ ঈদ আমাদের সেই শিক্ষা দেয়। ত্যাগের মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়।

একদিকে করোনা, আরেক দিকে বন্যায় বদলে গেছে স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা। উৎসবের এই দিন সবার ভালো যায় না, আমি আপনি আমরা সবাই মিলে খারাপের মাঝেই ভালো থাকা আর ভালো দিনের প্রার্থনায় দু’হাত তুলি। পৃথিবীর সব অসুখ কেটে যাক, মুছে যাক মন থেকে মনে আমাদের যত বিরহের সাতকাহন।

করোনাভাইরাসের সাথে যুদ্ধে এ সময় প্রয়োজন স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা। সংকটময় পরিস্থিতি থেকে আবার সবাই ঘুরে দাঁড়াবে। আবার আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবো। আগামী ঈদ আমরা মহামারি কাটিয়ে উঠে হাসি মুখেই পালন করবো। সবাইকে ঈদ শুভেচ্ছা।

 

লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নোবিপ্রবি/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়