ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একঝাঁক তরুণ

শাহরিয়ার নাসের || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৫, ৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একঝাঁক তরুণ

করোনার প্রকোপে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। থমকে গেছে স্বাভাবিক পাঠদান। শহরের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস-পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্ক সমস্যাসহ নানা সমস্যার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। 

এমন ভাবনা থেকেই নাটোরের বাগাতিপাড়ায় করোনাকালে ছুটিতে বাড়িতে আসা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক ঝাঁক তরুণ গ্রামের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখাতে কাজ করে চলছেন অবিরাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণরা গড়ে তুলেছেন ‘ডেয়ার টু ড্রীম’ নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগাতিপাড়া গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নই দেখে না। তাই এসব পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এসব তরুণরা। 

 ‘ডেয়ার টু ড্রীম’ এর সভাপতি হিসেবে রয়েছেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন শান্ত, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু। 

এছাড়াও সদস্যরা হলেন, আবুল বাসার (নোবিপ্রবি), শিমুল আলী (জাবি), তানভির রহমান (কুয়েট), জয়া সরকার (জবি), শুভ সরকার (পাবিপ্রবি), শাহজাহান (হাবিপ্রবি)। সর্বমোট ৩৪ জন রয়েছেন এই সংগঠনে। তারা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে অনলাইন ও সেমিনারের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নানা উপদেশ ও  ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ প্রদান এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে গত বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ‘আলোক বর্তিকা’ শীর্ষক এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এক সেমিনারের আয়োজন করা হয় উপজেলার জিগরী উচ্চ বিদ্যালয়ে। যেখানে এলাকার ৩৩ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

সাদ্দাম হোসেন শান্ত বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা ছিল। যে সংগঠনটি পিছিয়ে পড়া গ্রামের শিক্ষার্থীদের গ্লুমিং করবে এবং ভালো কোনো ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ করে দেবে, সেই থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ। সদস্যরা অনেক পরিশ্রম করছেন যেন বাগাতিপাড়ার শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন।’ 

‘আমি বিশ্বাস করি আমরা এই সংগঠনকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। পিছিয়ে পড়া অবহেলিত গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই মহান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি’, বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ফাগুয়াড় দিয়াড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আজাহার আলী বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর স্থবিরতা পুরো বিশ্বকে ধাবিত করছে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের দিকে। প্রাণহীন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে। এ যেন সৌরজগতের এক নতুন পৃথিবী। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপজেলার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে, যা প্রশংসার দাবিদার।’

নোবিপ্রবি/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়