ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

গুণীজনের ছবি আঁকাই তার নেশা

শাহরিয়ার নাসের || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৫, ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
গুণীজনের ছবি আঁকাই তার নেশা

কখনো বাড়ির দেয়ালে পছন্দের মানুষের ছবি আঁকেন। কখনো আর্ট পেপারে আঁকেন প্রকৃতির ছবি। আবার কখনো ঝরে পড়া পাতা কুড়িয়ে তা দিয়েই সৃষ্টি করেন শিল্পকর্ম। তিনি আর. করিম। আঁকাই তার নেশা। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই তরুণের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালীতে।

এ পর্যন্ত তিনি দেশ-বিদেশের অনেক গুণীজনের ছবি এঁকেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দিত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদ, কবি নির্মলেন্দু গুণ, প্রয়াত সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের ছবি এঁকেছেন। আবৃত্তিকার শিমুল মুস্তাফা, সংগীত ব্যক্তিত্ব মান্না দে এবং শিল্পী ভুপেন হাজারিকার ছবিও এঁকেছেন তিনি। এঁকেছেন বিখ্যাত বাউল শিল্পী কুদ্দুস বয়াতির ছবি।

বাদ যাননি গায়ক মনির খান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, কৃষি ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির সঞ্চালক হানিফ সংকেতও। ছবি এঁকে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন করিম।

আর. করিম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি আমার পছন্দের। যখন নার্সারিতে পড়ি তখন থেকে আঁকাআঁকি শুরু। তখন পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে ছবি আঁকার বইও ছিল। বলতে গেলে সে বইটিই আমার ছবি আঁকার উৎস। ছবি আঁকার সে বইটা কেন যেন আমাকে খুব আকর্ষণ করতো। আমি ক্লাসের বাইরেও বাড়িতে বইটি দেখে সে বইয়ের ফুল, ফল, লতা, পাতা এবং পাখি ইত্যাদি এসবের ছবি আঁকতে চেষ্টা করতাম। এ বই ছাড়াও অন্যান্য বইয়ের অলংকরণগুলো দেখতাম। শুধু যে আমার বইগুলো দেখতাম তা নয়। আমার বড় ভাই-বোনদের বইগুলোও দেখতাম। এভাবে গেলো দুই বছর।’

‘এরপর ভর্তি হলাম প্রাইমারি স্কুলের ২য় শ্রেণিতে। তখন প্রাইমারির বইতে আমি দেখতে পাই হাতে আঁকা রঙিন অলংকরণ, যা এর আগে দেখিনি। প্রাইমারিতে এসে আমার ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁকটা বেড়ে যায় আরও। ক্লাসে বসে কিংবা বাড়িতে যখন তখন ছবি আঁকতাম। কয়লা দিয়েও এঁকেছি। এভাবেই আমার হাতেখড়ি’, বলেন করিম।

ছবি আঁকার মাধ্যমে পুরো জগতকে চেনা যায় বলে মনে করেন করিম। ভালোবাসেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এবং এসএম সুলতানের আদর্শ। তিনি বলেন, ছবি আঁকার মাধ্যমে পুরো জগতকে চেনা যায়। পুরো জগতের গল্পকে চেনা যায়। এ ছবি আঁকা আমাকে আদব-কায়দা ও চরিত্রের গঠন ইত্যাদি শেখাচ্ছে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জেনেছিলাম- ‘শিল্পী মানে একজন মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ’। এস এম সুলতান সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জেনেছিলাম- ‘শিল্পবিদ্যা চর্চায় মানুষের চরিত্র গঠন হয়’। তারা আমার আদর্শ। তাদের মূল্যবান কথায় আমি প্রভাবিত হয়েছি।

উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে চারুকলা বিষয়ে পড়ার আগ্রহ এই তরুণ চিত্রশিল্পীর। তিনি বলেন, ‘চারুকলা নিয়ে পড়ার বেশ আগ্রহ আছে আমার। দেখি সামনে কী হয়। আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করব।’


নোবিপ্রবি/মাহফুজ/মাহি

রাইজিংবিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়