ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৭ ||  ০৬ সফর ১৪৪২

‘অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে’

মেহেদি রহমান নিকাশ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ১০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
‘অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে’

করোনার আকস্মিক থাবায় সবকিছু স্থবির। মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে যেন পেছন থেকে টেনে ধরেছে ওই অদৃশ্য শক্তি। মানুষ চায় কাজ করতে, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে। কিন্তু কোভিড-১৯ মানুষের সব ইচ্ছাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখলো। মানুষ চাইলেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব নিয়ে ফিরতে পারছে না স্বাভাবিক জীবনে। কারণ কোনো কিছুই স্বাভাবিক নেই। করোনাভাইরাসের আক্রমণে অন্য অনেক খাতের মতো ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা খাতও।

এমনিতেই বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে শিক্ষাকে নাগরিকদের জন্য অপরিহার্য করে তুলতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সরকারকে। নিম্ন-আয়ের মানুষের কাছে শিক্ষা এখনো বিলাসিতা। এরকম বাস্তবতায় কোভিড-১৯ শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়িয়েছে নির্ভরতা। অনেকটা বাধ্য হয়েই এখন সবাইকে এই পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়েছে।

সংসদ টিভির মাধ্যমে পাঠদানের উদ্যোগ ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান। কিন্তু আমাদের দেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তার ফল সবার ঘরে পৌঁছায় না। ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বাঁধা রয়েছে।

প্রথমত, আমাদের দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষের অনলাইন শিক্ষা বা ডিজিটাল শিক্ষার প্রতি সন্দেহজনক বা সংশয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। মানুষ এই মাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি অভ্যস্ত নয়। তারা এখনো মনে করেন শিক্ষাব্যবস্থা অফলাইনেই ফলপ্রসূ। অভিভাবকদের এই মানসিকতা অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।

দ্বিতীয়ত, দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এখনো ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। মফস্বল বা গ্রাম অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেটের ধীর গতি এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইন্টারনেট সেবাও সহজলভ্য নয়। দেখা যাচ্ছে সময়ে সময়ে ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে দূরদূরান্তের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনা খুবই কষ্টকর।

তৃতীয়ত, অধিকাংশ শিক্ষক এখনো ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা বা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। অনেকেই আবার শিক্ষার্থীদের সামনাসামনি যেভাবে প্রাণবন্ত পাঠদান করতেন, তারা হয়তো অনলাইনে সেভাবে শিক্ষার্থীদের কমিউনিকেট বা এনগেইজ করতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদেরও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের অনলাইন পাঠ বুঝতে সমস্যা হচ্ছে।

অফলাইনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে শিক্ষকরা যেসব কৌশল প্রয়োগ করেন, সেসবও প্রয়োগ করা যাচ্ছে না অনলাইনে। ফলে অনলাইন পদ্ধতি ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে না তেমন। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাবে। ঝরে পড়বে অসময়ে। যা কখনোই জাতির জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না।

 

লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

ঢাকা/মাহফুজ/মাহি

রাইজিংবিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়