RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৩ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিনলিপি

আশিকুর রহমান সৈকত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:২১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিনলিপি

করোনায় এখনও স্থবির বিশ্ব। সব কিছু স্বাভাবিকের মতো মনে হলেও দেশের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু না হওয়ায় ঘরবন্দি রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। 

এসময় কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, এ বিষয়ে জানাচ্ছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান সৈকত।

হায়দার আলী খান রনি, সভাপতি, জাককানইবি ক্যারিয়ার ক্লাব

আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এখন বন্ধ। প্রায় সবারই অলস সময় কাটছে এখন। কেউবা ব্যস্ত আছেন নতুন দক্ষতা অর্জনে। অনলাইনভিত্তিক ফ্রি কোর্স, সেমিনার, প্রতিযোগিতা কিংবা লাইভ শো-তে অংশগ্রহণ করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হলেও মনোবল হারাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ব্যাপক সেশনজটের আশঙ্কায় ভুগছি আমরা।

জুবায়েদ হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রংধনু-জাককানইবি

করোনা প্রকোপে সারা পৃথিবীই এখন অসুস্থ। প্রাণ খুলে কারোরই বলার সুযোগ নেই- আমি বেশ আছি। জীবনের তাগিদেই সবাই নিজের মতো করে জীবনযাপন করছেন। এই মহামারি রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত এর থেকে মুক্তি নেই। জীবনের তাগিদে কারো পক্ষেই আবার ঘরে বসে সময় কাটানোরও সুযোগ নেই। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিরাপদে চলতে হবে সবাইকে।

ইবনুল হায়দার নকিব, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাককানইবি স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব

স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে করোনা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দরকার শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। নইলে সামাজিক এবং পেশাগত দিক থেকে পিছিয়ে যেতে হবে। দক্ষতা আরও মজবুত করতে হবে। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এজন্য বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক কোর্স করছি। পাশাপাশি জবের প্রিপারেশন নিচ্ছি৷ সুস্থ থাকতে শরীর চর্চার অভ্যাস করছি। পরিবার পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি।

রাশেদ খান, সহ-সভাপতি, ডিবেটিং সোসাইটি, জাককানইবি

শিক্ষাজীবনে এত লম্বা ছুটি কখনো পাইনি। স্বাস্থ্যবিধির কারণে সময়গুলো পুরোটাই পরিবার কেন্দ্রিক। বন্ধুদের সঙ্গে সময় করে ভিডিওকলে যুক্ত হই। ভিডিওতেই আড্ডা, খুনসুটি আর ক্যাম্পাসের স্মৃতিচারণ করি। এছাড়া চাকরি পড়াশোনা ও অনলাইনে প্রয়োজনীয় কিছু কোর্স করছি। সুযোগ হলে মুভি দেখি। ডিবেটিং সোসাইটির দায়িত্বে থাকায় অনলাইন বিতর্ক, বিচার কার্য এবং ওয়ার্কশপ নিয়েও ব্যস্ত থাকি। একটাই ভাবনা-কবে এই মহামারি দূর হবে, আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবো কবে?

সানিয়াত তুর্য্য, সভাপতি, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, জাককানইবি

সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া যে এখনও নিরাপদেই আছি। সময় কাটাতে বিভিন্ন বই পড়ছি। নিজেকে সমৃদ্ধ করছি। অন্যান্য কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ করছি। এভাবেই সময়টা কেটে যাচ্ছে করোনার দিনগুলোতে।

সারজীল হাসান, সাধারণ সম্পাদক, সেভ দ্য টুমরো জাককানইবি

বন্ধের এই দীর্ঘ সময়টাতে অনেক শিক্ষার্থীই নিজেকে সম্ভাবনাময় করে তুলছেন। বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইন কোর্স করে যাচ্ছেন। কেউ অনলাইন বিজনেস করছেন। কেউ লিখছেন, কেউবা বই পড়ছেন। অনেকে করছেন ফ্রিল্যান্সিং। কেউ যুক্ত সমাজ সেবায়। তবে প্রত্যেকেই মহামারি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন৷

বীন ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক, জাককানইবি মডেল ইউনাইটেড নেশনস ক্লাব

এই সময়ে গ্রামে কিছু কাজ করেছি। করোনাভাইরাস কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি সাধারণ মানুষকে। গ্রামের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পড়িয়েছি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি শিক্ষা ক্যাম্পেইন করেছিলাম কিছু দিন আগে। পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছি। এই করোনা বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো, শিক্ষা, ব্যাবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে দিয়েছে। সবাইকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে সবাইকে।

সিফাত শাহরিয়ার প্রিয়ান, সাধারণ সম্পাদক, কনজিউমার ইয়ুথ বাংলাদেশ-জাককানইবি

করোনাকালে নিজের অজ্ঞতাকে আবিষ্কার করেছি অনেকভাবে। শহরের যান্ত্রিক সময়ের মধ্যে হঠাৎ একটা ব্রেক নিজেকে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি মনে করি, করোনার চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা হলো খাদ্যে ভেজাল মেশানো, কিংবা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি সমস্যাগুলো। সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

নিহার সরকার সাধারণ সম্পাদক, জাককানইবি প্রেসক্লাব

সারাবছর ক্যাম্পাস ক্যাম্পাস করা ছেলেটা এখন ঘরবন্দি। আবার যারা কেবল ক্যাম্পাস থেকে বাসায় আসতে চাইতো, তারা এখন ক্যাম্পাসে যেতে চায়। যারা টিউশন করে নিজে ও পরিবারকে চালাতো তাদের সেই পথও বন্ধ। তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই এখন। এর মধ্যে আশার আলো হয়ে কেউ কেউ ভালো উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন।

ইবি/মাহফুজ/মাহি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়