RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৫ ১৪২৭ ||  ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে অসুস্থ বাবার আকুতি

মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:১১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে অসুস্থ বাবার আকুতি

পেটে টিউমার থেকে দেখা দেয় ক্যান্সারের লক্ষণ। ফলে, অপারেশন করে কেটে ফেলতে হয় ডান কিডনি। ডাক্তার বলে দেন বাম কিডনিও ঝুঁকিতে। ২৫ শতাংশ কর্মহীন হয়ে পরেছিল আগেই। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৯৯১-৯২ বর্ষের শিক্ষার্থী এসএম পারভেজ। তিনি কিডনি সমস্যায় ভুগছেন ২০১৫ সাল থেকে।

রোগের সঙ্গে যুদ্ধে হয়তো শক্ত হাতের সৈনিক তিনি, কিন্তু জীবিকার যুদ্ধে পরাস্ত হতে হয়েছে তাকে। শারীরিক অক্ষমতায় কর্মহীন হয়ে স্ত্রী ও ছোট তিন সন্তান নিয়ে করুণভাবে জীবনযাপন করছেন তিনি। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপাঠী, অগ্রজ ও অনুজদের কাছে জানিয়েছেন সাহায্যের মানবিক আবেদন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক গ্রুপে সন্তানদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সাহায্যের আকুতি জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন এই গ্র্যাজুয়েট বাবা। তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে জটিল কিডনি রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘ চার বছর যাবত একটা কিডনি নিয়ে আল্লাহর অশেষ কৃপায় ভালোই ছিলাম। প্রিয় মানুষগুলোর সহযোগিতা এবং ভালোবাসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ ছিলাম। বর্তমানে সেই কিডনিটিও ৮০ শতাংশ  ড্যামেজ হয়ে গেছে। ক্রিটিটিন লেভেল ৮.৮৫। এই সময়ের মধ্যে আমি এবং আমার পরিবার চিকিৎসার খরচ বহন করতে করতে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। 

আমি তিন সন্তানের বাবা, ওরা এখন খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করে। আমি টাকার অভাবে ওষুধ তো অনেক দূরে, দুই বেলা দু’মুঠো ভাতও পাই না। তাই এই গ্রুপের কাছে আবেদন জানাই, আমার চিকিৎসার জন্য না হোক, আমার তিনটি ছোট বাচ্চার খাবারের জন্য আমাকে কিছু আর্থিক সহায়তা করুন, প্লিজ।’

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছিলেন তিনি। পরে ব্র্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক ও এনজিওতে কাজ করেন। সর্বশেষ কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি প্রজেক্টে। থাকতেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাড়িতে। ছোট সংসার মধ্যম উপার্জনে ভালোই চলছিল। কিন্তু পেটের টিউমার অপারেশনের পর থেকে পারভেজের জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ, যা তার জীবনের সূর্যকে ঢেকে দেয়।

আপারেশনের পর কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। কিডনি সমস্যায় খরচ হয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। জমানো অর্থ শেষ হয়। এরপর চেয়ে থাকেন অন্যের সাহায্যের আশায়। বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন তখন থেকেই সহযোগিতা করে আসছেন। ব্যবস্থাপনা বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা অর্থ সংগ্রহ করে তার চিকিৎসায় সহায়তা করেছিল। তিন বছর আগে তার স্ত্রী জোসনা পারভিন সুইটি একটি মুরগির ফার্ম তৈরি করেন। ফার্মের আয়ই একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু করোনার মধ্যে মুরগির দাম কমে যায়। বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।

জোসনা পারভিন সুইটি বলেন, ‘কতটা অসহায় জীবনযাপন করছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এত দিন শুভাকাঙ্ক্ষিদের সহায়তায় চলেছি। তিন ছেলের একজনেরও উপার্জন করার মতো বয়স হয়নি। জমিজমাও নেই যে কিছু করে খাবো। আর ওর যদি কিছু হয়ে যায়, তবে আর কী নিয়ে বাঁচবো?’

ব্যবস্থাপনা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘পারভেজের স্ট্যাটাসটি দেখার পর আমরা নির্বাহী কমিটির জরুরি জুম মিটিং করি। আমি আপাতত ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া জাহাঙ্গীর, অপুদের দিয়ে ফান্ড সংগ্রহের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তার ব্যাক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টে (০১৭৬৮৫৬০৭০৭) তাকে সাহায্য পাঠানো যাবে এবং একই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

ইবি/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়