RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বিসিএসে প্রথম হওয়ার গল্প শোনালেন রুহুল আমিন

তানজিন রোবায়েত রোহান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:০২, ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:০৩, ২১ অক্টোবর ২০২০
বিসিএসে প্রথম হওয়ার গল্প শোনালেন রুহুল আমিন

রুহুল আমিন শরিফ একজন বিসিএস যোদ্ধার নাম। তিনি ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেন। জীবনের প্রথম বিসিএস ছিল জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর। 

বিসিএস বা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন, দৈনন্দিন জীবনে পড়াশোনার নিয়মতান্ত্রিক ক্যালেন্ডার কেমন ছিল ও কখন থেকেই চাকরি বা বিসিএস-এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তানজিন রোবায়েত রোহান। 

রোহান: কেমন আছেন?

রুহুল আমিন: জি, ভালো আছি।

রোহান: বিসিএস প্রস্তুতিতে আপনি কোনো কোচিং সেন্টারে পড়েছেন বা প্রয়োজন আছে কি?

রুহুল আমিন: প্রথমত, আমি বিশেষ কোনো কোচিং করিনি। আমি মনে করি, বিসিএসে সফলতা পেতে পরিশ্রমের পাশাপাশি মনোবল ঠিক রাখতে হয়। কোচিং সেন্টারগুলো মনোবল ঠিক রাখতে অধিক চর্চা ও মটিভেশনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর দুর্বলতা বের করে আনে। শিক্ষকদের সহায়তা নিয়ে আমি আমার দুর্বলতা নিজেই বের করেছি এবং নিজেকে নিজে পরীক্ষার মাধ্যমে অধিক চর্চা করেছি। যাদের চর্চা ও মনোবলের ঘাটতি আছে, তারা কোচিং করতে পারেন এবং  চাহিদা অনুযায়ী সবাই করতে পারেন। কোচিং ও গাইড বইগুলো সাধারণত দিক নির্দেশনা দিয়ে যায়, কোচিং এবং গাইড বই অনুসরণ করে চর্চার স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা যায়। আমার অনুশীলনে আমি নিজেই কাজ করেছি কোন গাইড-বই বা কোচিংয়ের অনুসরণ ছাড়া। 

রোহান: পড়াশোনার ক্ষেত্রে আপনার দৈনিক রুটিন কেমন ছিল? 

রুহুল আমিন: সাধারণত আমার তেমন কোনো রুটিন ছিল না। যখন ইচ্ছে হতো, তখনই পড়তাম। আর আমার যেসময় মনে হয় পড়াশোনার উত্তম সময়, ওই সময়ই পড়তে বসতাম। আর পড়াশোনার জন্য সুনির্দিষ্ট রুটিন মাফিক নিয়মতান্ত্রিক সময় অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক ক্যালেন্ডার দরকার। সে অনু্যায়ী আমি আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিষয়সমূহকে ভাগ করে রুটিন অনুযায়ী পড়েছি। 

কখনো বেশি পড়তাম, কখনো কম। পরীক্ষার আগে সিলেবাস এবং আগের প্রশ্ন পর্যবেক্ষণ করে দেখি বেশিরভাগ প্রশ্নই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক থেকে আসা। আমি যেহেতু টিউশন করতাম, সেতেতু আমার এ সম্পর্কে দারুণ ধারণা ছিল। 

রোহান: বিসিএস পরীক্ষার্থীর মনে কী ধরনের প্রশ্ন জাগে? 

রুহুল আমিন: প্রথমত বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জাগে, কীভাবে যথা সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জাবে ও প্রিলিতে প্রশ্নগুলো সহজ হবে কি না, আবার যথা সময়ে শেষ করতে পারবো কি না। 

এরপর লিখিত পরীক্ষায় গেলে প্রশ্ন জাগে যে, এত লেখা কীভাবে শেষ করবো? যথা সময়ে শেষ করতে পারবো কি না ও প্রশ্ন কেমন হবে কমন আসবে কি না? আমি বলবো, রিটেনের জন্য দ্রুত লেখার চর্চা ও ভালোভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর আয়ত্ত করার মাধ্যমে রিটেনে সফলতা পাওয়া যাবে।

ভাইবাতে গিয়ে মনোবল ও সাহসের ঘাটতি থাকে। তাই ভাইবাতে ক্রিয়েটিভ প্রশ্নোত্তর আয়ত্ত করার পাশাপাশি অধিক মনোবল, সাহস ও নিজের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। 

রোহান: আপনি কোনো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন ও সেগুলোতে সফলতা পেয়েছেন কি না? 
রুহুল আমিন: আমি স্কুল, কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি ও বিভিন্ন পর্যায়ে পুরস্কারও পেয়েছি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছি।

রোহান: বিসিএসে সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা কেমন?

রুহুল আমিন: আসলে আমরা দৈনন্দিন জীবনে সব ভর্তি পরীক্ষা, ক্লাস পরীক্ষা, চাকরির পরীক্ষাসহ অন্য পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আর বিসিএসেও তার ব্যতিক্রম নয়, বরং বিসিএসে সাধারণ জ্ঞানের গুরুত্ব অত্যধিক। প্রিলির একটা বিশাল অংশ সাধারণ জ্ঞান। তাই অধিক গুরুত্বের সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাময়িকী, পত্রিকা, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি ইত্যাদি নিয়মিত পড়তে হবে। 

রোহান: চাকরির ও বিসিএসের প্রস্তুতি কি একই সময়ে নিয়েছেন, নাকি ভিন্ন সময়ে?

রুহুল আমিন: সবকিছু বন্ধ রেখে আলাদাভাবে কখনোই বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। দৈনন্দিন পড়াশোনার মধ্যে দিয়েই সব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। আর আমি টিউশন করতাম। সে অনুযায়ী টিউশন করাকালে কিছুটা পড়া হয়ে যেত, যেহেতু বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ক্লাস থেকেই আসে। 

রোহান: আপনি ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ব্যাংকে চাকরি ও চাকরির পরীক্ষার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করেন।

রুহুল আমিন: ব্যাংকে চাকরির পরীক্ষা অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার মতোই, তবে কিছুটা ব্যতিক্রম। আর আমার চাকরির অভিজ্ঞতা একেবারেই কম। আমি বেশি চাকরির পরীক্ষাও দেইনি।     

আমি ২০১৮ সালে সম্মিলিত ব্যাংক পরীক্ষায় অংশ নেই ও ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অংশ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছি নোয়াখালীর হাতিয়া শাখায়। এর মধ্যেই ৩৮তম বিসিএসে প্রসাশন ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করে সুপারিশ প্রাপ্ত হই। এটাই জীবনের প্রথম বিসিএস ছিল।                  

রোহান: নতুন বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?

রুহুল আমিন: নতুন বিসিএস পরীক্ষার্থীদের আমি বলবো, ভালো করে সিলেবাস অনুযায়ী প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ পড়া ও খুঁটিনাটি বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত করতে। অধিক চর্চা, পরিশ্রম ও মননশীলতার মাধ্যমে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

রোহান: আপনার এ সফলতার পেছনে কাদের অবদান ছিল? 

রুহুল আমিন: প্রত্যেক সন্তানের সফলতার পেছনে মা-বাবার অবদানই বেশি থাকে। আমার মা-বাবার অবদান ছিল, তারা আমার জন্য দোয়া করেছেন। এছাড়াও শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজনদের সবার দোয়া ও সহযোগিতায় আমি আমার এই সফলতা অর্জন করেছি।          

রোহান: এ সফলতা নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

রুহুল আমিন: আমরা জানি পরিশ্রমের একটা ফল থাকে। আর আমার এটা পরিশ্রমের ফল ও এতে আমি খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আমি দেশের জন্য ভালোভাবে কাজ করতে চাই ইনশাআল্লাহ। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। 

কুমিল্লা/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়