RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১০ ১৪২৭ ||  ০৬ রবিউস সানি ১৪৪২

১২ বারের মতো স্বর্ণপদক পাওয়ার অপেক্ষায় অনি

মানজুরুল ইসলাম সাজিদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫০, ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৬:০০, ২৮ অক্টোবর ২০২০
১২ বারের মতো স্বর্ণপদক পাওয়ার অপেক্ষায় অনি

মাত্র দুই বছর বয়স থেকেই তালযন্ত্রের প্রতি খুবই আকৃষ্ট সে। দিনে দিনে আরও ভালোবাসা বাড়তে থাকে। সে যখনই তালযন্ত্র সামনে পেতো, তখনই খুব আনন্দ পেতো। সেই তালযন্ত্রই আজ তাকে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। বলছি, বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি পিসি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ দেবনাথ অনির কথা। 

অনির বাড়ি বাগেরহাট জেলা সদরে। বাবা অরিন্দম দেবনাথ একজন পেশাদার সাংবাদিক। মা স্বপ্না দেবনাথ একজন গৃহিণী।

তালযন্ত্রের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে মা-বাবা লেখাপড়ার পাশাপাশি এ দিকে মনোনিবেশ করালেন ছেলেকে। পাঁচ বছর বয়সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করে অনি। শুরু হয় নতুন জীবনে পথচলা। সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে হাতে খড়ি হয় তবলা বাজানোর। তবে, হাল ছাড়েনি পড়ালেখার। পাশাপাশি নিয়মিত চলে তবলা প্রশিক্ষণ। সব ধরনের সহযোগিতা ও সাহস দিয়েছেন মা স্বপ্না দেবনাথ ও বাবা অরিন্দম দেবনাথ।

তবে, তবলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি অনি। তার ভালো লাগার বাদ্যযন্ত্রগুলোও কিনে দিলেন বাবা অরিন্দম। শুধু বাদ্যযন্ত্র কিনে শেষ করেননি, নিয়েছেন   দেশের সর্বোচ্চ গুণী শিক্ষকের কাছে প্রশিক্ষণ দিতে। অনিরুদ্ধ দেবনাথ অনি দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন সময়ে নিজের ইচ্ছায় বাবা কিনে দেন ‘হাওয়াইয়ান অ্যাকুস্টিক গিটার’। তার দিদি সংগীতে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় পরপর তিনবার জাতীয় পুরস্কার পান। সে কারণে আগ্রহ হয় তার জাতীয় শিশু অধিকার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। 

দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নকালীন সময়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘হাওয়াইয়ান অ্যাকুস্টিক গিটার’ বিষয়ে অংশ গ্রহণ করে। সর্বপ্রথম উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান, তারপর জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান, বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান ও সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করে অনি। তারপর থেকেই ইচ্ছা জাগে প্রতিবছরই জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার।

২০১০ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘দোতরা’ বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করে। ২০১১ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’য় অংশগ্রহণ করলে উপজেলা পর্যায়ে বাদ পড়ে সে। থেমে থাকেনি অনির অদম্য ইচ্ছাশক্তি। ২০১২ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার তারিখ নির্ধারিত হয়। তখন তবলা বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আবারও জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করে অনি। 

২০১৩ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে আবারও প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন, ২০১৪ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘দোতরা’য় দ্বিতীয় স্থান অধিকার, ২০১৫ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘হাওয়াইয়ান অ্যাকুস্টিক গিটার’ বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করে সে। তারপর ২০১৬ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে আবারও প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন, ২০১৭ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে আবারও প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করে অনি। 

২০১৮ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করে। এরপর ২০১৯ সালে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে আবারও প্রথম স্থান অধিকার করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক অর্জন করে। এ বছরেও জাতীয় শিশু  পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তবলা’ বিষয়ে অংশগ্রহণ করে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান, তারপর জেলা পর্যায় প্রথম স্থান, বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। কিন্তু বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতির জন্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা স্থগিত রয়েছে। 

শুধু বাধ্যযন্ত্রে নয়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ-প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে অনি।

অনিরুদ্ধ দেবনাথ অনি বলে, ‘আজ আমার এই প্রাপ্তির পেছনে আমার মা-বাবার অবদান অনস্বীকার্য। আমার মা খুব ভালো গান করেন, হয়তো তার কাছ থেকেই আমার এই সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি অনুরাগটা এসেছে। আমি বর্তমানে ভারতে স্বনামধন্য ওস্তাদের কাছে তবলা বাজানো প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’ 

‘আমি জানি, শিক্ষা গ্রহণের কোনো শেষ নেই। আমি সবার কাছে আশীর্বাদ প্রার্থী, সবাই আমার জন্য আর্শীবাদ করবেন, আমি যেন এমনিভাবেই উত্তরোত্তর সফলতা অর্জন করতে পারি। আমি যেন একজন সুচিকিৎসক হয়ে দেশবাসীর সেবা করতে পারি ও সর্বোপরি একজন আদর্শ মানুষ হয়ে উঠতে পারি, বলে অনি। 

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বাদশ শ্রেণি, সরকারি পিসি কলেজ। 

বাগেরহাট/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়