RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৬ ১৪২৭ ||  ০৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গৌরব ও সম্ভাবনার ৩ দশকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় 

অধ্যাপক মো. শরীফ হাসান লিমন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১০, ২৫ নভেম্বর ২০২০  
গৌরব ও সম্ভাবনার ৩ দশকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় 

আজ ২৫ নভেম্বর, ২০২০ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গেজেট আকারে ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশ পায় আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ। ১৯৯০ সালের জুন মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০ জাতীয় সংসদে পাস হয়। নবম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ দিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। 

দেখতে দেখতে তিন দশক পূর্ণ করল বিশ্ববিদ্যালয়টি। ১৯৯০-৯১ এ ৪টি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি আজ ৮টি স্কুলে ২৯টি ডিসিপ্লিনের সাত সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত ক্যাম্পাস।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ একরের ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ‘নীড় ছোট ক্ষতি কি, আকাশ তো বড়’ জপে স্বপ্ন বুনে চলে। এই ‘নীড়’ আর ‘আকাশ’ শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের জন্য কখনো মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়, কখনো ভিন্ন ভিন্নরূপে আবির্ভূত হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপূর্ণ বিকাশে এই ‘নীড়’ আর ‘আকাশ’ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রশান্তির নীড় থাকলে আকাশপানে দৃষ্টি মেলার সুযোগ পাওয়া যায়। এই নীড়টি যদি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জ্ঞান-চর্চা আর গবেষণার পরিবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে নতুবা আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। খুবির বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রকৃতি অনুযায়ী যে পরিমাণ ও ধরনের গবেষণাগার প্রয়োজন সেটা এখনো অপ্রতুল। মাঠ গবেষণাগারের কথা বলাই বাহুল্য। গবেষণা শুধু শিক্ষার মানোন্নয়ন নয়, দেশের অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে অপচয় রোধ করে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, গবেষণা সহায়তায় শুধু সরকারি নয় বেসরকারি উদ্যোগ ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির চাইতে সংখ্যা বৃদ্ধিতে আগ্রহ ও বেসরকারি উদ্যোগ তথা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে স্বত্বাধিকারীদের পরিকল্পনা ও আগ্রহের অভাব। 

তদুপরি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সীমিত সহায়তায় গবেষণার যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, তা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আজকের এই দিনে তাই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখতে চাই। দেখতে চাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাগার হয়ে উঠেছে বিশ্বমানের। রাষ্ট্রীয় খরচ আর বৃত্তিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের জ্ঞান অর্জন বিদেশমুখী না হয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হয়েছে আর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজ যোগ্যতায় সেক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। 

স্বপ্ন দেখি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাটেলাইট ক্যাম্পাস ও গবেষণাগার পৌঁছে গেছে এতদঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের আঙিনায়। শিক্ষার মানোন্নয়নে বই-জার্নালের অভাববোধ দূরীভূত হয়েছে ও তথ্য-প্রযুক্তির অবকাঠামো ও সেবার পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হয়েছে নিশ্ছিদ্র ও টেকসই। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ডিসিপ্লিন খোলার ক্ষেত্রে দেশ তথা এ অঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে। নতুন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা অন্যান্যদের মতো প্রথমদিন থেকেই সজ্জিত শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণাগার ব্যবহার করার সু্যোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে, এ স্বপ্নও দেখি। 

তিন দশকের পথচলার হিসাব-নিকাশ নিয়ে কথা বললে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, হতে পারে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবও। সেসব হিসাব-নিকাশ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির সূক্ষ্ম হিসাব ভবিষ্যতের পথচলার পথে বাঁধা না হয়ে পাথেয় হোক সেটিই প্রত্যাশা। 

লেখক:  অধ্যাপক ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

খুবি/মশিউর/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়