RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১১ ১৪২৭ ||  ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি রাঙামাটি!

সাহেদুজ্জামান সাকিব || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৮, ২৯ নভেম্বর ২০২০  
ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি রাঙামাটি!

দু’ভাবে শিক্ষা অর্জন করা যায়। এক. বই পড়ে, দুই. ভ্রমণ করে। ভ্রমণ শুধু আনন্দই দেয় না, হাতে-কলমে শেখায়। দীর্ঘ দিন একঘেয়ে পরিবেশে থাকার পর অবসন্নতা কাটাতে একটা ভ্রমণ হতে পারে সবচেয়ে ভালো দাওয়াই (ওষুধ)। এমনই একটি ভ্রমণের গল্প শোনাবো আজ। 

আমাদের ভ্রমণটা হওয়ার কথা ছিল গত মার্চের ২৮ তারিখ। কিন্তু করোনা মহামারির এক ঝড়ো হাওয়ায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় গোটা পৃথিবী। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহামারি গ্রাস করে ফেলে গোটা বিশ্বকে। জীবন বাঁচাতেই মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছিল, ভ্রমণের চিন্তা মাথায় আসা তখন উচ্চাভিলাষ বটে! এই দুঃসাহস দেখানোর সাহস কারও হয়নি। দীর্ঘ দিন বাড়িতে থাকায় আমিও ভুলে গেছি পূর্ব নির্ধারিত ভ্রমণটির কথা। 

সপ্তাহ খানেক আগে এক বড়ভাই ফোন দিয়ে জানালো বান্দরবান ভ্রমণের কথা। ঠিক দু’দিন পরে ভাইকে এনশিওর করলাম যে আমিও যাচ্ছি বান্দরবান ট্যুরে। ২১ নভেম্বর রাতে আমাদের ভ্রমণের তারিখ ঠিক করা হয়েছে। আমিও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে লাগলাম। শ্যামলি শিশুমেলার সামনে থেকে রাত ১০টায় বাস ছাড়বে বলে আমাদের জানানো হলো। ভ্রমণের দিন দিনভর প্রস্তুতি নিতে লাগলাম বান্দরবানকে ঘিরে। 

আমার সঙ্গে সমান তালে জো দিয়ে যাচ্ছে বন্ধুবর রাব্বি হাসান। ইউটিউবে বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোর রিভিউ দেখে আর ব্যাগ গোছাতেই আমাদের সারাদিন কেটে গেলো। আমার ব্যাগে কি কি নেবো এই সিদ্ধান্ত নিতেই আমার অনেক সময় কেটে গেছে। শেষ পর্যন্ত রাব্বির মধ্যস্থতায় দুটি টি-শার্ট, একটি ফুল হাতা শার্ট, একটি ট্রাউজার ও একটি হুডি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকলাম! 

জিন্স প্যান্টের সঙ্গে টি-শার্ট পরে ব্যাগ-প্যাক নিয়ে রাত ৮টার দিকে আমরা শ্যামলির দিকে রওয়ানা দিলাম। ৯টার মধ্যেই আমি আর রাব্বি শ্যামলিতে হাজির। রাত ১০টায় আমাদের বাস ছাড়লো। বাসের নাম ডলফিন। বাসে ওঠে রাব্বিসহ কয়েকটা সেলফি তুলে আমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতে লাগলাম। দূরের জার্নিতে গাড়িতে উঠেই আমার ঘুমানোর অভ্যাস। মাঝরাতে রাব্বির ডাকে ঘুম ভাঙলো। ওঠে দেখি বাস কুমিল্লায় এসে দাঁড়িয়েছে। ফ্রেশ হয়ে দুজনে হালকা নাস্তা করে নিলাম। খানিক পরে বাস আবার চলতে শুরু করলো। 

এবারের গন্তব্য বান্দরবান। কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে আমি আবারও ঘুমিয়ে পড়লাম। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে বাস ছুটে চলেছে তার আপন গতিতে। আর আমি স্বপ্নের দেশে কল্পিত বান্দরবানে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ততক্ষণে বাস গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। আবারও রাব্বির ডাকেই ঘুম ভাঙলো। ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ছয়টা বাজে। এবার ঘুম থেকে ওঠে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না! পুরাই থতমত খেয়ে গেলাম! আমাদের যাওয়ার কথা বান্দরবান, কিন্তু বাস এসে দাঁড়িয়েছে রিজার্ভ বাজার, রাঙামাটি! ভাবলাম কোথাও কোনো ভুল হলো কি না! কিন্তু না, কোনো ভুল হয়নি। এক বড়ভাই নিশ্চিত করলো যে আমরা ঠিক জায়গায়ই এসেছি। আমাদের বান্দরবান ট্যুরটা কেনসেল করে রাঙামাটি ট্যুর করা হয়েছে। 

আমি মনে মনে কিছুটা হতাশ হলাম! যদিও সেটা অল্প সময়ের জন্য। রাঙামাটির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য হতাশাকে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি। গাড়ি থেকে নেমে সবাই হোটেলের দিকে গেলাম। হোটেলে আমাদের জন্য আগে থেকেই রুম বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে। আমাদের হোটেলের নাম ‘হোটেল গ্রিন ক্যাসেল’। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিলাম। সাড়ে ৭টার দিকে সবাই বের হলাম রাঙামাটি দেখতে। রিজার্ভ বাজার থেকে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের বাসভবন পেরিয়ে আমরা লঞ্চ ঘাটের দিকে গেলাম। সেখানে আগে থেকেই আমাদের জন্য একটা বড়সড় দোতলা বোট ভাড়া করে রাখা হয়েছে। বোটে দাঁড়িয়ে কুয়াশা ঘেরা রাঙামাটির স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারলাম না। 

রাব্বির ছবি তোলার হাত বেশ ভালো। যদিও আমি তার ছবি ভালোভাবে তুলতে পারি না বলে সে বরাবরই আমাকে পচায়। আমরা ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে বোটের ভেতরের সিটে গিয়ে বসলাম। জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার জন্য জানালার পাশের সিটটা আগেভাগেই দখল করে নিলাম। বোট ছেড়ে দেওয়ার খানিক পরেই কর্তৃপক্ষ নাস্তা দিয়ে গেলো। তিনটি পরোটা আর ডালভাজি দিয়ে সকালের নাস্তা সারলাম।

চারপাশে উঁচুনিচু পাহাড়ের পাদদেশে কাপ্তাই লেক। এই কাপ্তাই লেকের উপর দিয়ে চলেছে আমাদের বোট। জানালা দিয়ে কাপ্তাই লেকের নীল জল আর পাহাড়ে ঘেরা নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মনের অজান্তেই শুকরিয়া আদায় করলাম। আমাদের বোটটি ধীরে ধীরেই চলছিল। মাঝে মাঝে পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে কিছু স্পিডবোট ছুটে যাচ্ছিল। দ্রুতগতির এই নৌযানগুলো কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। 

আমাদের এবারের গন্তব্য হচ্ছে সুবলং ঝরনা। সুবলং ঝরনায় যাওয়ার আগে বোট গিয়ে চেকপোস্টে দাঁড়ালো। কোস্টগার্ডরা প্রয়োজনীয় চেকিং সেরে নিলে বোট চলতে শুরু করলো ঝরনার দিকে। খানিক পরেই আমরা সুবলং ঝরনার কাছে পৌঁছলাম। চারদিকে উঁচু উঁচু পাহাড় আর পাহাড়। একটা পাথরের পাহাড়ের গাঁ বেয়ে নেমে এসেছে সেই জলপ্রপাত। দুই-তিন ভাগ হয়ে পানি পড়ছে, কোনো ভাগে বেশি আবার কোনো ভাগে কম। পানির গতিও কখনো বেশি বা কখনো কম। 

ঝরনার কাছে যেতে হলে কিছু হালকা কাদা-পানি দিয়ে যেতে হয়। তারপর আস্তে আস্তে করে খুব সাবধানে পাথরের পাহাড় বেয়ে ঝরনার পানি ছুঁতে হয়। ইচ্ছে করছিল পানিতে গোসল করি। কিন্তু ঝরনার পানি পাহাড়ের গাঁ বেয়ে পাদদেশে নামার কারণে গোসল করার মতো অবস্থা ছিল না বলে মনে হলো। যদিও তাতেই কেউ কেউ গাঁ ভিজিয়ে উপভোগ করার চেষ্টা করছিল। সুবলং ঝরনায় এক ঘণ্টার মতো কাটিয়ে গোটা বিশেক ছবি তুলে আবার আমরা বোটে গিয়ে উঠলাম।

সুবলং ঝরনা থেকে বোট আবার চলতে লাগলো চেকপোস্টের দিকে। তবে এবার আর চেকিং করার জন্য নয়। এবারের উদ্দেশ্য চেকপোস্ট সংলগ্ন বারকল উপজেলা ঘুরে দেখা। বারকল উপজেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে সুউচ্চ পাহাড়গুলো। পাহাড়ে ওঠার জন্য এখানে সিড়ি তৈরি করা আছে। চেকপোস্ট দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দায়িত্বরত কয়েকজন জোয়ান আমাদের পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার জন্য উৎসাহিত করলো। আমরাও আগ্রহ নিয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। উঠতে উঠতে কতবার যে হাঁপিয়ে গেছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। 

প্রায় আধা ঘণ্টা সিড়ি বেয়ে উঠার পর আমরা পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছলাম। পাহাড়ের চূড়ায় ওঠে যা দেখলাম তা জীবনে ভোলার মতো নয়। সেখানে কি কি দেখেছি তা আর ব্যাখা করার প্রয়োজনবোধ করলাম না। আপনারা নিজের চোখেই দেখে আসবেন। পাহাড়ে উঠার চেয়ে নামা একটু বেশিই কষ্টের। পেটে ক্ষুধা নিয়ে পাহাড় থেকে নামা আমার জন্য যেন মরার উপর খারার ঘাঁ হয়েই দাঁড়ালো। অনেক কষ্টে নিচে নেমে যেন স্বস্তি ফিরে পেলাম। 

পাহাড় থেকে নেমে পাহাড়িদের জীবনাচরণ দেখতে আমরা সুবলং বাজারের দিকে গেলাম। বাজারে পাহাড়ি নারীরা বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। পাহাড়ি ডাব, পাহাড়ি কলা, পাহাড়ি শুকনো বড়ইসহ নানা ফলমূল বিক্রি করছেন তারা। কেউবা বসেছেন নানারকম হস্তশিল্প নিয়ে। আমি আর রাব্বি দুটো ডাব নিয়ে ডাবের পানিতে তৃষ্ণা মেটালাম। বারাকল উপজেলা ঘুরে দেখে আমরা আবার বোটে ফিরে আসলাম। 

১২টার দিকে বোট চলতে শুরু করলো পলওয়েল পার্কের দিকে। রাঙামাটি জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের কোল ঘেঁষে তৈরি হয়েছে পলওয়েল পার্ক। বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ, অভিনব নির্মাণশৈলী ও নান্দ্যনিক বসার স্থান পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা। আমরা পলওয়েল পার্কে নেমে একে একে ঘুরে দেখলাম পাহাড়ি কৃত্রিম ঝরনা ও কলসি ঝরনা, ক্রোকোডাইল ব্রিজ, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শিল্প, লেকভিউ পয়েন্ট, হিলভিউ পয়েন্ট, লাভ লক পয়েন্ট, মিনি চিড়িয়াখানা, ফিশিং পিয়ার, ক্যাফেটেরিয়া, সুইমিংপুল ও পলওয়েল কটেজ। অনেকে এখানে লেকের পানিতে গোসল করে নিলো। অবশ্য আমার শরীর খারাপ থাকায় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পানিতে নামিনি। 

পলওয়েল পার্ক ঘোরা শেষে আমরা রওনা হলাম ঝুলন্ত ব্রিজের দিকে। ঝুলন্ত ব্রিজ নিয়ে আমার ব্যাপক কৌতূহল ছিল যা আজ পূরণ হতে চলেছে। আমরা ঝুলন্ত ব্রিজে নামার আগে বোটেই দুপুরের খাবার সেরে নিলাম। রুই মাছ, চিংড়ি ভর্তা, সবজি আর ডাল দিয়ে তৃপ্তি সহকারে খেলাম আমরা। খাওয়া শেষ করেই আমরা ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে নেমে পড়লাম। কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্মিত ৩৩৫ ফুট লম্বা এই ঝুলন্ত ব্রিজ। রাঙ্গামাটিতে ভ্রমণে আসা সব পর্যটকই ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসাবে খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি দেখতে আসেন। 

কাপ্তাই লেকের বিচ্ছিন্ন দুই পাড়ের পাহাড়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে দিয়েছে রঙিন এই ঝুলন্ত সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। সেতুটি পারাপারের সময় সৃষ্ট কাঁপুনি আমাকে যেন এক ভিন্ন দ্যোতনা এনে দিলো। সেতু পার হয়ে পাহাড়ের উপরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্ষয়িষ্ণু জীবনযাপন দেখতে গেলাম আমরা। আদিবাসীরা তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প, আচার, শাল, চাদর, চকলেট বিক্রি করছিল। আমরা আমাদের পছন্দমতো কিছু জিনিসপত্র কিনলাম।

ঝুলন্ত ব্রিজ দেখা শেষে ৪টার দিকে আমরা রাজবন বিহারের দিকে রওয়ানা হলাম। মূল শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত রাজবন বিহার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হলেও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবারই এখানে প্রবেশাধিকার রয়েছে। বোট থেকে নেমে রাজবন বিহারে ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে চোখে পড়লো এক স্বর্গীয় সিড়ি। ইচ্ছে করলে অনুমতি নিয়ে যে কেউ এখানে উঠতে পারে। রয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধ্যানের বিশাল গর্ত। আরও আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় মূর্তি। এখানকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জিনিস হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মগুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে) মৃতদেহ ভক্তদের দেখার জন্য এখানে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের রাজবন বিহার ত্যাগ করতে হলো। 

রাজবন বিহার থেকে আমরা বোটে চড়ে সোজা লঞ্চঘাটে চলে আসলাম। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। শেষবারের মতো বোট থেকে নেমে আমরা ফিরে আসলাম হোটেলে। হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে পাহাড়ি পেঁপে, কলা ও আপেল দিয়ে নাস্তা করলাম। এবার আমাদের ফেরার পালা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমরা বাসে গিয়ে উঠলাম। ঠিক ৮টায় বাস ছাড়লো। রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার থেকে চট্টগ্রাম-কুমিল্লা হয়ে আমরা ঢাকায় ফিরে আসলাম। আর সাথে নিয়ে আসলাম পাহাড়ে ঘেরা রাঙামাটির একঝাঁক রঙিন স্মৃতি। 

লেখক: শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী, সরকারি তিতুমীর কলেজ।

ঢাকা/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়