RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১১ ১৪২৭ ||  ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বুয়েটে সাহিত্যের মহোৎসব

বিভা পোদ্দার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:০০, ১ ডিসেম্বর ২০২০
বুয়েটে সাহিত্যের মহোৎসব

‘কবিতা লিখে যে কিছুই পাওয়া যায় না, তা তো সবাই জানি। অর্থ, খ্যাতি, কীর্তি, কোনো কিছুই পাবার সম্ভাবনা নেই। তবু রাত জেগে কেন এই আয়ুক্ষয় তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। এ এক সাঙ্ঘাতিক গুপ্ত নেশা। সেজন্যই অনেকে কৈশোরে-যৌবনে দু’চার বছর কবিতা লেখার হাত পাকায়, তারপর লেখালেখি ফেলে বহুদূর সরে যায়।’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো বেকারজীবনে খানিক অভিমান করেই এই কথাগুলো লিখেছিলেন। এক দেশে ছিল এক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। আর তাতে ছিল ভয়ানক পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা। এরই মাঝে খানিকটা দলছুট কয়েকটা ছেলেমেয়ে গাণিতিক সূত্রের সঙ্গে লড়াই করে, ল্যাবের যন্ত্রের সঙ্গে সংঘাত করেও হয়তো ক্লাসের শেষে, পড়ন্ত বিকেলে হাফওয়ালে বসে প্লাস্টিকের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সুখ-দুঃখের আলাপ চারিতায় মিলিয়ে দিত। আর সারাদিনের ক্লান্তি, না পাওয়ার আক্ষেপ, প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তির দ্বন্দ্ব মনটাতে জমিয়ে তুলতো ঘন কালো মেঘ! 

কিন্তু সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি বা ঝড়ের বদলে হলো এক সুনীল শব্দবৃষ্টি! যার নাম দিল ‘কবিতা’। পর দিন সকালে দেখতে পেলো চোখের বৃষ্টি কবিতা হয়ে ঝরে যাওয়ায় মনে এক অনাবিল শান্তি, আগের দিন গ্লানি মুছে গিয়েছে। সমমনা আরও কিছু মানুষ, যাদের জীবনে শব্দ বৃষ্টি হয়েছে, তারা একত্র হলো, মিলিত সিদ্ধান্তে গড়ে তুললো এক নিজস্ব ‘বুয়েট সাহিত্য সংসদ’।

সেই থেকে দিনগুলো ভালোই কাটছিল। প্রায় নিয়মিতই সভা হতো, সংসদের অধিবেশন হতো। কিন্তু সুখের দিন দ্রুত যায়, দুই হাজার বিশ সালের বিষ যেন মরণঘাতী। সবাই হয়ে রইল গৃহবন্দি। প্রমাণ গুণতে গুণতে দিন বয়ে চললো। সেই ভয়াল সময়ের ভয়াতুর চোখে তবুও আশা, খানিক ভালোবাসা আর আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। মনেও নাড়া দিয়ে উঠল কবিতার দল, পেন্সিল-কাগজে বয়ে চললো ঝরনা।

তারপর সেই দলছুট পড়ুয়ারা ভাবল কেমন হতো যদি ভার্চুয়ালি সংসদের কার্যক্রম চালানো যেত। সেই সূত্রেই ‘করোনার দিনগুলোতে সাহিত্য’ চালু করা হয়। এ পর্যন্ত ৬টি পর্বে মোহাম্মদ আজম, সুহান রিজওয়ান, নুহাশ হুমায়ন, সঞ্জয় দে, জাভেদ হুসেন ও শাহাদুজ্জামান তাদের অমূল্য সময় দিয়ে আমাদের আত্মার খোরাক যুগিয়েছেন।

নভেম্বর মাস আসতেই মন আনচান করে শুধু, পূর্বপরিকল্পিত ‘লিট ফেস্ট’ বুঝি বানচাল হতে বসল। এখন যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ! তবে কি হবে না এই বহুকাঙ্ক্ষিত মহোৎসব? সব অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে দলছুট পড়ুয়ারা পরিকল্পনা করে কেমন হয় যদি ‘নিউ নরমাল’ এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইনেই অনুষ্ঠিত হয় ‘বুয়েট লিট ফেস্ট’! যা ভাবা তাই কাজ। আসন্ন ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে চার দিনব্যাপী বুয়েটে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই সাহিত্যের মহোৎসব। 

তাতে থাকছে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতা। ‘হরবোলা’ নামাঙ্কিত এই প্রতিযোগিতাটি সৃজনশীল লেখা ও ডিজাইন (আর্ট ও ভিডিও তৈরি) এই দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে৷ আর প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত রয়েছে ৩০ হাজার টাকার সমমূল্যের পুরস্কার। এই প্রতিযোগিতায় যেকোনো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবেন। 

প্রতিযোগিতা গত ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে হয়েছে। চলবে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সব তথ্য পাওয়া যাবে “বুয়েট সাহিত্য সংসদ”-এর ফেসবুক পেজে। মূল উৎসবে অতিথি হিসেবে থাকবেন অত্যন্ত স্বনামধন্য লেখকরা। চমক হিসেবে থাকছে এক বর্ণিল সঙ্গীতসন্ধ্যার আয়োজন। 

বাঁধা-বিপত্তিকে তুচ্ছ করে এই অনিশ্চিত জীবনের মাঝেও বিকল্প পথে এই মহোৎসব পরিচালনা করার প্রেরণা যুগিয়েছেন স্বয়ং কবি গুরু-

‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়, খুলে যাবে এই দ্বার—
জানি জানি তোর বন্ধনডোর ছিঁড়ে যাবে বারে বার॥
খনে খনে তুই হারায়ে আপনা সুপ্তিনিশীথ করিস যাপনা—
বারে বারে তোরে ফিরে পেতে হবে বিশ্বের অধিকার॥’

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।  

বুয়েট/মাহি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়