RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪২৭ ||  ১২ রজব ১৪৪২

জবি ক্যাম্পাসে অবৈধ বসতি, বিপাকে প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৩, ২৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১১:৫৪, ২৩ জানুয়ারি ২০২১
জবি ক্যাম্পাসে অবৈধ বসতি, বিপাকে প্রশাসন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে অবৈধ বসতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একাডেমিক ভবন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান দখল করে বছরের পর বছর অবৈধভাবে বসবাস করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রশাসন থেকে দফায়-দফায় নোটিশ দিয়েও এসব অবৈধ বসতি ছাড়ার নামগন্ধ নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

গত ১৪ জানুয়ারি পুনরায় অবৈধ বসতি ছাড়তে নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একাডেমিক ভবনে কেউ রাত্রীযাপন বা বসবাস করতে পারবে না।

এরআগে গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর দখলকৃত জায়গা ছাড়তে নোটিশ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে। সেসময় ৭ দিনের মধ্যে দখল ছাড়তে বলা হয়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বর্ধিত করে প্রশাসন। তবে সময় পার হলে প্রশাসনের নির্দেশকে থোরায় কেয়ার করে অবৈধভাবে বসবাস করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রসায়ন বিভাগের ক্লাসরুমের পাশে সিঁড়ির নিচে বসতি গড়েছেন সামসুল আলম নামে ইতিহাস বিভাগের আরেক কর্মকর্তা। একই বিভাগের পাশে সিঁড়ি ও ক্লাসরুমের মাঝখানে নিজস্ব ঘর বানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার আবু ইমরান, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সেকশন অফিসার জাবেদ আলী খান ও বাংলা বিভাগের সেকশন অফিসার আক্তার হোসেন। অর্থনীতি বিভাগের ক্লাসরুমের সামনে সিঁড়ির নিচে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন ভূগোল বিভাগের সেকশন অফিসার সানভীব আহমেদ বাচ্চু। ভাষা শহীদ রফিক ভবনের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে ক্যাম্পাসের ড্রেন বন্ধ করে বসবাস করছেন ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার জামাল হোসেন।

এদিকে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কর্মচারীরাও ঘাঁটি গড়েছেন একাডেমিক ভবনগুলোতে। উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন আব্দুল খালেক, মো. টিপু, মো. আজিজ নামের তিনজন কর্মচারী। ভূগোল বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন বাসচালক মনির। পরিসংখ্যান বিভাগের সিঁড়ির নিচে থাকেন ভিন্ন ভিন্ন বিভাগের কর্মচারী হারুনুর রশিদ, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও মো. ফারুক। বজলুর রহমান ভবনে থাকেন কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক তাজুল ইসলাম ও বাসচালক খোকন। 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, একাডেমিক ভবনে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব বসতির জন্য ক্লাসরুমের পরিবেশ নষ্ট হয়। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খালি গায়ে, লুঙ্গি পড়ে, দাঁত ব্রাশ করতে করতে একাডেমিক ভবনে ঘোরাফেরা করা বিব্রতকর। 

এ বিষয়ে অবৈধভাবে বসবাস করা ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. জামাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নোটিশ পেয়েছি, আমি বাসা খুঁজছি, এ মাসের মধ্যেই আমি চলে যাবো।

এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির অবস্থান জানতে সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, কর্মকর্তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করতে পারা আমাদের দায়বদ্ধতা ছিল। তাদের থাকার জায়গা নেই, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তারা দীর্ঘ দিন ধরে রয়ে গেছে। এত দিন তারা প্রশাসনকে হয়তো বুঝিয়ে ভেতরে ছিল, যেহেতু প্রশাসন এখন মনে করছে বিষয়টা ভালো হচ্ছে না, সেহেতু তাদের এখন জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে।

কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, যারা ক্যাম্পাসে থাকছে, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আছে। এখন প্রশাসন যেহেতু তাদের চলে যেতে বলছে, তাদের জায়গা ছাড়তেই হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী ড. ওহিদুজ্জামান বলেন, আগেও তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের অনেকেই সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। আবেদন বিবেচনায় আমরা সময় বাড়িয়েছিলাম। এখন তারা যদি জায়গা না ছাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

জবি/তমাল/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়