Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

বইমেলা: প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে?

মোহাম্মদ রায়হান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ১০ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৮:১১, ১০ এপ্রিল ২০২১
বইমেলা: প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে?

করোনার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।  এরইমধ্যে চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই মেলা শেষ হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই পর্দা নামছে প্রাণের এই মেলার। কিন্তু লেখক, পাঠক, বিক্রেতা ও প্রকাশকদের পাওয়া-না পাওয়ার ঝুলিতে হিসাব কতটুকু মিলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কথা হয়েছে তাদের সঙ্গে।  জানিয়েছেন তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা। 

মেলায় এসেছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর অনেক বন্ধু মিলে বইমেলায় আসতাম। এবার করোনার কারণে বন্ধুরা নেই। আবার মেলায় তেমন পাঠক দেখছি না। আমি আসছি করোনার ভয়ে ভয়ে। আশা করি, আগামীবার ভালো হবে।’

লুভনা আক্তার নামে এক পাঠক আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘বইমেলার জন্য বেশ আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষা করছিলাম এবার। তবে মেলা শুরুর দিকে একটু অসুস্থও ছিলাম। এখন সুস্থ। তাই মেলায় এসেছি। কিন্তু পাঠক না থাকায় দম বন্ধ লাগছে।’

নাজমুল হুদা নামের আরেক পাঠক জানাচ্ছেন বই মেলার প্রতি আগ্রহ আর আক্ষেপের কথা। নাজমুল বলেন, ‘প্রতিবছরই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আসা হয়। মেলায় বিভিন্ন বই ও লেখকদের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বইয়ের লেখার সারমর্মগুলো বোঝার চেষ্টা করতাম প্রতিবারই। এবারও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে করোনার সংক্রমণ ফের দ্রুতই বাড়তে থাকায় এবার আর যেতে পারিনি। লেখকদের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তাই মনে আক্ষেপ রয়েছে। আমরা দ্রুতই করোনা থেকে মুক্তি চাই।’

এদিকে মেলায় পাঠকশূন্য থাকায় বরাবর লোকশানের সম্মুখীন হচ্ছেন স্টল নেওয়া পুস্তক বিক্রেতারা। লোকজন না এলেও প্রতিনিয়ত চলছে স্বাভাবিক খরচ। কিংবা কর্মচারীদের ভেতন-ভাতা গুণতে হবে মোটা অঙ্কের। মেলার স্টল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু বইমেলা পরিষদের স্টল নিয়ে বসেছেন আব্দুস সালাম। জানিয়েছেন মেলার সার্বিক পরিস্থিতির কথা। তিনি বলেন, ‘মেলা চলছে বটে, তবে যেহেতু লকডাউন কিংবা করোনার পরিস্থিতি, আবার মানুষের বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, এ অবস্থায় তো মেলায় আসা সম্ভব নয়। এবার আমাদের অনেকটা লোকসান হচ্ছে, যা আসলে উত্তোরণ করা সম্ভব নয়। লোকসান জেনেও আসছি, কারণ মেলা ও বইয়ের প্রতি মানুষের ঝোঁকটা ধরে রাখার জন্য। ’

বিক্রেতারা হিমশিম খেলেও লেখক মহলে মেলায় পাঠকশূন্যতার প্রভাব লক্ষ করা যায়নি। তাদের লক্ষ্য বইমেলা নয়, বরং পাঠকদের হাতে একটা ভালো বই উপহার দেওয়া। তাই করোনা মেলাকে জনশূন্য করলেও লেখকরা আছেন দিব্যি নিশ্চিন্তে। একাধিক লেখকের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

লেখক ফাতেমা মাহফুজ। মেলায় এবার হাজির হয়েছেন দুটি বই নিয়ে। তিনি বলেন, ‘কেভিড-১৯ এবং লকডাউনের প্রভাব সব জায়গাতেই। বইমেলাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সীমিত আকারে সব চললেও মেলাতে মানুষের সমাগম খুবই কম। তবে এ জন্য আমরা হতাশ নই। কারণ যারা প্রকৃত বইপ্রেমী, তারা সরাসরি মেলায় গিয়ে কিংবা অনলাইন থেকেই কিনে নেবেন। মজার ব্যাপার হলো, যেসব বই সুস্থধারার সংস্কৃতি তুলে ধরে, ওইসব বইয়ের চাহিদা সারাবছরই থাকে। বই শুধু মেলার ওপর নির্ভর করে না। তবে হ্যাঁ, বইয়ের প্রচারের জন্য হলেও অবশ্য বইমেলার প্রয়োজন আছে।’

প্রথম কবিতার বই নিয়ে হাজির হয়েছেন আমিনুল হুদা। তিনি বলেন, ‘আমার একটি কবিতার বই এবার মেলায় এসেছে। করোনার কারণে বইমেলায় পাঠকের আশানুরূপ পদচারণা নেই। পাঠকশূন্য এই মেলায় বইও বিক্রি হচ্ছে না। তবে বই যেহেতু একটা স্লো-প্রোডাক্ট, সেজন্য আমি এটা নিয়ে হতাশ নই। আর এখন মেলায় না গিয়েও পাঠক চাইলে অনলাইন শপগুলো থেকে বই সংগ্রহ করতে পারেন। সেজন্য আমার কথা হলো, মানুষ সব ধরনের জনসমাগম থেকে বিরত থাকুক, নিজে ভালো থাকুক এবং যতটা সম্ভব ঘরে থাকুক, ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করে বই সংগ্রহ করুক এবং এই অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য বই কিনে প্রকাশকদেরও একটু স্বস্তি দিক।’

ভাষাচিত্র প্রকাশনীর কর্ণধার খন্দকার সোহেল বলেন, ‘এবারের বইমেলা ছিল একটি প্রহসনের বইমেলা। কারণ, প্রকাশকরা যে সময়ে বইমেলা দিতে বলছিলেন, সে সময়ে দেওয়া হয়নি। সময়মতো বইমেলা দিলে মিডিয়াগুলো যতটুকু কাভারেজ দিতো, সেটা কিন্তু এবার আমরা পাইনি। এরপর ঘনঘন সময় পরিবর্তন, বিশেষ করে ৯-৫টা বইমেলা এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়, কারণ এই সময় মানুষের অফিস থাকে। অফিস রেখে তো মানুষ বইমেলায় আসবে না। ’

প্রায় একই কথা বললেন বাংলা নামার স্বত্বাধিকারী কবির আলমগীরও। তিনি বলেন, ‘এবারের বইমেলা যে প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করেছিলাম, সেটার অর্ধেকটা পূরণ হয়েছে। বাকিটা করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে হয়নি। বিশেষ করে পাঠকরা মেলায় আসতে পারেনি। লোকসান হয়েছে, তবে পাঠকরা যদি বই যেকোনো মাধ্যমে সংগ্রহ করেন, তাহলে লোকসানটা কিছুটা হলেও পূরণ হবে।’

//মাহি//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়