Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৮ ||  ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় সাড়া জাগিয়েছে ‘স্মার্ট-এলএমএস’

রাফসান বিন রাজ্জাক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১১ এপ্রিল ২০২১  
অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় সাড়া জাগিয়েছে ‘স্মার্ট-এলএমএস’

সারাদেশে যখন কোভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থা সামাল দেওয়া খুব কঠিন হচ্ছে, ঠিক তখনই একটি সুসংবাদ চমকে দেয়। সিলেটের এক উদ্যোক্তা আশার বাণী নিয়ে দাঁড়িয়েছেন দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। তার বানানো SLMS.APP দিয়ে ১০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর এক হাজারের অধিক অনলাইন ক্লাস, ক্লাস টেস্ট নেওয়া হয়েছে, যেটাকে বড় ধরনের পরিবর্তন বলছেন অ্যাপ ব্যবহারকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। 

উদ্যোক্তার নাম সৈয়দ রেজওয়ানুল হক। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা, এইচএসসি ২০১৯-২০ ব্যাচের প্রি-টেস্ট, টেস্ট এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কয়েকটি কলেজের অনার্স ও ডিগ্রির ইন-কোর্স পরীক্ষা এই অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়েছে।

এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ, দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ, সেরাজাবাদ রানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাঙামাটি সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সফটওয়্যার সল্যুশনটি ব্যবহার করছে। 

রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষক আতিউল শান্তি চাকমা বলেন, ‘প্রথমে শিক্ষার্থীরা একটু ভয়ে থাকায় আমরা মক টেস্ট নেই, অনলাইন পরীক্ষায় উপস্থিতি ছিল ৯৮ শাতাংশ। দেখা গেছে অফলাইনে পরীক্ষায় ১৫ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও এবার অংশগ্রহণ বেড়েছে। সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা বেশ ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এখানে পরীক্ষা গ্রহণে জালিয়াতির সুযোগ অনেক কম। প্রত্যেক ডিভাইসে সেট আলাদা হয়। উত্তরের অপশনও সংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে একসঙ্গে বসে পরীক্ষা দিতে গেলেও জালিয়াতির সম্ভাবনা কম। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বড় চ্যালেঞ্জ ইন্টারনেট গতির ওঠানামা।’

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নীলিমা চন্দ বলেন, ‘প্রান্তিক ও হাওরবেষ্টিত এলাকা সুনামগঞ্জে শিক্ষা-পরিসেবাগুলো আইসিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক সহজলভ্য করে তোলতে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষকদের একটি অংশ অনেকদিন ধরেই কাজ করছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার সমস্যা এই কাজকে ধীরগতি করে রেখেছিল।’ 

‘এছাড়াও সব শিক্ষকের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি আইসিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার কাজটিও সহজ ছিল না। তবে আমরা প্রায় সবগুলো সমস্যাকেই মোকাবিলা করেছি এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে শিক্ষার্থীদের জন্য আর অনেক মানসম্পন্ন পরিসেবা দেওয়া সম্ভব এই ধরনের সুবিধার ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে। আমাদের সামর্থের মধ্যে আমরা যতটা করতে চেয়েছি তার চেয়ে বেশি কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে Smart LMS টিম আমাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাদের এই প্রয়াসকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের এই আইসিটি ইন এডুকেশন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজে লাগলে আমাদের এই প্রচেষ্টা অনেকটাই সফল হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা সৈয়দ রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘টেকনেক্সট লিমিটেডের মাধ্যমে আমরা আরও বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজ করছি। কোভিডের পরেই আমাদের আইডিয়াটি বেশ সাড়া পেলো। এটি একটি অনলাইন ক্লাস, কন্টিনিউয়াস এসেসমেন্ট/ক্লাস টেস্ট, এমসিকিউ পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট নেওয়ার অনলাইন সফটওয়্যার সল্যুশন।’

তিনি বলেন, ‘অ্যাপটিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সাইনআপ ও লগইন করার সুবিধা রয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ড্যাশবোর্ড রয়েছে, যেখানে তারা আজকের ক্লাস, পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট দিতে পারে। মূলত, ফেসবুক লাইভ ও ইউটিউব ক্লাসের মাধ্যমে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের ফেসবুকে ও ইউটিউবে অপ্রয়োজনীয় কনটেন্ট দেখতে বাধ্য করছে এবং তাদের প্রচুর সময় নষ্ট করছে। আমরা ইউটিউব লাইভ এবং রেকর্ডেড ক্লাসের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের ড্যাশবোর্ডে শিডিউল অনুযায়ী দেখাচ্ছি।’

অ্যাপে প্রতিটি ক্লাসের সঙ্গে ওই বিষয়ে এসেসমেন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে সে অনলাইন ক্লাসটি দেখে ও এর বিষয়বস্তু নিয়ে সম্যক ধারণা রাখে। তার চলমান এসেসমেন্টের রেজাল্ট গ্রাফে দেখানো হয় পারফর্মেন্স হিসেবে, এতে সে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণে উৎসাহী হয় ও মনোযোগী হয়।

এছাড়াও নিয়মিত অনলাইন অ্যাসাইনমেন্টে জমা দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। সবার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সেটে র্যান্ডমলি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে এমসিকিউটাইপের পরীক্ষা নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডাইনামিক ওয়েবসাইট বানানো এবং অনলাইন ভর্তিও Smart LMS সফটওয়্যারটি দিয়ে করা যায় সহজেই।  

সৈয়দ রেজওয়ানুল হকের প্রতিষ্ঠানে ২২ জন কর্মী বর্তমানে কর্মরত আছেন। তাদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যালামনাই ম্যানেজমেন্ট ও অনলাইন পেমেন্ট সফটওয়্যার Graduate Network ৪৩টি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ব্যবহার করছে। ই-মেইল মার্কেটিংয়ের সফটওয়্যার MailBluster, যা BASIS, eCAB ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১১ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে।

রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘আমরা আগাতে চাই স্বপ্নের সোপানে। আমাদের আইটি উদ্যোক্তাদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন, যাতে আমরা সরকারের উন্নয়নমুখী কাজের সঙ্গী হতে পারি।’ 

লেখক: হেড অব কমিউনিকেশন্স, এক্সিলেন্স বাংলাদেশ।

ঢাকা/বেনজির/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়