Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৪ জুন ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪২৮ ||  ০১ জিলক্বদ ১৪৪২

ঈদ হোক নতুন যাত্রার সূচনা

মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪২, ১১ মে ২০২১  
ঈদ হোক নতুন যাত্রার সূচনা

করোনাকালে আবার এসেছে ঈদ, বছরের সবচেয়ে খুশির দিন। কিন্তু এ ঈদের আনন্দ এবারও অনেকটাই ম্লান। গত দুই ঈদের পর এবারের ঈদকে ঘিরে নানা আয়োজন, পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাস আবার সব পরিকল্পনা শেষ করে দিয়েছে। তবে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ভোগে নয়, ত্যাগে। 

সামাজিক দূরত্ব বজায়ের বাধ্যবাধকতায় স্বজনের সঙ্গে ঈদে আমরা আক্ষরিক অর্থে কোলাকুলি করতে পারবো না। তবে পরস্পরকে অদৃশ্যভাবে জড়িয়ে রাখতে পারবো প্রীতিতে, স্নেহে ও ভালোবাসায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈদ আনন্দটা যেন একটু অন্যরকমই হয়। তেমনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর করোনাকালীন এবারের ঈদ ভাবনা তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

ঈদের আনন্দ হোক সহমর্মিতার ও ভালোবাসার

রিদুয়ান ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার মতে, ঈদের আনন্দ হোক পারস্পরিক সহমর্মিতার ও ভালোবাসার। তিনি বলেন, ঈদের দিনটি সবার মতো আমারও অত্যন্ত পছন্দের। মা-ভাবির হাতের রান্না খাওয়া, স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন পর আড্ডা-গল্পের উপলক্ষ তৈরি হয় ঈদেই। বন্ধুদের সঙ্গে সীমিত ঘুরবো। আত্মীয়-প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাবো। এভাবে ঈদের দিনটি পার করবো। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদটা কাটাবো। বাবা, মা, ভাই, ভাবির সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই অন্যরকম। 

প্রতিবছর বন্ধুরা মিলে ঈদের আগে গরিব-দুঃখী পরিবারকে সাহায্য-সহযোগিতা করি। এবারও করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

ছাদে বেড়ানোর ঈদ

সাদিয়া আফরিন মৌরি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। গত দুই ঈদের মতো এবারেও ঘর-ছাদ আর নেট ঘেঁটে নিরানন্দের ঈদ হবে তার। তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আবারও আসছে ছাদে বেড়ানোর ঈদ। এবারের কোভিড-১৯ কালের ঈদ সবার ঘর এবং ছাদ দু’য়েই সীমাবদ্ধ থাকছে। 

ইন্টারনেটের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হবে ভার্চুয়ালি। বিকেল বেলা পরিবার নিয়ে ছাদে হাঁটাহাঁটি করেই ঈদটা কেটে যাবে। করোনাভাইরাস থেকে বাচঁতে হলে এর বাইরে তো কিছু করার নেই। 

ঈদ উদযাপন হোক ভিন্নভাবে

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিয়া আফরিন বলছিলেন, ত্যাগে নয় এবারের ঈদ উদযাপন হোক ভিন্নতায়। তার মতে, ঈদ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা, ঈদ মানেই ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরা। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে টানা দ্বিতীয় বারের মতো রয়েছে সবকিছুতে বিধিনিষেধ। গত বছরের মতো এবারও চলছে লকডাউন নামক বিধিনিষেধ। যদিও ঘরমুখো মানুষের আপন ঠিকানায় ছুটে চলা কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না, স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে যা মোটেও কাম্য নয়। 

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আতঙ্কে ঈদ আনন্দ 

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান। বাড়িতে থেকেও ঈদের আনন্দ নেই তার। তার মতে, একেবারেই মলিন হবে এবারের ঈদ। তিনি বলছিলেন, করোনাভাইরাসের উপস্থিতিতে অনুপস্থিত ঈদ আনন্দ। করোনার নতুন এক আতঙ্কের নাম ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট। যা ঈদের আনন্দকে করে দিয়েছে নশ্যাৎ। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ঈদকে উপভোগ করতাম মনের গভীরতর অবস্থান থেকে কিন্তু এখন আর সেই অনুভূতি কাজ করে না। ঈদকে সামনে রেখে ১০ দিন আগেই অনলাইনে ট্রেনের টিকেট কেটে রেখে বাড়ি এসে ঈদ করার যে আনন্দ ছিল, তা এখন বাড়িতে থেকেও নেই। তবুও কেটেছে সময়, এসেছে ঈদ, কেটেও যাবে ঈদের দিন। 

ঈদ হোক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার

এবারের ঈদ হোক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার। এমনটাই বলছিলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান আপন। তিনি বলেন, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের আকাশেও উঁকি দেয় শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ। বেজে ওঠে উৎসবের সাইরেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে ঈদের সেই চিরচেনা আমেজ। প্রতি মুহূর্তেই নতুন সংক্রমণ, নতুন মৃত্যুর খবরে সবাই বিপর্যস্ত। প্রতিবছর ঈদের কেনাকাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি থাকে তুঙ্গে। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বিপরীত। ছাদ উপচে পড়া যাত্রীসহ ট্রেনের ছবি এবার দেখা যাবে না। তারপরও ঈদের আনন্দ কিছুটা উপভোগ করতে যে যার মতো করে নিচ্ছে এবারের ঈদ প্রস্তুতি। আমার বেলায়ও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। 

করোনাকালীন এবারের ঈদের পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটাবো বলে মনস্থির করেছি। আমি ও আমার বন্ধুরা মিলে এরই মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছি। আর্থিক ব্যাপার বড় কথা নয়। মন মানসিকতাই মুখ্য। আমরা কিছু বন্ধু মিলে গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে ঈদের দিনে কিছু সেমাই মিষ্টি তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। পাশাপাশি ঈদের টাকায় কর্মহীন এই মানুষের আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি।

বিবর্ণ ঈদ উদযাপন 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা। করোনায় আবারও বিবর্ণ ঈদ উদযাপন হবে তার। তার মতে, সমগ্র মুসলিম জাতির আনন্দ উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ঈদ। প্রতিবার এই ঈদকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন পরিকল্পনা, আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। কিন্তু গত বছর করোনা মহামারি বিবর্ণ করে দিয়েছিল এই ঈদ আনন্দকে। তাই এবছরে ঈদ উপলক্ষে প্রায় সবারই ছিল বিভিন্ন পূর্বপরিকল্পনা। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ঈদের আনন্দ যেন আবারও বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। এবারও হয়তো চার দেয়ালের মধ্যেই কাটবে সবার। 

মহা আনন্দের দিন ঈদ 

সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তার মতে, ঈদের দিনটি হোক দীপ্তিময়। তিনি বলেন, দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ। আগমন হচ্ছে ঈদুল ফিতরের, এরই পাশাপাশি শেষ হচ্ছে মাহে রমজান। দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর সেই মহা আনন্দময় দিনটি আগমন হতে চলেছে। বরাবরের মতো এবারের ঈদের দিনকে নিয়েও অনেক আশা থাকলেও পুরোটাই যেন সময়ের কাছে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। 

ঈদ হোক নতুন যাত্রার সূচনা

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ শাহরিয়ার হোসেন। এবার তার ঈদ আনন্দ হবে ব্যতিক্রমধর্মী। তিনি বলেন, শত বিপত্তির মাঝেও এক চিলতে আনন্দ হিসেবে এসেছে ঈদ। মহামারির ভেতরে আগেও দুটো ঈদ কাটিয়েছি। তাই করোনাকালীন সময়ে এবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ নিম্নবিত্ত যে কেউ সাহায্য চাইতে পারলেও সবচেয়ে বিপাকে পড়েন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। তারা তাদের সন্মান হারানোর ভয়ে কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারে না। এভাবেই করোনাকালীন ঈদের আনন্দ উপভোগ করুক পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে। সব বিভেদ ভুলে এই ঈদে সবাই ভ্রাতৃত্বের এক নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হোক।

জবি/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়