Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৩ জুন ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪২৮ ||  ০১ জিলক্বদ ১৪৪২

রক্তযোদ্ধাদের আত্মকথন

খাদিজা ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ১৮ মে ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৩, ১৮ মে ২০২১
রক্তযোদ্ধাদের আত্মকথন

‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য।’ গানের এই কথাগুলো স্বেচ্ছায় যারা রক্ত দান করেন, তাদের মধ্যে দেখা যায়। করোনা মহামারি, পরিবারের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও সকাল-সন্ধ্যা-রাতের তোয়াক্কা না করে ছুটে চলেন মৃতপ্রায় আত্মাকে বাঁচাতে। 

এমনি এক স্বেচ্ছাসেবী রক্তযোদ্ধা আফরোজা আক্তার তন্বী। তিনি বলেন, রক্ত দান করে মনে অনেক শান্তি পাই, যা কোনো কিছুর বিনিময়ে সম্ভব নয়। তিক্ত অভিজ্ঞতারও শেষ নেই। কত ঝামেলার মধ্যে দিয়ে রক্ত দান করেছি। এসময় ধর্মান্ধতাও দেখা যায়। ডেলিভারি অবস্থায় একজন মায়ের যখন রক্তের প্রয়োজন পড়ে, তখন হন্য হয়ে ডোনার খুঁজে দেই। তারপর সেই ডোনার রক্ত দিতে পারেন না। সে ভিন্ন ধর্মের বলে ফিরিয়ে দেয়, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? 

অনেক স্বেচ্ছাসেবীরা নিজের টাকায় যাতায়াত করে রক্ত দেন, প্রতিদান হিসেবে আশা করেন আন্তরিকতা। তাও মেলে না অনেক সময় রোগীর পরিবার থেকে। শতকরা দু’একজন ছাড়া কেউ খোজঁ নেয় না রক্ত দেওয়ার পর ডোনার কেমন আছেন। এসব কারণে স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তদানে নিরুৎসাহিত হয়। সমাধানের জন্য সবার মধ্য রক্তদানের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে হবে। একজন ডোনারকে যথোপযুক্ত সম্মানটা দেওয়া উচিত। তাহলে আরও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি হবে।

স্বেচ্ছায় রক্তদানে বর্তমান তরুণ সমাজের অবদানই বেশি চোখে পড়ার মতো। আমি ১৭ বার স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেছি। নিজেকে এমন মহৎ কাজে সম্পৃক্ত করতে পেরে ভাগ্যবান মনে হয়। 

‘নিজ রক্ত যদি না বহে অন্যের শিরায়, তাহলে কীভাবে দেবো মানবতার পরিচয়’। রক্তদান করতে গিয়ে যেসব পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, তা হলো-

১. রক্তদাতা রক্ত দেবে, এটাই স্বাভাবিক 

২. রক্তদাতাদের যাতায়াত ভাড়া দিতে চায় না রোগীর আত্মীয়রা

৩. রক্তদানের পর পরই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ডোনার বাসায় পৌঁছেছেন কিনা, তা তাদের আমলে নেই।

৪. রোগীর আত্মীয়রা মনে করেন স্বেচ্ছাসেবীরা সংগঠন থেকে রক্তদানের জন্য টাকা পান। 

৫. রক্তদান শেষে কৃতজ্ঞতার লেশমাত্রও দেখা যায় না 

৬. অনেক সময় তাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহারও করতে দেখা যায়। 

ডোনারদের যথোপযুক্ত সম্মান আর তাদের প্রতি সহনশীল হলে এ সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে বলে জানান সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম। 

আরেকজন স্বেচ্ছাসেবী রোমা আক্তার। তিনি বলেন, যত বাঁধা ও প্রতিকূলতা আসুক না কেন, কখনোই স্বেচ্ছায় রক্ত দান হতে পিছপা হবো না। রক্ত দান না করলে অনুভূতি বুঝতাম না। সবাইকে একবার হলেও রক্তদান করা উচিত বলে আমি মনে করি। মানবতার কাজটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। সব জায়গায় সমস্যা থাকবে, সব কিছুকে টপকিয়ে রক্তদাতারা এগিয়ে যাবে, এটাই প্রত্যাশা। 

শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক  কোরবান আলী বলেন, মানুষের মন যেন দিনকে দিন যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছে। মায়া মমতা বলতে কিছু নেই। সারাদেশে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক/সেবিকা রয়েছেন, যারা রাত-দিনের তোয়াক্কা না করে রক্ত দান করেন। আমি পাঁচপীর ব্লাড ডোনার সোসাইটি নামক সংগঠন পরিচালনা করি। কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। ব্লাডের প্রয়োজনে হাজার বার ফোন দেয়। অথচ ব্লাড দেওয়া শেষ হলে ডোনারকে আর মনেই করেন না। যাতায়াত ভাড়াটাও দিতে চায় না। এমন চলতে থাকলে দিনকে দিন স্বেচ্ছাসেবীদের মন ভেঙে যাবে, হয়তো পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। 

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী।

ঢাকা/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়