Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮ ||  ২২ জিলহজ ১৪৪২

যবিপ্রবির সশরীরে পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি  

সজিবুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২২, ১৯ জুন ২০২১  
যবিপ্রবির সশরীরে পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি  

সম্প্রতি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) স্নাতক চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ও স্নাতকোত্তরের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ১ জুলাই সশরীরে হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে নেওয়া সিদ্ধান্ত মতে, আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা ২০ জুনের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টার থেকে করোনা টেস্ট করবে। 

করোনা নেগেটিভ হলে তাদের ২৫ জুন হলে প্রবেশ করানো হবে। এসময় আবাসিক শিক্ষার্থীদের তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে হলে প্রবেশ করতে হবে। হলে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের বাইরে যেতে পারবে না। অন্যদিকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বাইরে মেসে থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরীক্ষার সময় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আবাসিক এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা রুমে পরীক্ষা হবে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যবিপ্রবির স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের সশরীরে পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে কিভাবে দেখছেন এই বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের কয়েকজনের মতামত তুলে ধরেছেন রাইজিংবিডি ডটকমের যবিপ্রবি প্রতিনিধি সজিবুর রহমান।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ বালা। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে যতটুকু ভেবেছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়েও কি ততটুকু ভাবছে? অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে, নিজস্ব ব্যবস্থায় থেকে পরীক্ষা দিতে, যদি যাতায়াত ব্যবস্থাও নিজেদের করতে হয় তাহলে তাদের আরও বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে পরীক্ষা হবে কিন্তু তারা পরীক্ষার পূর্ব ও পরবর্তী মুহূর্তে একই লিফট ব্যবহার করলে তাহলে শত নিরাপত্তার মাঝেও আবাসিক শিক্ষার্থীরা করোনা ঝুঁকিতে থেকেই যাবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়াও একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থীও যদি করোনা পজেটিভ হয়ে যদি পরীক্ষা দিতে যায়, তাহলে তার মাধ্যমে বাকিরা আক্রান্ত হতে পারে। এই অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তের কিছু সীমাবদ্ধতা আমার চোখে পড়েছে। প্রথমত, দেশের বিভিন্ন জেলায় লকডাউন বিদ্যমান হওয়ায় বাস, ট্রেন বন্ধ। তারমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্যতম। এই জেলাগুলোর শিক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে আসতে পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, বলা হয়েছে ২০ তারিখে করোনা টেস্ট করিয়ে নেগেটিভ হলে ২৫ তারিখ শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ হলে স্যাম্পল দেওয়ার পর শিক্ষার্থীটি কোথায় থাকবে? স্যাম্পল দেওয়ার বাইরে অবস্থান করার সময় যেকেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আমলে নিতে হবে। তৃতীয়ত, যারা অনাবাসিক তারা আলাদাভাবে পরীক্ষা দেওয়ার সময় কেউ যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ও পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আব্দুল্লাহ।  তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় সেশনজটে আটকে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বর্ষের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি হানিকর। একথা সত্য যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। যেহেতু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে বসবাস করেন, সেহেতু অনলাইন পরীক্ষা আদতে কতটুকু কার্যকর হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। দিন শেষে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই সাধুবাদ জানাই। 

তবে যেহেতু একটা দীর্ঘ সময় আমরা পড়াশোনা থেকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন ছিলাম, সেহেতু শিক্ষার্থীদের মানবিক দিক বিবেচনায় প্রতিটি পরীক্ষার পূর্বে পর্যাপ্ত ছুটি নিশ্চিত করার অনুরোধ রইলো। এটি শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়ক হবে। এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালীন যদি কোনো শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে তার সুস্থতা নিশ্চিত করে নিঃশর্তভাবে যেন পুনঃপরীক্ষা গ্রহণ করা হয়, তার অনুরোধ করছি।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান শিহাব। তিনি বলেন,   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হল খুলে পরীক্ষা নেওয়ার মতো শিক্ষার্থীবান্ধব ও সাহসী সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিকসহ অনাবাসিকদেরও দ্রুত কোভিড-১৯ স্যাম্পল টেস্ট করে পজিটিভ নেগেটিভ শিক্ষার্থীদের বিভক্ত করা, আইসোলেশন সিস্টেম, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ভার বহন করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাসহ পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করেই পরীক্ষা নেওয়ার আন্তরিকভাবে অনুরোধ থাকবে প্রশাসনের কাছে ।

পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী স্নিগ্ধা ঘোষ।  তিনি বলেন, মহামারি করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর আমরা একই বর্ষে রয়েছি। আমাদের শিক্ষাজীবন এক প্রকার অচল হয়ে আছে। কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই আমরা দুই সেমিস্টার ক্লাস শেষ করেছি। চতুর্থ বর্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থিসিস, সেক্ষেত্রেও কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ দিনের নিশ্চলতার পরে আগামী ১ জুলাই থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্দেশনা এসেছে। তবে আরও কিছু মাস আগে যেসময়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক ছিল, তখনই সশরীরে পরীক্ষার বিষয়ে মতামত আসলে আমাদের ভোগান্তি আরও কিছু অংশে লাঘব হতো বলে আমি মনে করি। 

যবিপ্রবিতে সশরীরে পরীক্ষার সিদ্ধান্তে বিলম্বে হলেও বড় ধরনের সেশনজট হতে মুক্তির পথ আমরা দেখতে পাচ্ছি। সশরীরে পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যে নির্দেশনা পেয়েছি, তা শিক্ষার্থীবান্ধব। নিজস্ব জিনোম সেন্টারে করোনা টেস্ট এবং আবাসিক হলে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক। আমার মতে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব।

যবিপ্রবি/মাহি 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়