Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২৫ ১৪২৮ ||  ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

যবিপ্রবির মিউজিয়ামে ২৫০ প্রজাতির মাছ

সজিবুর রহমান, যবিপ্রবি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ৫ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১২:০৯, ৫ অক্টোবর ২০২১
যবিপ্রবির মিউজিয়ামে ২৫০ প্রজাতির মাছ

অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়াম। স্থান: যবিপ্রবি

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) তৈরি করা হয়েছে ‘অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়াম’। 

সহজেই মাছের সঙ্গে পরিচিতি, বিলুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় সব স্বাদু পানির ও সামুদ্রিক মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী সংরক্ষণের মাধ্যমে গবেষণা উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে এ মিউজিয়াম তৈরি করা হয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের উদ্যোগে যবিপ্রবির নিজস্ব অর্থায়নে এ মিউজিয়ামটি তৈরি করা হয়। এতে থরে থরে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন আকৃতি ও রঙের মাছ। 

জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের কোনো মিউজিয়াম নেই, এটিই প্রথম। মাছ সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন, ইথানল, রেজিনসহ কয়েকটি রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ফরমালিন কম মূল্যের হলেও ইথানল ও রেজিনে মাছের নমুনা সংরক্ষণ করা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। মিউজিয়াম তৈরি প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পূজা বৈদ্য। মিউজিয়াম তৈরিতে বিভাগের আরও অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, IUCN এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ ও ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে খোঁজ করতে গেলে একশত প্রজাতির স্বাদু পানির মাছের দেখা মেলে না। দেশীয় বহু প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। আরো অনেক এখন বিলুপ্তির পথে। প্রায় ১০ শতাংশ মাছ প্রতি বছর হারিয়ে যাচ্ছে। মিউজিয়ামে সংগৃহীত নমুনা মাছের তথ্য হতে মাছের বিলুপ্তিরোধে সচেতনতা তৈরি এবং পূর্বে বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতির পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হবে। এটি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের মৎস্যভাণ্ডারের সমৃদ্ধতার বিষয়ে জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মাছ চিহ্নিত করতে পারা অত্যাবশ্যকীয়। তারা এ মিউজিয়াম থেকে মাছ ও মাছের বৈশিষ্ঠ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে বাজারে সাধারণত ৬০-৭০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়। কিন্তু এর বাইরে সামুদ্রিক মাছের যে বিপুল প্রজাতি রয়েছে, তা আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চেনা-জানা ও দেখার সুযোগ হয় না। অ্যাকুয়াটিক বায়োডায়ভার্সিটি মিউজিয়ামে বর্তমানে স্বাদু পানি ও সামুদ্রিক পানির মোট ২৫০ প্রজাতির মাছ সংরক্ষিত রয়েছে এবং মাছের অন্যান্য প্রজাতি সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য মিউজিয়ামটি উন্মুক্ত থাকবে।

সার্বিক বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব উন্নয়ন ও গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম একটি প্রকল্প। যশোরঞ্চলকে বলা হয় মাছের উর্বর ভূমি। মিউজিয়ামটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা খুব সহজেই বিচিত্র সব মাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে মিউজিয়ামটি তৈরি করা হয়েছে। এটি আরও সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়