Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৮ ||  ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৩

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যরকম বিজয় উল্লাস

মো. রাকিবুল হাসান, গবি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৪, ১৭ অক্টোবর ২০২১  
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যরকম বিজয় উল্লাস

চা-আড্ডা শেষে শিক্ষার্থীদের ফটোগ্রাফি 

ক্যালেন্ডার দেড়েক ব্যবধানে জমেছে চা-আড্ডা। খোশগল্পে মেতেছে টুটুল, সেতু, ঢালী ও আসিফ! নবীন থেকে শুরু করে প্রবীণ। ক্যাম্পাস খোলায় সবার চোখে-মুখে বিজয়ের উল্লাস। মুক্ত শিক্ষালয়ে পাড়ি জমান হাজারো প্রাণ। নিরবতা ভেঙে আবারো উচ্ছল গবির চত্বরগুলো।

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) বর্তমান ও প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীরা আড্ডার ফাঁকে বলেন, ঘরের চার কোণে কেটেছে প্রহর। ক্লান্তিকর প্রতীক্ষার পর মুক্তি পেলো ক্যাম্পাস। নয়া নগরের ঝুপড়ি দোকানে আড্ডার ঝর তুলেছে আরেকটি দল। 

এসময় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সুপর্ণা রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পাদচারণায় ক্যাম্পাসের ধূলিকণাও হয়ে উঠেছে উচ্ছ্বসিত। রঙিন খামে ফিরে পেয়েছি পুরনো মানুষ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলো নানা আয়োজনে বরণ করে শিক্ষার্থীদের। আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও গিটারের সুরেই কাটে মুক্ত ক্যাম্পাসে প্রথম দিন। তাদের সাথে শিক্ষকরাও শামিল হন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিক কমিউনিটির সংগীত আড্ডায় যোগ দেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সোনিয়া শিরিন। ট্রান্সপোর্ট চত্বরে বসে তিনি বলেন, ‘অনেক সময়ের ব্যবধানে ছাত্র জীবনের সুখানুভব করছি।’ বিএমবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় শিক্ষকদের সাথে কেক কেটে নয়া দিনের সূচনা করেন। গোলাপ দিয়ে বরণ করে বাংলা বিভাগ।

রঙিন র‍্যাগ ডে ছাড়াই মলিন বিদায় নিয়েছেন অনেকেই। এমনই দুজন সিএসই বিভাগের বৃষ্টি ও রাশেদ। অনলাইন ক্যাম্পাসে অনার্স জীবনের ইতি ঘটে তাদের। তবে ক্যাম্পাস খোলায় ছুটে আসেন তারাও। আগের মতোই মেতে উঠেন গল্প আড্ডায়। দেশের সব শিক্ষাঙ্গনে শ্রেণি পাঠদান বন্ধ ছিল ১৮ মাস। শিক্ষার্থীদের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ৪ অক্টোবর সশরীরে শিক্ষাক্রম শুরু করে গবি। 

ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন বলেন, ‘অনলাইনেই ক্যাম্পাসে বেশ নতুন মুখ এসেছে। অনেক সিনিয়রের পড়াশোনা শেষ, চলে গেছেন। তবুও আশার কথা; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সবার আগে ক্যাম্পাস খুলে দেয় এই নব্বই দশকের বিদ্যাপীঠ।’

স্বেচ্ছায় রক্ত দানকারী সংগঠন ডা. এড্রিক বেকার ব্লাড ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর প্রাণ ফিরেছে প্রিয় ক্যাম্পাসে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস আরম্ভ হয়েছে।’

প্রক্টর অধ্যাপক ড. জিয়াউল আহসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেওয়া আছে৷ আশা করি, শিক্ষার্থীরা আমাদের সহায়তা করবে।’ 

সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এলেও ফেরেননি ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্রী ফাহিমা আক্তার এবং সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মলি আক্তার। ক্যাম্পাস বন্ধের এই সময়ে চিরতরে বিদায় নেন তারা।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়