ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৫ ১৪২৮ ||  ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শতবর্ষেও ‘চিরযৌবনা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৮, ৩০ নভেম্বর ২০২১  
শতবর্ষেও ‘চিরযৌবনা’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরে শতবর্ষ পেরিয়ে পদার্পণ করেছে ১০১তম বছরে। ১ জুলাই থেকে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ঢাবির শতবর্ষ উদযাপন করার কথা থাকলেও মহামারি করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পাঁচ মাস পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই উদযাপনকে ঘিরে চলছে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) শতবর্ষ উদযাপনের মূল পর্ব শুরু হবে। ১-৪ ডিসেম্বর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শতবর্ষ পালন করা হবে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাবির শতবর্ষ উদযাপনের শুভ সূচনা করবেন। তবে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। অনুষ্ঠান চলবে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের পর্দা নামবে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, কলা ভবন, ভিসি চত্বর, স্মৃতি চিরন্তন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ভবন, টিএসসি চত্বর, সামাজিক বিজ্ঞান ভবন, বিভিন্ন হলসহ পুরো ক্যাম্পাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সড়ক লাল, সবুজ, নীল রঙের বাতির আলোয় সাজানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল জায়গায়, ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে লাগানো হয়েছে লাইটবক্স, বিভিন্ন ধরনের পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। শিক্ষার্থীরা এইসব জায়গায় ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছে।

শতবর্ষে যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শতবর্ষে এসেও যেন চিরযৌবনা। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। ভ্যাকসিন গ্রহণের সনদপত্র প্রদান সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছে। 

তবে যেসকল শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি, তাদের কথা বিবেচনায় মহসিন হলের মাঠ, অপরাজেয় বাংলা ও টিএসসির পায়রা চত্বরে নির্মাণ করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে বসে শিক্ষার্থীরা বড় স্ক্রিনে শতবর্ষের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

শতবর্ষকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে বিরাজ করছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে শতবর্ষের উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান রাইজিংবিডিকে বলেন, আমি গর্বিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হতে পেরে। কারণ আমি দেশের প্রথম শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। একজন ছাত্র হিসেবে এর থেকে আনন্দের আর কিছু নেই। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমি মুখিয়ে আছি। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহনাজ শম্পা রাইজিংবিডিকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে পারা একই সাথে আনন্দের ও গৌরবের। তিনি মনে করেন, শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরো শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের জীবনমান যেন আরো উন্নত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। 


 
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরাজ শহীদ শান্ত রাইজিংবিডিকে বলেন, ঢাবির শতবর্ষ আমার কাছে অন্য সবার থেকে অধিক আনন্দের। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের পাশাপাশি আমার নিজ বিভাগও শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আলোকসজ্জা, প্ল্যাকার্ড টাঙানো, প্যান্ডেলের কাজ অনুষ্ঠানসূচিসহ সবকিছু শেষ করা হয়েছে। বুধবার থেকে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে আমাদের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান শুরু হবে।

/হেদায়েতুল/মাহি/এনএইচ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়