ঢাকা     শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৯ ||  ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়া এখন স্কুলে যাচ্ছে 

মাগুরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:২৭, ৫ জানুয়ারি ২০২২
মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সুরাইয়া এখন স্কুলে যাচ্ছে 

মাগুরা শহরতলীর দোয়ারপাড়। ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগম। সংঘর্ষ থেকে ছোড়া গুলি লাগে নাজমার পেটে। এতে গর্ভে থাকা শিশুটিও গুলিবিদ্ধ হয়। ওই দিন রাতেই জেলা সদর হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে জন্ম নেয় শিশুটি; তার নাম দেওয়া হয় সুরাইয়া। 

নাজমা বেগমের পেটে লাগা গুলি গর্ভের শিশুর শরীরও এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ও বোমায় আহত হন নাজমার চাচা শ্বশুর মমিন ভূঁইয়া। পরদিন তিনি মারা যান।

সুরাইয়ার বয়স এখন সাড়ে ৬ বছর। এবার সে মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন্স প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) তার স্কুলজীবনের প্রথমদিন ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে সুরাইয়ার ডান চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। দুই পায়ে শক্তি নেই। অন্য শিশুরা যখন হেঁটে স্কুলে গেছে, সুরাইয়া গেছে মায়ের কোলে চড়ে। এভাবেই শুরু হলো তার স্কুলজীবন। এক বছর আগে সুরাইয়াকে গণশিক্ষা কার্যক্রমের একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে করোনার কারণে সেটা নিয়মিত হয়নি। এবার আবার তাকে স্কুলে ভর্তি করা হলো।

সুরাইয়ার বাবা চা বিক্রেতা বাচ্চু ভুঁইয়া বলেন, ‘এত দিন সুরাইয়ার বাড়িতেই সময় কেটেছে। কিন্তু এখন স্কুলে যেতে হলে একজন সঙ্গে থাকতে হবে। কারণ, সে একা বেঞ্চে বসে থাকতে পারবে না। এ কারণে একটি হুইলচেয়ার এবং ওয়াকার লাগবে। তাহলে ওর স্কুলে যাওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

নাজমা বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চা যদি স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিতো, আজ তাহলে ও নিজেই হেঁটে স্কুলে যেতো। অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা করতো। কিন্তু এখন কারো সাহায্য ছাড়া সে কিছু করতে পারে না। কোমর থেকে পা পর্যন্ত শক্তি নেই। ডান হাত কাজ করে না। ডান চোখও দৃষ্টিহীন। তবে যত কষ্টই হোক, ওকে পড়ালেখা শিখিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার বলেন, ‘শিশুটির দুটি পা, একটি হাত ও একটি চোখ অকার্যকর। মায়ের কোলে চড়ে প্রথম দিন এসেছিল সে। ওর যেহেতু এমন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, এ কারণে ওর প্রতি আমরা একটু বেশি যত্নশীল থাকবো। একটি হুইলচেয়ার হলে আর সমস্যা হবে না।’

মাতৃগর্ভে শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং একজন হত্যার ঘটনায় সদর থানায় মামলা হয়। মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সেন সুমন আলোচিত ওই মামলার প্রধান আসামী। মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। মাগুরা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মামলার বিচারকাজ চলছে। 

শাহীন/মাহি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়