ঢাকা     বুধবার   ২৫ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৯ ||  ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩

বাঙলা কলেজে লাশ, মোবাইল চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা

ক্যাম্পাস সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৬ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:২২, ১৬ জানুয়ারি ২০২২
বাঙলা কলেজে লাশ, মোবাইল চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা

মোবাইল চোর সন্দেহে পিটিয়ে রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ। এই ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা ডিএমপি’র গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ৫ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টায় রুবেল মিয়া লালমনিরহাট সদর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় দারুস সালাম থানাস্থ সরকারি বাঙলা কলেজের নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের ৫ম তলার ৮১৬ নং কক্ষ থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্তে রুবেলের চাচা ১৪ জানুয়ারি দারুস সালাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটির তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।  

আরও পড়ুন: নির্মাণাধীন ভবনে অজ্ঞাত লাশ, জানে না কলেজ প্রশাসন 

তিনি আরও বলেন, মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল জলিল ও আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আব্দুল জলিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, গত ৯ জানুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টায় রুবেলকে বাঙলা কলেজের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওয়াশরুম থেকে সন্দেহজনক চোর ভেবে আটক করে। তারা ইতোপূর্বে চুরি যাওয়া মোবাইল ও টাকা উদ্ধারের জন্য ভিকটিমের হাত রশি দিয়ে বেঁধে একই রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। এর ফলে রুবেল মৃত্যুবরণ করলে গ্রেপ্তারকৃতরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

তবে রুবেল মিয়া লালমনিরহাট থেকে কবে, কীভাবে ঢাকায় এলো- এই বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। 

হারুন অর রশিদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কোন বিষয় জড়িত আছে কিনা- সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রুবেল কেন লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় এলো সেটিও দেখা হচ্ছে। 

এদিকে রুবেলের বাবা জানান, ২ জানুয়ারি রুবেলের বিয়ে হয়। তিনি দাবি করেন, এই বিয়ের কারণেই তার ছেলেকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তার ছেলের বউ সার্জিয়া খাতুনের অন্য কোথাও সম্পর্ক থাকতে পারে এবং ওই ব্যক্তিই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ প্রশাসনের নিকট তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে রুবেল মিয়ার নববধূ সার্জিয়া খাতুন বলেন, ‘বিয়ের তিন দিন পরে বাবার বাড়িতে আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ওই সময় আমাকে রেডি হওয়ার কথা বলে সেলুনের দোকানের উদ্দেশে তিনি বেরিয়ে যান। আমি সাজুগুজু করে রেডি থাকলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এতগুলো দিন পর তার লাশ পেলাম। নতুন সংসার, নতুন জীবন কাকে নিয়ে কাটাবো।’

উল্লেখ্য, রুবেল মিয়ার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন কৃষক। ২ জানুয়ারি রুবেল বিয়ে করেন। তিন দিন পর সকাল ১০টার দিকে নিজ বাসা থেকে নিখোঁজ হন। এর ১০ দিন পর ১৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার সরকারি বাঙলা কলেজের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়