ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১৬ ১৪২৯ ||  ২৯ জিলক্বদ ১৪৪৩

৫৮০ শিক্ষার্থীর রিডিং রুমে চেয়ার ৬টি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আব্দুল্লাহ আল মাহবুব শাফি, নোবিপ্রবি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০০, ২৯ মে ২০২২   আপডেট: ১২:০১, ২৯ মে ২০২২
৫৮০ শিক্ষার্থীর রিডিং রুমে চেয়ার ৬টি, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রায় ৫৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রিডিং রুমে বসে পড়াশোনা করার আসন রয়েছে মাত্র ৬টি। ফলে রিডিং রুমে বসে পড়াশোনা করার মতো জায়গা পাচ্ছেন না হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। 

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রিডিং রুমে পড়তে হলে নিজেদের রুম থেকে চেয়ার নিয়ে এসে পড়তে হয়। বসার চেয়ার না থাকায় পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন হলের শিক্ষার্থীরা। এদিকে হলে অবস্থানরত বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু চেয়ার সংকটের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না। এ ছাড়াও, রিডিং রুম অপরিচ্ছন্ন, টেবিল থেকে শুরু করে বই রাখার তাক, ফ্লোর সবকিছু ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এক রুমে পাঁচজন থাকি। পাঁচজনের রুমে থেকে পড়াশোনা হয় না। আমাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই রিডিং রুমে যেতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিল না থাকায় প্রতিনিয়ত রিডিং রুমে উঁকি দিয়ে ফিরে আসতে হয়। আমি সর্বশেষ একটা ক্লাস টেস্ট দিতে পারিনি এই সমস্যার জন্য। 

তিনি আরও বলেন, রিডিং রুমের মধ্যেই নামাজ কক্ষ থাকায় বারবার মেয়েদের আসা-যাওয়ার কারণে যারা নামাজ পড়েন তাদেরও নামাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় আবার যারা পড়াশোনা করেন, তাদেরও পড়ায় মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। পড়ার জন্য ডেস্ক টাইপ টেবিল বরাদ্দ দিলে ভালো হতো। এতে করে যারা পড়ছেন কেউ কাউকে দেখবেন না। এভাবে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতেও সহজ হবে। হল চালু হওয়ার এতদিন পরেও রিডিং রুম এভাবে পড়ে আছে বিষয়টি হতাশার বলে জানান তিনি। 

বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের রিডিং রুমের খুবই করুণ অবস্থা। অল্প পরিসর, সীমিত আসন সংখ্যা এবং অপরিচ্ছন্ন রুমের কারণে শিক্ষার্থীরা রিডিং রুমে গিয়ে পড়াশোনা করতে বেকায়দায় পড়ছেন। ডিপার্টমেন্টগুলোর সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে যখন তারা রিডিং রুমে গিয়ে বসার জায়গা পায় না, তখন তাদের মনের অবস্থা কেমন হয় সেই ব্যাপারটি একটু চিন্তা করা উচিত বলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করি। 

তিনি আরও বলেন, গত ১১ এপ্রিল আমার সেমিস্টার পরীক্ষা ছিল, আমি রিডিং রুমে গিয়ে বসার জন্য জায়গা পাইনি। আমার পাশাপাশি আরও অনেক ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা ছিল, এমন পরিস্থিতিতে কেউ রিডিং রুমের এক কোণায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়া চালিয়ে যাচ্ছে আর কেউ একবুক হতাশা নিয়ে রিডিং রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই চাই একটা রিডিং রুমের পরিবেশ পরিষ্কার থাকুক, সুন্দর থাকুক। অথচ কোনোটাই আমাদের রিডিং রুমে নেই। 

ফারজানা বলেন, টেবিল থেকে শুরু করে বই রাখার তাক, ফ্লোর সবকিছুতে ময়লা। এসব পরিষ্কার করা কি শিক্ষার্থীদের কাজ? একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডিং রুমের যদি এই করুণ অবস্থা হয়, তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে পড়াশোনার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ পাবো? কোথায় আমাদের সুন্দর মানসিকতা গড়ে উঠবে?

এবিষয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মো. মজনুর রহমান সবুজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের কাছে বঙ্গবন্ধু হলের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির আলোকে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে গত সপ্তাহে হলের স্টাফ এবং শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে এই বিষয়ে কথা বলেছি। উপাচার্য স্যার অতি দ্রুত স্টোর অফিসারদের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং একটি কমিটি করে দিয়েছেন দ্রুততম সময়ে যাতে চেয়ার-টেবিলগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়।

/এইচএম/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়