ঢাকা     বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২২ ১৪২৯ ||  ০৬ জিলহজ ১৪৪৩

বাবা দিবস ঘিরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ক্যাম্পাস ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৮, ১৯ জুন ২০২২  
বাবা দিবস ঘিরে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রতীকী ছবি

পরিবারে এক অবিচ্ছেদ্য বটবৃক্ষের নাম বাবা। কত না দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। পরিবারে বাবার মহত্ব ও গুরুত্ব বোঝানোর জন্য বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বাবা দিবস’। প্রতি বছর জুন মাসের ৩য় রোববার দিবসটি পালিত হয়। বাবা দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা জানাচ্ছেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সসের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ অংকন

মনুষ্যত্বের অবনতিতে বৃদ্ধাশ্রমে বাবা

বৃদ্ধাশ্রম বলতে বৃদ্ধ নারী-পুরুষের আবাসস্থলকে বোঝায়। কিন্তু একজন বৃদ্ধ মানুষের কাছে পরিবারই সবচেয়ে নিরাপদ আবাসস্থল। আমাদের দেশে একসময় বৃদ্ধাশ্রম কথাটি একদমই অপরিচিত হলেও এখন আলোচিত বিষয়। অথচ দিন দিন বিশ্বের উন্নয়ন হচ্ছে, আমরাও পিছিয়ে নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু একটি জায়গায় দিন দিন আমাদের অবনতি হচ্ছে। সেটি হল মনুষ্যত্বের অবনতি। এত শত উন্নয়ন আমাদের উন্নত বিবেক দিতে পারছে না বলেই বাবাকে রেখে আসছি বৃদ্ধাশ্রমে। এজন্য প্রতিটি মানুষই ব্যক্তিগতভাবে দায়ী। এখনকার এই বৃদ্ধাশ্রম তারই প্রমাণ বহন করে। আমাদের মনুষ্যত্বের উন্নয়ন জরুরি। বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক প্রতিটি বাবার আপন নিবাস।

আনিসুর রহমান
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাবার ঋণ শোধ হওয়ার না

সমাজে ইদানীং বৃদ্ধ পিতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যাও। সন্তানরা তাদের বাবার প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে। যে বাবা তিল তিল করে নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন সন্তানকে মানুষ করার জন্য, যে বাবা নিজের পকেট খরচকে বাঁচিয়ে রাখতেন তার সন্তানের টিউশন ফি, টিফিনের টাকার জন্য, নিজের অসুস্থতার কথা না ভেবে কেবল তার সন্তানের কথা চিন্তা করে প্রত্যুষেই নেমে পড়তেন রোজগারের সন্ধানে। সেই বাবার শেষ বয়সের ঠিকানা যদি হয় বৃদ্ধাশ্রম, তাহলে মানবতার প্রতি এরচেয়ে চরম উপহাস আর কী হতে পারে? সন্তান যখন বেশি সুখ ভোগ করার আশায় তার অসহায় বৃদ্ধ পিতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, তখন তার বিবেক ঘুমিয়ে থাকে কীভাবে? বাবা সন্তানের জন্য যে কষ্ট করেছেন, তার ঋণ কোনোদিনই শোধ হওয়ার নয়। সকল বাবার জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী তৈরি হোক।

মোমেনা আক্তার
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাবা এক আস্থার নাম

চিন্তার সাগরে যখন নিমজ্জিত হই; তখনই যে মানুষটার কথা মনে পড়ে, তিনিই বাবা। নিশ্চিন্তে যাকে বলা যায় মনের সকল কথা। বাবার কাছে শিখেছি- অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, মানুষকে সাহায্য করতে। ছোটবেলায় পড়তে বসার জন্য যত না বলছেন, তার চেয়ে বেশি তাগাদা দিয়েছেন মানবিক হওয়ার জন্য। আমার বাবা পেশায় একজন কলেজ অধ্যক্ষ। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন বাসায় ফেরেন, তখন খুলে বসেন তাঁর গল্পের ঝুড়ি। বাবা-ছেলে মেতে উঠি আড্ডায়। সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বাবার সাথে চলে গল্প, সেইসাথে তর্ক-বিতর্ক। বিভিন্ন বিষয়ে বাবার সাথে মতের পার্থক্য থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আমরা একমত থাকি সবসময়। বাইরে কোথাও গেলে কয়েক মিনিট পরপর আসতে থাকে ফোনকল, একটাই কথা জানতে চান ‘কখন বাসায় ফিরব?’ যে বাবা আমাদের এত নিরাপত্তা দেন, বৃদ্ধ বয়সে সেই বাবার স্থান যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয়, ছেলে হিসেবে এটাই চাই।

শেখ রিফাদ মাহমুদ
শিক্ষার্থী ও সমাজকর্মী, গ্লোবাল স্টুডেন্ট ফোরাম।

ভালো থাকুক সকল বাবা

ছোটবেলা থেকে কত কষ্ট করে বাবা আমাদের মানুষ করেছেন নিজের সর্বস্ব দিয়ে। আজ সেই আমরাই বৃদ্ধ বাবার দায়িত্ব নিতে কুণ্ঠাবোধ করি। আচ্ছা, ছেলেমেয়ে যেভাবে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, জন্মের পর যদি আমাদেরও শিশুআশ্রমে রেখে আসত, তাহলে কেমন হত? দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তার পেছনে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ রয়েছে। যেমন, সন্তানের ব্যস্ততা, শ্রদ্ধাবোধের অভাব, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশযাত্রা, পারিবারিক কোন্দল ইত্যাদি। আমরা যত যাই বলি না কেন, জীবন খুব স্বল্প সময়ের সমষ্টি। আজ আমার বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, কাল যে আমাকেও যেতে হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবাকে জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বাবারা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।

উম্মে সাদিয়া মারগুবা চৌধুরী
আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়