ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৯ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবির আল-ফিকহ্ বিভাগে ভর্তিতে জটিলতা, সমন্বয়ের আশ্বাস

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ৯ জুন ২০২৬  
ইবির আল-ফিকহ্ বিভাগে ভর্তিতে জটিলতা, সমন্বয়ের আশ্বাস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে অনুমোদিত ৫০:৫০ আসন বণ্টন নীতি অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসা ও কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য সমান আসন বরাদ্দের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বর্তমান ভর্তি তালিকায় প্রতিফলিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, পরবর্তী মাইগ্রেশন থেকে বিষয়টি সমন্বয় করা হবে।

আরো পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে মাদ্রাসা ও কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০:৫০ অনুপাতে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু গুচ্ছভিত্তিক চলমান ভর্তি তালিকায় এর প্রতিফলন দেখা যায়নি।

কারিগরি কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পদ্ধতিতে বিভাগটিতে ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান) থেকে ৩২ জন, ‘বি’ ইউনিট (মানবিক) থেকে ৪০ জন এবং ‘সি’ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে মূল বিজ্ঞপ্তিতে মাদ্রাসা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য সমান আসন বণ্টনের কথা উল্লেখ থাকলেও ইউনিটভিত্তিক আসন বণ্টনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না থাকায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তারা জানান, পরবর্তী মাইগ্রেশনে বিষয়টি সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে।

বিভাগটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, “ভর্তি নির্দেশিকায় মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ করে আসন বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। পরে যদি সেই শর্ত বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় হবে। কারণ শিক্ষার্থীরা নির্দেশিকায় বর্ণিত শর্তের ভিত্তিতেই বিষয় পছন্দ করেছে।”

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে ‘আল-ফিকহ্’ বিভাগ চালু হয়। শুরুতে আরবিতে দক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও পরে ভর্তি পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা ও কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের সমানসংখ্যক ভর্তির ব্যবস্থা চালু করা হলেও পরবর্তীতে গুচ্ছভিত্তিক উন্মুক্ত ভর্তি নীতির আওতায় সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়।

বিভাগের একাধিক শিক্ষকের মতে, অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে বিভাগটিতে প্রায় আড়াই হাজার নম্বরের আরবি ও ফিকহভিত্তিক কোর্স রয়েছে। সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীরা আরবিতে তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েন। ফলে ফল বিপর্যয়, রিটেক পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেশনজটের মতো সমস্যা তৈরি হয়। এসব সংকট নিরসনের লক্ষ্যেই ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মোট ৮০টি আসনের মধ্যে ৪০টি মাদ্রাসা এবং ৪০টি কলেজ পটভূমির শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বলেন, “বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ভর্তি কার্যক্রমে কেন তা অনুসরণ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।”

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবগত করা হয়েছে। পরবর্তী মাইগ্রেশনে সমন্বয়ের সুযোগ আছে।”

অন্যদিকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির দায়িত্বে থাকা ইউএফটিবির রুবেল শেখ বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মাকছুদুল হক বলেন, “যদি কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের আগেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত ছিল। আমি বর্তমানে রুটিন দায়িত্ব পালন করছি। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শিক্ষা শাখা থেকে পরিচালিত হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ধারা ১.২.১ ও ৫.১৪-এ জেনারেল ও মাদ্রাসা পটভূমির শিক্ষার্থীদের সমানসংখ্যক ভর্তির বিধান রাখা হয়। ১৯৮৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ মাদ্রাসা থেকে নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বর্তমানে সেই ভারসাম্য নীতি বিলুপ্ত। আল-ফিকহ্ অ্যান্ড ল’ বিভাগে তা পুনরায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলমান ভর্তি কার্যক্রমে নীতিটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়