ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৯ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩ || ২৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবি কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতি, আহত ভ্যানচালক

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৬, ৯ জুন ২০২৬   আপডেট: ২০:১৩, ৯ জুন ২০২৬
ইবি কর্মকর্তার সঙ্গে হাতাহাতি, আহত ভ্যানচালক

মেডিকেলে চিকিৎসারত অবস্থায় আহত ভ্যানচালক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাছের পাতা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে এক কর্মকর্তার সঙ্গে ভ্যানচালকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আমিরুল ইসলামের আঘাতে ভ্যানচালক মাসুদ রানা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নেন।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় নিচে থাকা ভ্যানচালক মাসুদ রানা তার কাছে কিছু পাতা চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে মেডিক্যাল সেন্টারের পাশের সাবস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন ভ্যানচালক।

ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বলেন, “মুক্তবাংলা প্রশাসনিক ভবনের পাশে দুই ব্যক্তি গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলেন। বাড়িতে থাকা ছাগলের জন্য তিনি কিছু পাতা চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান। তার দাবি, পরে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে অনুসরণ করেন এবং সাবস্টেশন-সংলগ্ন নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চান।

তিনি বলেন, “তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি তাদের চিনি কি না। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির পর দুইজন মিলে আমাকে মারধর করেন। আমি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছি। পরে ব্যাগে থাকা একটি কাঁচির আঘাতে আমার মাথা ফেটে যায়।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমিরুল ইসলাম বলেন, “গাছের পাতা সংগ্রহের সময় ওই ভ্যানচালক পাতা চেয়েছিল। আমি রাজি না হলে তিনি গালিগালাজ করতে করতে চলে যান। পরে তাকে ডেকে এনে জানতে চাই কেন তিনি এমন আচরণ করেছেন। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তখন তিনি আমাকে কামড়ে ধরে রাখেন। নিজেকে রক্ষার জন্য আমি তাকে প্রতিহত করেছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত ব্যক্তির মাথায় আঘাত লেগে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তাকে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। রক্তক্ষরণ হলেও তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসব।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়