ঢাকা     শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৭ ||  ২৯ মহরম ১৪৪২

মিউজিক ইজ মেডিসিন

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৭, ১৮ নভেম্বর ২০১২   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
মিউজিক ইজ মেডিসিন

রাইজিংবিডি২৪.কম:

গান গেয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। এমনই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে দুই বোন লিওরা ফ্রিডম্যান এবং আরিয়েলা ফ্রিডম্যান জিতে নিল ওয়ার্ল্ড সামিট ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড।

গান দিয়েই মানুষ মন জয় করা যায়। এমন ধারণা থেকে বের হয়ে অন্যরকম কিছু করার চেষ্টায় ছিল দুই বোন লিওরা এবং আরিয়েলার। তারা দুজনই গিটার বাজিয়ে গান গাইতে জানে। শুধু তাই নয়; গান লিখাতেও হাত পাকা দু বোনের।

তাদের তৈরি করা ওয়েবসাইট ‘মিউজিক ফর মেডিসিন’ দিয়ে অসংখ্য দরিদ্র শিশুদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে তারা। গল্পটি ২০০৮ সালের। সে বছর গ্রীষ্মকালীন সময়ে দু বোন যায় জোনস হপকিনস ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে গান গেয়ে ৫০০ ডলার আয় করে। সে টাকা নিয়ে তারা যান স্থানীয় হাসপাতাল হ্যাকারম্যান প্যাটজ হাউজে।
 
হাসপাতালের অসংখ্য শিশুদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালে বসেই শিশুদের নিয়ে তারা গান লেখা শুরু করেন। তাদের গান শিখিয়েও নেয়। এরপর তাদের নিয়েই প্রকাশ করেন ‘আ ফ্রেন্ড লাইক ইউ’ নামে একটি সংগীত অ্যালবাম। এ অ্যালবামের প্রতিটি গান উৎসর্গ করা হয় বিশ্বের সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের।

অ্যালবাম থেকে আয় করা অর্থ দিয়ে আরও অধিক শিশুদের পাশে দাঁড়ান লিওরা ও আরিয়েলা।   

‘মিউজিক ইজ মেডিসিন’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া শুরু হয় তখন থেকেই। এরপর ২০১০ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘কারেন্ট হেলথ’ তাদের কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ আয়োজন করে। এরপরই মিডিয়া এবং বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করে এ প্রকল্পটি।

ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ লিওরাকে আমন্ত্রণ জানায় স্থানীয় একটি স্কুলে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। সেখানে এসে মুগ্ধ করে দেওয়ার মতো বক্তৃতা দেন লিওরা। তিনি বলেন, গানই একমাত্র ওষুধ যা দিয়ে মন ও শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব। এজন্য তরুণদের প্রতি আমার আহ্বান, তোমরাই পারো সবকিছু বদলে দিতে। বিশ্বব্যাপী যদি আমাদের ভালো কাজকে ছড়িয়ে দিতে পারি তবেই একদিন শান্তি আসবে।

এবার আসি ‘মিউজিক ইজ মেডিসিন’ ওয়েবসাইটটির বিষয়ে। এ প্ল্যাটফর্মটিতে প্রথমে মিউজিশিয়ানরা তাদের গান দিয়ে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করেন। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে অসুস্থ শিশু এবং স্থানীয় শিশুদের গানগুলো গেয়ে শোনায়।

সংগীতশিল্পীদের জন্যও ‘মিউজিক ইজ মেডিসিন’ প্ল্যাটফর্মটি উৎসাহমূলক। এই প্ল্যাটফর্মটি গান ও জীবন বাঁচানোর মধ্যে অসাধারণ এক ভূমিকা পালন করে।

এই অসাধারণ উদ্যোগটি এগিয়ে যাচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। এবছর ওয়ার্ল্ড সামিট ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে এ উদ্যোগী প্রকল্পটি।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড সামিট ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ইন্টারনেটে তরুণদের বিভিন্ন রকমের উদ্যোগকে সহযোগিতা করে। ছয়টি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ‘মিউজিক ফর মেডিসিন’ পেয়েছে দারিদ্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম বিষয়ক ক্যাটাগরিতে।

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়