ঢাকা     সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৯ ||  ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

বান্দরবান প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৫৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  
ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

সাজাপ্রাপ্ত আসামি চিং নু মং প্রকাশ হদা

বান্দরবানে গরু ব্যবসায়ী ছোট্ট মিয়াকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের সাক্ষ্য-প্রমাণ অপসারণ করায় ৭ (সাত) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অনাদায়ে আরো  ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে আসামিদের। 

এদিকে তথ্য প্রমাণ না থাকায় মামলায় আসামি রে অং মার্মাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দপুরে বান্দরবানের জেলা ও দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আদালতে চিং নু মং প্রকাশ হদা নামের এক সাজাপ্রাপ্ত আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পালাতক।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- উচিংনু মার্মা (২২), উবা চিং মার্মা (৩০), চিং নু মং (২৩), মং নু মং (৫০), বান্দরবান সদর উপজেলার লুলাইন হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা। অপর আসামি মং থু একই উপজেলার লুলাইন পুর্নবাসন পাড়ার বাসিন্দা।  

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, নিহত ছোট্ট মিয়া চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দিয়াকুল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি গরু ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে আসামি উচিংনু মার্মার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা বায়না দিয়ে একটি গরু কেনেন। পরে ভিকটিম ক্রয়কৃত গরু আনার জন্য বাকি টাকা নিয়ে রোয়াংছড়ির হানসামাপাড়া বাজারে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে পুলিশ আসামি উচিংনু মার্মাকে ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের মধ্যমপাড়া থেকে আটক করে। পরে  জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামি জানায়, তিনি অপর আসামিদের সহযোগিতায় দা দিয়ে ছোট্ট মিয়াকে খুন করেছেন। পরে তিনি ও অন্য আসামিরা মিলে ছোট্ট মিয়ার লাশ হ্লাপাইক্ষ্যং মৌজস্থাঝিরিমুখে জনৈক মংজহ্লী মার্মার বাঁশ বাগানে মাটিচাপা দেন। একই সঙ্গে গরু বিক্রির ১২ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় একই দিন ভিকটিমের ভাই মো. আমজু মিয়া বাদী হয়ে বান্দরবান সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করলেন।  

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল করিম বলেন, মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের মৃতু্যদণ্ড দেন।

বাসু দাশ/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়