ঢাকা, শুক্রবার, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিএনপিকে স্বপ্ন দেখতে বললেন কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৩ ৭:১১:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৩ ১০:২৩:০৯ পিএম

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে বিএনপি নেতাদের আত্মবিশ্বাসকে উড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বপ্ন দেখতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেন।

এর আগে সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট হলে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির দুই মেয়র প্রার্থীসহ দলীয় সমর্থিত কাউন্সিলররা বিজয়ী হবে।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বপ্ন দেখুন, কোনো অসুবিধা নেই।’

নির্বাচন ভয়মুক্ত হবে, স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপির সমস্যা হচ্ছে, বিএনপি একটা নালিশ আর অভিযোগের দলে পরিণত হয়েছে।

‘তারা নির্বাচনের ফল গণনার শেষ পর্যন্ত বলতে থাকে নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে। পক্ষপাতযুক্ত নির্বাচন হয়েছে। এসব অবান্তর অভিযোগ তারা সিলেট সিটি নির্বাচনেও দিয়েছে, পরে দেখা গেল তারা জিতেছে। এটা তাদের পুরোনো অভ্যাস। তাদের অভয় দিলেও বলবে, তারা নিজেরাই ভয়ের মধ্যে থাকে।”

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুবির রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ উপলক্ষে কৃষকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষক লীগ।

সিটি নির্বাচনে জয়ের আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা ভালো প্রার্থী দিয়েছি, আমরা ক্লিন ইমেজের স্বচ্ছ প্রার্থী দিয়েছি। এই দাবি বিএনপি করতে পারবে না। আমাদের প্রার্থীদের ইমেইজের কোন সংকট নেই।

‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণ ক্লিন ইমেইজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীকেই ভোট দিবেন এবং আমরা জয়ের ব্যপারে আশাবাদী। আমাদের প্রার্থীরাই জয়ের চালিকা শক্তি।”

আওয়ামী লীগের শত্রু অনেক বেশি দাবি করে নেতা কর্মীদের সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ, অনেক শত্রুতা আছে, অনেক ষড়যন্ত্র আছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার যে উন্নয়ন এবং অর্জনের পক্ষে যেমন জনগোষ্ঠির সমর্থন আছে, তেমনি শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনের সঙ্গে শত্রুতাও আছে।

‘এই উন্নয়ন অর্জনকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত বাংলাদেশে আছে এবং সেটা প্রতিহত করতে হলে পরাজিত করতে হলে আমাদের শক্তিশালী সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সামনে আমরা সব সময়ই সুদিনের প্রত্যাশায় থাকি, সুদিন চলছে। কিন্তু একথা মনে রাখবেন, এই জোয়ার ভাটার দেশে চোখের পলকে কখন যে কি ঘটবে, কেউ জানে না।”

তিনি বলেন, ‘পনেরই আগস্টের আগে আমরা কেউ ভাবিনি, ১৪ই আগস্টের রাত শেষে সূর্য ওঠার আগে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হবে। চোখের পলকে ঘটে গেছে, কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ জানে না। কিন্তু মনে রাখবেন, সংগঠন শক্তিশালী থাকলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সাহস আমাদের থাকবে। আমরা সামর্থ অর্জন করতে পারব।”

কৃষক লীগের বিতর্কিতদের স্থান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিতর্কিত কোনো লোক কৃষক লীগের কমিটিতে যাতে স্থান না পায়। অনেকে কৃষক লীগের ধারে কাছেও নেই, অথচ কৃষক লীগের পরিচয় দেয়। এটা যেন ভবিষ্যতে না হয়। কৃষকের কর্মক্ষেত্রে নেই এমন ব্যক্তিদের কৃষক লীগের কমিটিতে যেন স্থান দেওয়া না হয়।’

কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাচিপের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।


ঢাকা/পারভেজ/সনি