ঢাকা, শুক্রবার, ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বিতর্কিত ভোট চাই না, ইসি সিদ্ধান্ত নেবে ইভিএম না ব‌্যালট’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৩ ৭:১৯:১৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৩ ৭:১৯:১৩ পিএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত নির্বাচন চান না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোট কি ইভিএম নাকি ব‌্যালটে হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। ফেয়ার নির্বাচন হওয়ার জন্য যতো সহযোগিতা লাগবে, তা দিয়ে যাবে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না।’

“আমরা নির্বাচনের আচরনবিধি মেনে নির্বাচন করবো। নির্বাচনে কোনো বাড়াবাড়ি হবে না। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। সরকারি দল হিসেবে আমরা জনগনের রায় মাথা পেতে নেবো।”

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটা ভালো নির্বাচন হোক। প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত নির্বাচন করতে চাই না। আমরা একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দশনাই দিয়েছেন।’

ভারতের উদাহরণ টেনে দলটির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কেন পারবে না, এটা হলো আমাদের প্রশ্ন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটা আমরা এটা করেছি, কোনো কোন গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন, ক্যাম্পেইন করেন। ভারতের কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন এবং এমনকি ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনের ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি ক্যাম্পেইনে এসেছেন এবং বক্তব্য রেখেছেন। উন্নত কোনো গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মন্ত্রীদের অংশগ্রহনে কোনো বাধা নেই। আমাদের এখানে কেন এটা হলো, এই প্রশ্নটা আমরা করেছি। প্রতিবাদ করিনি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের যুক্তি খন্ডন করে বলেছেন, তাদের আচরণবিধিতে যা আছে, সেটাই ফলো করার জন্য। আমার সেটা মেনে চলছি। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আগেও কোনো আপত্তি ছিলো না, এখনো নেই। আমরা শুধু যুক্তির প্রশ্নে এই কথাটি উত্থাপন করেছি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এমনকি ইভিএমের ব্যাপারে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা করবেন ইসি। তারা যে ইলেকশন কন্ডাক্ট করবে, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ থাকবে না। সরকার কোনো ব্যাপারেই তাদেরকে নির্দেশ দেবে না। নীতিগতভাবে আমরা ইভিএমের পক্ষে, আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বাস করি। এজন্য সহজে ভোট প্রদান, ভোট গননা, আধুনিক পদ্ধতি অনেক সহজ। এটা পরীক্ষিত বিষয়। কাজেই আমরা এটার পক্ষে। যদি ইসি মনে করে, ইভিএম সিস্টেম ছাড়া অতীতের মতো করবে, এটাও তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’

বিএনপির প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগতো আমাদের প্রার্থীও করেছে যে, নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, কর্মীকে মারধর করা হয়েছে পুরান ঢাকায়। এটা ইসির দায়িত্ব। কাজেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়ার মালিক হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কোনো পক্ষ যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তারা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে পারে। এই ব্যবস্থা যদি আমাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের লঙ্ঘনে নিতে হয়, সেই বিষয়টি অবশ্যই আমরা মেনে নেবো।”

সরস্বতী পূজার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে নেয়া না নেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে বলেও অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান ওবায়দুল কাদের।


ঢাকা/পারভেজ/সাজেদ