ঢাকা, সোমবার, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নির্বাচন থেকে সরতে পারেন মিলন

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২৭ ১০:৩৩:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২৭ ১০:৩৩:৪০ পিএম
ফাইল ফটো

মহাজোটের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হতে পারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনকে।

নিজে ভোটযুদ্ধে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেন তিনি। তবে আলোচনার মাধ্যমে জোটের প্রধান সরকারি দলকে ম্যানেজ করা গেলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে দেখা যাবে মিলনকে।

জাপার মেয়র প্রার্থী মিলন মঙ্গল-বুধবারের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার দিনভর দলের কাকরাইল কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বনানী অফিসে এ বিষয়টিই নেতাদের মুখে মুখে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে একটি ফাইনাল সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের প্রভাবশালী এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মঙ্গলবার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দলের কো-চেয়ারম্যানদের একটি অনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত হবে। তবে যা কিছুই হোক না কেন- মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের মতামতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা জানান, মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী প্রত্যাহারের জন্য সোমবার সরকারি দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। মিলনকে সরে যেতে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং দলের কো চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জাপার সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে ইতোমধ্যে অনুরোধ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রভাবশালী এক নেতা।

বিষয়টি নিয়ে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করব না। মেয়র প্রার্থী মিলনকে জিজ্ঞেস করেন।’

দলের কো চেয়ারম্যান ও জাপা দক্ষিণ সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমির হোসেন আমু ভাই আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, তবে মিলনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে নয়, অন্য বিষয়ে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক কো চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাপা প্রার্থী থাকবে কি না এ নিয়ে সরকারি দলও দোটানায়। তাদের একটি অংশ মনে করছে, মিলন সরে গেলে ভাল হবে, তাহলে তাদের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত হবে। অন্য অংশ মনে করে শেষ পর্যন্ত মিলনের মাঠে থাকা উচিত, না হলে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে যে কোনো মুহূর্তে সরকারি দলকে বিপদে ফেলতে পারে।’

দলের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘সরকারি দল চাইলে মনোনয়ন আমাদের প্রত্যাহার করে নিতে হবে। কিন্তু আমরা তাদের বুঝিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। মহাজোটের স্বার্থেই জাপা প্রার্থীর মাঠে থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ, বিএনপি যে কোনো সময় নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেন। এখন আমাদের প্রার্থীও যদি আগেভাগে সরে যায় তাহলে নির্বাচন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হবে সরকারকে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি না থাকলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। দেশ বিদেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’

প্রত্যাহারে কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে সাইফুদ্দিন মিলন বলেন, ‘কোনো চাপ নেই। আমরা ভোটযুদ্ধে আছি, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। জয়ের বিকল্প নেই।’

তবে মিলন তার ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন, যত চাপই আসুক, যে কোনো মূল্যে তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন।

জাপার মেয়র প্রার্থী সরে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে দলের কো চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘এ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষে আলোচনা আছে। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হলো- মিলন যদি মাঠে থাকেন, ভোটারদের কাছে থাকেন, তাহলে সিটি নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না। আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন দেশ-বিদেশে বিশেষ করে সংখ্যাগরিষ্টদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।’

ঢাকা সিটি নির্বাচন থেকে যে কোনো সময় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন মিলন সরে যাচ্ছেন-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

নেতারা বলেন, ‘আগেই আমরা সমঝোতা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সরকারি দল পাত্তা দিল না। আমরা নির্বাচনের মাঠে আছি, এখন প্রত্যাহার করতে হবে কেন? এই অবস্থায় প্রত্যাহার করা হলে দলের মান সম্মান বলে কিছু থাকবে না।’

কী কারণে প্রার্থী দেয়া হলো, এখন কেনই বা প্রত্যাহার করতে হবে, আগে কেন প্রত্যাহার করা হলো না- এসব প্রশ্নও তোলে দলের নেতাকর্মীরা।

তবে দলের একটি অংশ মনে করেন, নির্বাচন থেকে দলীয় প্রার্থী মিলনের সরে যাওয়া উচিত। কারণ, তিনি নির্বাচনের মতো নির্বাচন করছেন না। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া যেভাবে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে ভোট চাইছেন তাতে জামানত তো থাকবে না, বরং লাঙলের মান সম্মানই যাবে।

নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর তুলনায় সাইফুদ্দিন মিলন প্রচার-গণসংযোগে অনেক পিছিয়ে আছে। দক্ষিণ সিটির অধিকাংশ এলাকায় এখনো তার পোস্টার পৌঁছেনি। দলের কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও রোববার পর্যন্ত নৌকার পোস্টার ছাড়া মিলনের কোনো পোস্টার ছিল না। জাপা নেতাদের অনুরোধের মুখে সোমবার তার পোস্টার সাঁটানো হয়। নেতাকর্মীদের তিনি আর্থিকভাবে কোনো সহযোগিতা করছেন না। এ কারণে মিলনের নির্বাচন বাদ দিয়ে দলের দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানার নেতাকর্মীরা অন্য দলের হয়ে এখন নির্বাচন করছেন।

মহানগর দক্ষিণের এক নেতা জানান, টাকা ছাড়া তো নির্বাচন হয় না। কেন্দ্র থেকে গণসংযোগের জন্য এক টাকাও দেয়া হয়নি, তারা কোনো খোঁজ খবরও নিচ্ছেন না। দলীয় প্রার্থীও নেতাকর্মীদের কোনো সহযোগিতা করছেন না। এ অবস্থায় নেতাকর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করে কীভাবে মিলনের গণসংযোগ করবেন? তারপরও দলের মান-সম্মান বাঁচাতে আমরা নেতাকর্মীরা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও সেক্রেটারি জহিরুল আলম রুবেলের আর্থিক সহায়তা নিয়ে যতটুকু পারছি মিলনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। এভাবে নির্বাচন হয় না বলেও জানান তিনি।


ঢাকা/নঈমুদ্দীন/সনি