ঢাকা, শনিবার, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বন্ড ও ডিবেঞ্চার খেলাপিদের তালিকা প্রস্তুত : ঋণ পাবে না

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৩ ৮:২৬:৫৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৩ ১:১২:০০ পিএম

আগামীতে বন্ড ও ডিবেঞ্চার খেলাপিরা যাতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে না পারে সে জন্য সুপারিশ করেছে দেশের বন্ড মার্কেট এবং শেয়ারবাজার উন্নয়নে গঠিত কমিটি।

এ জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে বন্ড ও ডিবেঞ্চার খেলাপিদের একটি তালিকা প্রস্তুতেরও সুপারিশ করেছে।

সূত্র জানায়, এই তালিকাটি একটি ডেটাবেজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে। এই ডেটাবেজে বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবেশ করতে পারবে। কোনো বন্ড ও ডিবেঞ্চারধারী যদি তাদের খেলাপির বিষয়টি গোপন রেখে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার চেষ্টা করে তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ডেটাবেজে সহজে প্রবেশ করে তা নিশ্চিত হতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ডেটাবেজটি বিএসইসিকে দিয়ে করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে প্রস্তাব দিয়েছে।

দেশের বন্ড মার্কেট এবং শেয়ারবাজার উন্নয়নে সরকার চলতি বছর এপ্রিল মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, বিএসইসি এবং আইডিআরএ’কে চিঠি দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

দেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও মূলধন বাজার উন্নয়নে গঠিত কমিটি থেকে যে ১৮টি সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মপরিধি সংশ্লিষ্ট সুপারিশ রয়েছে সাতটি। এই সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, কমিটির দেওয়া সুপারিশের মধ্যে আট নম্বর সুপারিশে বলা আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ব্যুরো অব ইনফরমেশন-যেখানে ঋণখেলাপিদের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়) ডেটাবেজে বন্ড খেলাপিদেরকেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত/শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। যাতে তারা নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে না পারে। বর্তমানে বন্ড ও  ডিবেঞ্চার খেলাপিরা কোনো বাধা ছাড়াই ব্যাংক ঋণ সুবিধা গ্রহণ করছে।

এই সুপারিশের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আইন, ১৯৭২ এর অধ্যায় ৪ এর ধারা ৪২(সি) মোতাবেক ক্রেডিট ইনফরমেশনের সংজ্ঞানুযায়ী করপোরেট বন্ড ও ডিবেঞ্চার বা অন্য কোনো বিনিয়োগের তথ্য সিআইবি ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। বিএসইসি যেহেতু করপোরেট বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু করার অনুমোদন দিয়ে থাকে সেহেতু বিএসইসি তত্ত্বাবধানেই বন্ড ও ডিবেঞ্চারের তথ্যসংবলিত ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। ডেটাবেজটি তৈরি সাপেক্ষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএসইসির ডেটাবেজ এক্সেস দেওয়া হলে বন্ড ও ডিবেঞ্চার খেলাপিরা নতুন করে যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে না পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। ’

তবে বন্ড ইস্যুকারীর বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ক্রেডিট রেকর্ড এবং ক্রেডিট পরিশোধের ইতিহাস সহজে যাচাই করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজে বিএসইসির দ্রুত প্রবেশের একটি সুপারিশ নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এর ধারা ৪৬(২)(৩) অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ব্যতীত অন্যকোনো সংস্থা/প্রতিষ্ঠানের হাছে সিআইবি-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই বিএসইসি’কে সিআইবি ডেটাবেজে এক্সেস দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সময়ে সময়ে বিএসইসির চাহিদা মোতাবেক পত্রের মাধ্যমে বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেকর্ড বর্তমানে নিয়মিতভাবে পাঠানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে আগামীতে যারা বন্ড ও ডিবেঞ্চার খেলাপি হবেন তারা যাতে খেলাপি অবস্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে না পারে এই জন্য সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেখা যাবে, আগামীতে যখন কোন কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য বন্ড ও ডিবেঞ্চার ছাড়বেন। জনগণ ওই সব বন্ড ও ডিবেঞ্চারে অর্থ বিনিয়োগ করবেন। কোন কারণে যদি ইস্যুকারী কোম্পানী জনগণকে বন্ডের বিপরীতে বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয় বা মূল টাকা ফেরত দিতে অপারগ হয় তখনই সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং তারা ব্যাংক থেকে ঋণও নিতে পারবে না।

 

ঢাকা/হাসনাত/জেনিস

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন