ঢাকা, রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ওয়ালটনে এনার্জি এফিশিয়েন্ট স্টার লেবেল রেফ্রিজারেটর বিষয়ে সেমিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৩ ২:৪৭:৫১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৩ ২:৪৭:৫১ পিএম
ওয়ালটনের আয়োজনে ‘সেমিনার অন মাস অ্যাওয়ারনেস ফর এনার্জি এফিশিয়েন্ট স্টার লেবেল রেফ্রিজারেটর’ এ অতিথিরা

রেফ্রিজারেটরের এনার্জি রেটিং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পণ্যটির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষমতা কতটুকু তা নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য ব্যবহার একদিকে যেমন খরচ কমায়, তেমনই নিশ্চিত করে পরিবেশের সুরক্ষা। তাই এনার্জি রেটিং দেখে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ কেনা উচিত।

‘সেমিনার অন মাস অ্যাওয়ারনেস ফর এনার্জি এফিশিয়েন্ট স্টার লেবেল রেফ্রিজারেটর’ এ এসব তথ্য জানানো হয়। সম্প্রতি রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে ওই সেমিনার হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (একিউএম) জিয়াউল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) পরিচালক (ফিজিক্যাল) শামীম আরা বেগম এবং উপ-পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ। ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক ইভা রিজওয়ানার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহজাদা সেলিম ও শরীফ হারুনুর রশীদ, অপারেটিভ ডিরেক্টর রবিউল আলম ভুঁইয়া, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক মোবিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর আনিস মল্লিকের উপস্থাপনায় সেমিনারে স্টার লেবেল রেফ্রিজারেটরের ওপর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন অপারেটিভ ডিরেক্টর প্রকৌশলী তৈৗফিক-উল-কাদের।

তিনি বলেন, রেফ্রিজারেটরে এনার্জি এফিশিয়েন্ট স্টার লেবেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর দ্বারা ফ্রিজটি কতটা বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, তা নির্দেশ করা থাকে। বাংলাদেশে ‘বিডিএস ১৮৫০:২০১২’ মানদণ্ড অনুযায়ী হাউজহোল্ড রেফ্রিজারেটরের এনার্জি রেটিং সনদ দিচ্ছে বিএসটিআই। ফ্রিজের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ওয়ালটনই সর্বোচ্চ এনার্জি রেটিং সনদ পেয়েছে।

তিনি জানান, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরে আর৬০০এ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরে ব্যবহৃত হচ্ছে ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসর। ওয়ালটনের দক্ষ আরঅ‌্যান্ডডি (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) টিম নিরলস গবেষণার মাধ্যমে সংযোজন করেছে বিভিন্ন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রযুক্তি। ফলে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

 

‘সেমিনার অন মাস অ্যাওয়ারনেস ফর এনার্জি এফিশিয়েন্ট স্টার লেবেল রেফ্রিজারেটর’ এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (একিউএম) জিয়াউল হক

 

তৌফিক-উল-কাদের জানান, খুব শিগগিরই ওয়ালটন বাজারে ছাড়ছে আইওটি বেজড স্মার্ট ফ্রিজ। এর ফলে গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন ও মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কত হচ্ছে, ফ্রিজের অভ্যন্তরের তাপমাত্রা কত, কী পরিমাণ খাবার মজুদ আছে ইত্যাদি স্মার্টফোনেই জানতে পারবেন।

প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন, কোনো ইলেকট্রনিক্স পণ্য কতটুকু বিদ্যুৎসাশ্রয়ী তা প্রমাণের জন্য সেই পণ্যের স্টার রেটিং করা হয়। এক্ষেত্রে, বিএসটিআই পণ্যটির বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষমতার ওপর ১ থেকে ৫ পর্যন্ত স্টার রেটিং দিয়ে থাকে। যে পণ্যের স্টার রেটিং যত বেশি, সেই পণ্য তত বেশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী।

শামীম আরা বেগম বলেন, আমরা বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য তৈরি করছি। কিন্তু ব্যবহারকারীরা যদি সচেতন না হন, তবে তা কোনো উপকারে আসবে না।

তিনি বলেন, ফ্রিজের মতো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের স্টার রেটিং করা খুবই জরুরি। ফ্রিজের গায়ে এনার্জি রেটিং থাকলে গ্রাহকরা সহজেই বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্যটি বেছে নিতে পারবেন।

অধ‌্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, ওয়ালটন আমাদের দেশে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। ওয়ালটনের আরঅ‌্যান্ডডি (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) বিভাগ প্রশংসার যোগ্য কাজ করছে। যেকোনো পণ্য ক্রয় ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা তিনটি বিষয় দেখি। সেগুলো হলো- ইকোনমিক, কমফোর্টেবল এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি। যে পণ্য দামে যত সাশ্রয়ী এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে, সেই পণ্য তত বেশি ইকোনমিক। এক্ষেত্রে ওয়ালটন পাইওনিয়ার। তারাই কম দামে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য উৎপাদনে পথ দেখিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউল হক বলেন, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ওয়ালটন অত্যন্ত আন্তরিক। রেফ্রিজারেটর এবং কম্প্রেসরে এইচএফসি ফেজ আউটের লক্ষ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং প্রথম প্রজেক্ট ওয়ালটনে বাস্তবায়ন হচ্ছে। যা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। আগামী বছরের জুন-জুলাই মাসে এয়ার কন্ডিশনার কারখানায় আরেকটি প্রকল্প শুরু হবে। এর ফলে আগামী তিন-চার বছরে প্রায় ১৮ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ রোধ হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি যে ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্রোডাক্ট তৈরি করছে, সেটা ওয়ালটনে না গেলে বোঝা যাবে না। তাদের পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইভা রিজওয়ানা বলেন, পৃথিবীর উষ্ণায়ন বৃদ্ধি রোধে করণীয় সকল কার্যক্রমের মধ্যে এনার্জি এফিসিয়েন্সি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এনার্জি কনজাম্পশনের স্টার রেটিং ফর্মূলা কেমন হবে, তা নির্ভর করে কোন দেশে, কোন পরিবেশে কী রকমভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। তাই আমার অনুরোধ থাকবে বাংলাদেশে পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং ব্যবহারের ভিত্তিতেই যেন এনার্জি রেটিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ফ্রিজে এনার্জি রেটিং নিয়ে ক্রেতাদের সচেতন হওয়া উচিত। কেননা, ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবারের সঙ্গে পরিবারের স্বাস্থ‌্য সুরক্ষার পাশাপাশি মাসিক বিদ্যুৎ বিলের খরচও জড়িত। প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে ওয়ালটন ফ্রিজে এমন প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে যা খাবারের গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি গ্রাহকের বিদ্যুৎ খরচও সাশ্রয় করে। এক্ষেত্রে ফ্রিজ কেনার সময় গ্রাহকদের এনার্জি স্টার রেটিংকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশে তৈরি পণ্যের পাশাপাশি আমদানিকৃত ফ্রিজে বাধ্যতামূলক এনার্জি লেবেল যেন বাস্তবায়ন করা হয়, সমাপনী বক্তব্যে ইভা রিজওয়ানা এ সুপারিশ করেন।



ঢাকা/অগাস্টিন সুজন/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন