ঢাকা, রবিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হলো ‘বাংলা বন্ড’

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১১ ৭:৪৭:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১১ ৯:৫৮:১০ পিএম

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম ‘টাকা ডিনমিনেটেড বন্ড’, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘বাংলা বন্ড’। এই বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সমান) প্রাথমিকভাবে বাজার থেকে তোলা হবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) উদ্যোগে সোমবার থেকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বন্ড চালু করা হয়েছে।

আইএফসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়ার জন্য এই বন্ড চালু করা হয়েছে। বন্ডের অর্থ ডলার থেকে টাকায় রূপান্তরের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে আইএফসি।

এরই অংশ হিসেবে চালুকৃত বন্ডের মাধ্যমে গঠিত এ তহবিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী এবং অন্যতম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী  ‘প্রাণ গ্রুপ’কে দেয়া হবে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোনো পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ আজ বাংলা বন্ডকে তাদের মূল বাজারে অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মেয়াদ হবে ৩ বছর। পরে তা বাড়িয়ে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর করা হতে পারে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রথমে তিন বছর মেয়াদী রুপি বন্ড ছাড়া হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। প্রবাসী ভারতীয়রা এই বন্ডে বিপুল হারে বিনিয়োগ করেছেন। প্রবাসে বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বাংলা বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে এ ধরনের বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনার কথা বলে আসছিল। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকে আইএফসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকার তখনই এ বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছিল।

এরপর আইএফসি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অর্থ মন্ত্রণালয় একই বছর ৪ অক্টোবর এক চিঠিতে ‘বাংলা বন্ড’ ছাড়ার অনুমোদনের বিষয়টি জানায়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যাচাই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে আইএফসির ওই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

ওই কমিটির কাছে প্রাণ গ্রুপের পক্ষে এ বন্ড ছাড়ার প্রস্তাব করে আইএফসি। চলতি বছরের এপ্রিলে আইএফসির প্রস্তাবে সাড়া দেয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এই বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, সেখান থেকে প্রাণ অ‌্যাগ্রো ও নাটোর অ‌্যাগ্রো ৮০ কোটি টাকা করে ঋণ পাবে। সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ঋণ সমান কিস্তিতে তিন ও পাঁচ বছরে তাদের পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ‘টাকা বন্ড’ ছাড়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই বন্ডের মাধ্যমে যে অর্থ উত্তোলন করা হবে তা আইএফসির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে।

এদিকে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বাংলা বন্ড ছাড়া উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি আলোচনা সভা হওয়ার কথা জানিয়েছে আইএফসি। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্প তুলে ধরাই ছিল আইএফসি ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লন্ডন স্টক মার্কেটে বাংলা বন্ড চালু করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলা বন্ড বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করবে। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর এই বন্ডটি আত্মপ্রকাশ করল। আশা করছি, দেশের বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়নে এই বন্ড ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এই বন্ডে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।

বাংলা বন্ড সম্পর্কে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির সিইও এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট, এলএসইজির পরিচালক নিখিল রাথি বলেন, বাংলা বন্ড ইস্যু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি টাকার গুরুত্ব বাড়বে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

আইএফআইসির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিনা স্টোয়েলকোভিচ বলেন, বাংলা বন্ড ট্রিপল রেটেড আইএফসি ইস্যু করছে। আমরা আশা করছি, এই বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহিত তহবিল বাংলাদেশের কৃষিজাত এবং উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আমরা আনন্দ অনুভব করছি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে।

আইএফসির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ট্রেজারার জন গ্যান্ডলফো বলেন, এটা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের নতুন উদ্ভাবন এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাইলফলক হয়ে থাকবে।


ঢাকা/হাসনাত/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন