ঢাকা, সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মেলায় রেকর্ড ২৬১৩ কোটি টাকা কর আদায়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২০ ৯:৪৭:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২১ ১০:৪৮:১৩ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলায় রেকর্ড মোট দুই হাজার ৬১৩ কোটি  ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৬৭টাকা কর আদায় হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বেশি।

২০১৮ সালে মেলায় কর আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকা।

দশমবারের মতো আয়োজিত আয়কর মেলা থেকে সেবা গ্রহণ করেছেন রেকর্ড ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৬ জন করদাতা। আর রিটার্ন দাখিল হয়েছে ৬ লাখ ৫৫হাজার ৯৫ এবং নতুন ই-টিআইন নিবন্ধন নিয়েছেন ৩২ হাজার ৯৬১ জন করদাতা।

বুধবার আয়কর মেলার শেষ দিনে মোট ৫৯৭ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৮ টাকা কর আদায় হয়েছে। ৭ম দিনে সেবা গ্রহণ করেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৫জন করদাতা। আর রিটার্ন দাখিল হয়েছে ১লাখ ১৫ হাজার ১৮৫ এবং নতুন ই-টিআইন নিবন্ধন নিয়েছেন ৬ হাজার ১৩৯ জন করদাতা।

এর আগে ষষ্ঠ দিনে ৩৫৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৪ টাকা ও পঞ্চম দিনে ৩১১ কোটি ৮৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৪ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। মেলার চতুর্থ দিনে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ টাকা ও আয়কর মেলার তৃতীয় দিনে ২৬২ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ২৫১ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। দ্বিতীয় দিনে ৪৭৯ কোটি এক লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। আর মেলার প্রথম দিনে ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৫ টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করে এনবিআর।

মেলার শেষদিন বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব সকাল থেকেই করদাতারা আসতে শুরু করে। এক পর্যায় করদাতাদের লম্বা লাইন মেলা প্রাঙ্গণের রাস্তা পর্যন্ত চলে আসে। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল রিটার্ন বুথগুলোতে। এদিন সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা চলে।

আয়কর মেলার শেষদিনে ব্যাংক ও বিমার ২১টি প্রতিষ্ঠান ২৯৩ কোটি টাকার পে-অর্ডার জমা দেয়।

মেলা প্রাঙ্গনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার হাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা করের ওই অর্থ তুলে দেন। প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহৎ করদাতা ইউনিটের আওতাধীন।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেলার মতই হয়রানিমুক্তভাবে এনবিআরের সকল কর অঞ্চলে সেবা দেওয়া হবে। এসময় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন, মেলার কমিটির প্রধান ও এনবিআরের সদস্য কালি পদ হালদারসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আয়কর মেলায় স্বতস্ফূর্তভাবে করদাতারা এসে কর জমা দিচ্ছেন। আয়কর মেলাকে তারা নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, কর অঞ্চলেও তারা নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ততার সাথে কর দিতে পারবেন। আমাদের লোকজন তাদেরকে কোনো প্রকার হয়রানি করবে না। যদি কেউ হয়রানি করতে চায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

৩০ নভেম্বর মধ্যে রিটার্ন দাখিলের অনুরোধ জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়করের রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তারপর যারা দেবেন তাদেরকে জরিমানা দিতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি হচ্ছে। আগামি বছরগুলোতে আরো এই গ্রোথ হবে। তার জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও ট্যাক্স জিডিপি রেশিও অনেকগুণ বাড়াতে হবে। সরকারের এসডিজি গোল অর্জনে অর্থাৎ ২০৩০ সালে বাস্তবায়ন সময়ে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও ২০ শতাংশে উন্নিত করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে আমরা কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির আওতায় জরিপ কাজ শুরু করেছি। অফিসগুলো সম্প্রসারণ শুরু হচ্ছে। এই কর প্রদাণে উদ্বুদ্ধ করতে আয়কর মেলা করেছি। ফলে শত কষ্ট করে মেলায় লোক উপস্থিত হয়ে কর দিচ্ছেন। সেবাও নিচ্ছেন।’

‘কর প্রদানে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’ - এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন হয় সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। এ বছর দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি স্পটে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার পরিধি গতবছরের মেলার চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়।

মেলায় আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইন গ্রহণ, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং, ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা ছিল। মেলার বিশেষ আকষর্ণ ছিল মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে সম্মানিত করদাতাগণ রকেট, নগদ, বিকাশ ও প্রযোজ্য শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আয়কর জমা দেওয়া।

ঢাকার মেলায় করদাতাদের সুবিধার্থে ৫২টি আয়কর রিটার্ন বুথ, ৫৩টি হেল্প ডেস্ক, ব্যাংক বুথ (সোনালী ব্যাংক ১৩টি, জনতা ব্যাংক পাঁচটি এবং বেসিক ব্যাংক চারটি), ই-পেমেন্টের জন্য তিনটি, ই-ফাইলিংয়ের জন্য দুটি বুথ পৃথক ছিল।


ঢাকা/এম এ রহমান/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন