ঢাকা, শুক্রবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

প্লেনে চড়ে এলো পেঁয়াজ, আরো আসছে

বিশেষ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২২ ৪:৫৮:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৩ ৮:৪১:৫৯ এএম

অনেক প্রতীক্ষা আরা কাঠখড়ি পোড়ানোর পর দীর্ঘপথ পেরিয়ে শুক্রবার তুরস্ক থেকে বিমানে ১১ টন ৪৫৩ কেজি পেঁয়াজ ঢাকায় এসেছে। মেসার্স তাজ ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানে এই পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

শুক্রবার ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে পেঁয়াজ নিয়ে উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ঢাকা কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে ঢাকার মাটিতে পেঁয়াজ নিয়ে একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে।  পেঁয়াজের চালানটির দ্রুত শুল্কায়নসহ অন্যান্য কাজ শেষে করে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে।

হঠাৎ করে দেশে পেঁয়াজ সংকট দেখা দিলে সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে পেঁয়াজ আমদানিতে উৎসাহিত করতে নানা সুযোগ সুবিধা ঘেষণা করে।  এরই অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপসহ বেশকিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয় বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। যদিও বাণিজ্য সচিব গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন তুরস্ক থেকে সৌদি আরবের একটি যাত্রীবাহী বিমানে এ পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। কিন্তু মঙ্গলবার, বুধবার পেরিয়ে পেঁয়াজ বৃস্পতিবার রাতে ঢাকা এসে পৌঁছে।

এর আগে বুধবার পাকিস্তান থেকে অন্য একটি গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজ ঢাকা এসে পৌঁছায় এবং তা যথারীতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। সে পেঁয়াজ ইতোমধ্যে বাজারে ঢুকেছে। ফলে এরই মধ্যে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা করছে পাইপ লাইনে থাকা পেঁয়াজ দেশে আসা শুরু হয়েছে। খুব শিগগির পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, পেঁয়াজ অতিদ্রুত ছাড় করার সব প্রস্তুতি আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। বিমানবন্দরে কাস্টমস এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য নিয়ম দ্রুত সম্পন্ন করে পেঁয়াজ দেশর বিভিন্ন পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে এবং আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি করছে।

এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।  ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছুদিন আগে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে দেয়।  গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়।  সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি করেছে।  ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে।

ইতিমধ্যে আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়।  স্থল ও নৌ বন্দরগুলোতে আমদানি করা পেঁয়াজ দ্রুত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আকাশপথে পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দর থেকে পেঁয়াজের প্রথম চালান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে।  একটি বেসরকারি সিল্ক্ক সংস্থার পণ্য পরিবহনকারী উড়োজাহাজে এই চালান আসে। ৮১ হাজার ৫০০ টনের এ চালানটির আমদানিকারক ঢাকার শাদ এন্টারপ্রাইজ।  চালানটি রাতেই খালাস হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শ্যামবাজারের বিভিন্ন আড়তে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়। শাদ এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও এস আলম গ্রুপের ৭ টন পেঁয়াজ বুধবার রাতে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানে ঢাকায় আসে। শুক্রবার তৃতীয় চালান আসবে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানে। পেঁয়াজ আমদানির জন্য ইতিমধ্যে ১০টি কার্গো বিমান ঠিক করা হয়েছে। এর প্রতিটিতে ১০৫ থেকে ১১০ টন পেঁয়াজ আসবে।  শনিবার কায়রো এয়ারের একটি কার্গো বিমানে আরো ৫৫ টন পেঁয়াজ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

বৃহস্পতিবার এস আলম গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণে এবং বেশি দামের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে পেঁয়াজ আনছে মেঘনা, সিটি ও এস আলম গ্রুপ।  ৫৮ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করছে এস আলম গ্রুপ।  গত বুধবার রাত থেকে উড়োজাহাজে এই পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এস আলম গ্রুপ জানায়, সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে মিসর ও তুরস্ক থেকে বাল্ক্ক ও কনটেইনারের মাধ্যমে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় এস আলম গ্রুপ। সে অনুযায়ী ৫৮ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়। তবে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আসতে বেশি সময় লাগবে।  তাই উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আরো পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

মেঘনা গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তুরস্ক থেকে শুক্রবার টার্কিশ এয়ারলাইন্সে তাদের প্রথম চালান ঢাকায় আসবে। এর পরে আরো কয়েকটি উড়োজাহাজে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকবে।  এছাড়া মেঘনা গ্রুপের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ সমুদ্রপথে জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরে ১ ডিসেম্বর পৌঁছবে।

আকাশপথে পেঁয়াজের চালান আনার জন্য উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার ৭ টনের অনুমতি নেয়া হয়েছে।  শাদ এন্টারপ্রাইজ ছাড়াও এস আলম গ্রুপ ১ হাজার ৯২৫ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে।

পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিক্রি বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।  রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থা আগের চেয়ে ১৫টি স্থান বাড়িয়ে এখন রাজধানীতে ৫০টি স্থানে পেঁয়াজ বিক্রি করছে।  এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম জোরদার করেছে।  সাধারণ মানুষের জন্য এই পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্রপথে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে।  ইতিমধ্যে আকাশ ও সমুদ্রপথে পেঁয়াজের চালানগুলো দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। সরকার পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির এ ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশি পেঁয়াজ (পাতাসহ) পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে এসেছে।  পেঁয়াজের দাম দ্রুতগতিতে কমছে।  এখন পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক হচ্ছে।


ঢাকা/হাসনাত/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন