ঢাকা     রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৫ ১৪২৭ ||  ০১ সফর ১৪৪২

তৈরি পোশাক খাতে অসম প্রতিযোগিতা, বিদেশ যাচ্ছেন চার কর্মকর্তা

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৯, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
তৈরি পোশাক খাতে অসম প্রতিযোগিতা, বিদেশ যাচ্ছেন চার কর্মকর্তা

তৈরি পোশাক খাতে প্রণোদনার অবস্থা দেখতে সরকারি চার কর্মকর্তা বিদেশ যাচ্ছেন। যুগ্ম-সচিব ও উপ-সচিব পর্যায়ের এই চার কর্মকর্তা ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড সফর করবেন। তারা এই চার দেশ সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখবেন এসব দেশে তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে কী ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, সরকার দেশের অন্যতম বৈদেশিক আয়ের খাত তৈরি পোশাক খাতে আরো প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চার সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিরা দেশগুলো ভ্রমণ  করবেন। প্রতিনিধিদলটি তাদের সফর শেষে ১৫ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। তাদের প্রতিবেদনে ওপর ভিত্তি করে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে নতুন করে সহায়তা দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছেন, তৈরি পোশাক খাতের রফতানি ইতিমধ্যে কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক মালিক সমিতি (বিজেএমইএ) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ শিল্পকে অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে তাদের যেন আরো বেশি করে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৈঠক করেছেন।

সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প মালিকরা প্রায়ই এ খাতের অন্যন্য প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভারত ও ভিয়েতমান তাদের তৈরি পোশাক খাত অনেক ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পগুলোকে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বিষয়টি নিয়ে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলেরর  বৈঠকে সিদ্ধান্তও হয়েছে। এই কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশের দূতাবাসের সহায়তা ওসব দেশগুলো তৈরি পোশাক খাতে কী ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে তার তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই তথ্যগুলো তারা প্রতিবেদন আকারে আমাদের কাছে জমা দেবেন। সেগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে দেশের তৈরি পোশাক খাতে কী ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই চার কর্মকর্তা আগামী সপ্তাহে চারটি দেশ সফর করবেন। আশা করা যায়, এ মাসের শেষদিকে তাদের কাছ থেকে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, টানা চার মাস ধারাবাহিকভাবে কমছে পোশাক রফতানি। নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, অক্টোবরে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং আগস্ট মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে পোশাক খাতের রফতানি আয়।

এই চিত্র অনেকটা সঙ্কিত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু সুলতার সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছর শেষে আয়ের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়েও কমতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই অর্থমন্ত্রীকে পাশে চান তিনি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী গত ২৮ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তাফা কামালকে এসব কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বাণিজ্যমন্ত্রী পোশাক খাতের এই পরিস্থিতির জন্য ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার শক্তিশালী অবস্থানকে দায়ী করেন। এজন্য তিনি শুধু পোশাক খাতের জন্য ডলারের বিপরীতে পাঁচ টাকা অবমূল্যায়নের সুপারিশ করেছেন। এছাড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাক খাতের জন্য একটি কর্মসূচি হাতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

পোশাক খাতের জন্য ‘আরএমজি ফরেন কারেন্সি রিয়েলাইজেশন প্রোগ্রাম’ নামে একটি কর্মসূচি চালুর পরামর্শ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে ৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। তাতে এ খাতের রফতানি আয় দাঁড়াবে ৩ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। এ বছর যার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। আর এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য গত রোববার বিজেএমই সভাপতি রুবানা হককে নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী অনেকটা হঠাৎ করে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে দেখা করেন। তারা পোশাক খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে এ খাতের জন্য আরো প্রণোদনা দেয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, তৈরি পোশাক খাতেই সরকারের পক্ষ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ইউরোপ, আমেরিকা এবং কানাডায় তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে গার্মেন্ট সেক্টরে চার ধরনের নগদ প্রণোদনা দেয়া হয়ে থাকে। রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা বাবদ ৪ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়। বস্ত্র খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা (প্রচলিত নিয়মের) বাবদ ৪ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও নতুন পণ্য/নতুন বাজার (বস্ত্র খাত) সম্প্রসারণ সহায়তা(আমেরিকা/কানাডা/ইইউ ছাড়া) বাবদও ৪ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ইউরো জোনে বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকদের জন্য (বিদ্যমান ৪ শতাংশের অতিরিক্ত) ২ শতাংশ দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ শতাংশ যোগ হওয়ায় এ খাতে নগদ প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৫ শতাংশে। এর ফলে এ খাতে সরকারের ব্যয় আরো এক দফা বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের হিসাব মতে, ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনা নতুন করে যোগ হওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটে প্রণোদনা এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা।


ঢাকা/হাসনাত/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়