ঢাকা, রবিবার, ১৪ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৭ ১০:৪০:২৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ১০:৪০:২৭ পিএম

এখন থেকে প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি তহবিলে ফেরত দিতে হবে। এ অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হরা হবে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে ৬১টি সংস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা আইন, ২০২০’-এ একথা বলা হয়েছে। জাতীয় সংসদে পাসের পর বহুল আলোচিত আইনটি সম্প্রতি গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।

আইনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সময়াবদ্ধ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাহাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি উন্নত দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বায়ত্বশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানশিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের তহবিলে জমাকৃত উদ্বৃত্ত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারের নিমিত্ত বিধান প্রণয়নকল্পে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

আইনে বলা হয়েছে, ‘উদ্বৃত্ত অর্থ’-এর অর্থ তপশিলভুক্ত কোনো সংস্থার বাৎসরিক পরিচালনা ব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাৎসরিক ব্যয় এবং বাৎসরিক পরিচালনা ব্যয়ের ২৫ শতাংশের অতিরিক্ত অর্থ।

আইন অনুযায়ী, তপশিলভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ অর্থ যা তাদের বাৎসরিক পরিচালন ব্যয়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের সম-পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত হিসাবে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে।

আইনে বলা হয়েছে, যেহেতু সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান প্রয়োজন; এবং যেহেতু উক্তরূপ সংস্থাসমূহ নিজস্ব তহবিল হতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পরও তাদের তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে এবং সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থের মালিকানা প্রকৃতপক্ষে জনগণের; সেই কারণে উক্ত অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা সমীচীন।

প্রণীত আইনে ৬১টি সংস্থাকে চিহ্নিত বা তপশিলভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- জাতীয় কারিকুলাম এবং টেক্সটবুক বোর্ড; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড; বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড;

উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর;

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি; পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ; বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ; বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল;

জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন; বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ সেরিকালচার বোর্ড;

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো; বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ; বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী; বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন; বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান; বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান; বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান;

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন; পেট্রোবাংলা; বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন; ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ; বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন; বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন; বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন; বাংলাদেশ চা বোর্ড; বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন; বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন; বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ;

চট্টগ্রাম ওয়াসা; ঢাকা ওয়াসা; বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড; পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড; চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ; মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ; বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন; বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন।

সূত্র জানায়, এতদিন এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুল অংকের উদ্বৃত্ত তহবিল রাখা হতো। সেসব তহবিল অনেক ক্ষেত্রে সংস্থাগুলো নিজেদের মত খরচ করতো। নতুন এ আইন অনুযায়ী উদ্বৃত্ত ওই তহবিল থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ সরকারি তহবিলে ফেরত দিতে হবে।


ঢাকা/সনি